হাসিনা ও নিজামীসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট

গত বছরের ২৮ অক্টোবর ১৪ দল ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কর্মীদের হতাহতের ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় শিবির কর্মী হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ ১৪ দলের ৪৬ জন নেতা-কর্মী এবং ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা হত্যার দায়ে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদসহ ১০ জন জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। শিবির কর্মী হত্যার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে। অন্যদিকে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাসেল আহমেদ হত্যার বিরুদ্ধে ওয়ার্কার্স পার্টি হত্যা মামলা দায়ের করেছিল।

১৪ দলের আরো যেসব নেতা-কর্মীর নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে আছেনঃ মোহাম্মদ নাসিম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, এডভোকেট সাহারা খাতুন, হাজী মোহাম্মদ সেলিম, ডাঃ এইচবিএম ইকবাল, জাহাঙ্গীর কবীর নানক প্রমুখ। জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, মকবুল আহমেদ, এটিএম আজহারুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, এটিএম সিরাজুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, জাহিদ হোসেন ওরফে জাহিদুর রহমান ও শিশির মনিরের নামও চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পল্টন মোড়ে লালবাগ থেকে হাজী সেলিমের নেতৃত্বে মিছিল অতিক্রম করার সময় শুরু হয় সংঘর্ষ। ১৪ দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, জামায়াতের ক্যাডাররা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে তাদের সমাবেশ থেকে ১৪ দলের মিছিলে হামলা চালায়। জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে জামায়াতের সমাবেশে হামলা চালায়। লগি, বৈঠা দিয়ে নির্মমভাবে প্রহার করে শিবির কর্মী ৪ জনকে হত্যা করা হয়। ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাসেল সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সেখানে নিহত হয়। সংঘর্ষে শত শত রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়। এই ঘটনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে পল্টন থানায় শিবির কর্মী হত্যা মামলা এবং ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে রাসেল হত্যা মামলা একই থানায় দায়ের করা হয়। এই দু’টি মামলার তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপর ন্যস্ত করা হয়। তদন্তশেষে ডিবির কর্মকর্তারা গতকাল ২টি হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করে।

আমাদের কোর্ট রিপোর্টার জানান, ২৮ অক্টোবর রাসেল আহম্মেদ খানের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মোঃ কামারুজ্জামান, এটিএম আজহারুল ইসলামসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগরের সম্পাদক কামরুল আহসান বাদি হয়ে ৩০ অক্টোবর এ মামলাটি দায়ের করেন। আগামী ২২ এপ্রিল দাখিলকৃত চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শুনানি করার জন্য ম্যাজিষ্ট্রেট দিন ধার্য করেছেন। চার্জশিটে অভিযুক্ত অন্য আসামীরা হচ্ছেনঃ মকবুল আহমেদ, রফিকুল ইসলাম, এটিএম সিরাজুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম মাসুম ও জাহিদ হোসেন।

রাজধানীর পল্টন মোড়ে গত ২৮ অক্টোবর ৬ জন জামায়াত ও শিবির কর্মীকে লগি, বৈঠা দিয়ে হত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল জলিল, মোঃ নাসিম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেননসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। পল্টন থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে দন্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০২/৩০৭/১০৯ ও ১১৪ ধারায় গতকাল বুধবার ঢাকা সিএমএম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিট গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য ম্যাজিষ্ট্রেট মামুন আল রশিদ আগামী ২২ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন। ২৮ অক্টোবরের সেই হত্যাযজ্ঞের সাথে চার্জশিটে অভিযুক্ত অন্যরা হলেনণ্ড সাহারা খাতুন, হাজী সেলিম, ডাঃ এইচবিএম ইকবাল, আব্দুস সালাম খান সেলিম, সবুজ, আলী, মনা, রতন, আবুল, নাজির আহমেদ বাবু, জাকির হোসেন, শফিকুল ইসলাম, সালাউদ্দিন খোকন, সুলতান মিয়া, আবুল কাশেম, আলমগীর হোসেন, নওশের আলী, আব্দুল লতিফ খ্যাপা, মোঃ জাকির হোসেন, সোহেল শাহরিয়ার ওরফে শটগান সোহেল, শাহাবুদ্দিন কিরণ, কাঙ্গালী জাহাঙ্গীর, আশরাফ হোসেন তালুকদার, শাহীন লতিফ টিটু, ওমর ফারুক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সিদ্দিক নাজমুল আযম, রাসেল, মজিবর রহমান মইজ্জা, বেলায়েত হোসেন, আবু সাঈদ, বশির আহমেদ, আব্দুল মালেক কিরণ, শাহরিয়ার, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে খাকী জাহাঙ্গীর, মাহফুজুল হায়দার রোটন, শেখ মোস্তাইন বিল্লাহ, সাইফুল ইসলাম মুকুল, রায়মোহন শীশ ও সুমন।

গত ২৮ অক্টোবর অভিযুক্ত আসামীদের দ্বারা নিহত ব্যক্তিরা হলেনণ্ড মোজাহিদুল ইসলাম, মোঃ জসিম উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া শিপন, ফয়সাল, হাবিবুর রহমান ও মনির হোসেন। এরা সকলেই জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী। সেদিনের সে ঘটনায় নিহতদের বিচার চেয়ে ঘটনার পরদিন ২৯ অক্টোবর পল্টন থানা জামায়াতের আমীর এটিএম সিরাজুল হক বাদি হয়ে পল্টন থানায় ৬১ নম্বর মামলাটি দায়ের করেন।

বিষয়টি আইনগতভাবে

মোকাবেলা করবঃ জলিল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৪ দলের ৪৬ জন নেতা-কর্মীর নামে শিবির কর্মী হত্যা মামলায় চার্জশিট দাখিলের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুল জলিলের সঙ্গে গতকাল রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, বিষয়টি আমরা আইনগতভাবে মোকাবেলা করবো। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-04-12

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: