খালেদা-হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত-ভারতীয় এনডিটিভি’র খবর

চতুর্থ মাসে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশের জরুরি অবস্থা। সেই সাথে দেশটিকে ১৫ বছর শাসন করা দুই মহিলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তায় পতিত হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ঢাকায় প্রায় গৃহবন্দী। তাকে দেশত্যাগের জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সফররত শেখ হাসিনা চাচ্ছেন সেখানেই থেকে যেতে। এমনকি বিএনপি ও আওয়ামী লীগ ভাবছে, দুই মহিলাকে বাদ দেয়া ভালো হবে কি না। ভারতের এনডিটিভি এ কথা প্রচার করেছে। গত সপ্তাহে চাঁদাবাজি ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর হাসিনা মামলা মোকাবেলা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকা ফেরার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু তার আসার সম্ভাব্য সময় ইতোমধ্যে ১৪ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিলে পরিবর্তন করা হয়েছে। আসলে কেউ জানেন না, তিনি কবে ফিরবেন।
খালেদা জিয়া প্রায় গৃহবন্দী। তার পুত্র তারেক রহমান দুর্নীতির দায়ে কারাগারে। তিনি দেশ ছাড়ার জন্য চাপের মধ্যে আছেন। তিনি বলেছেন, দেশের বাইরে যাবেন না। কেউ নিশ্চিত নন, তার না যাওয়ার উপায় আছে কি না অথবা এ ব্যাপারে তার পছন্দে কাজ হবে কি না।
বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাথে কথা বললে আপনার সন্দেহ থাকবে না, তারা মনে করেন- দুই মহিলা এখন কেবলই ইতিহাস।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন বলেছেন, আগ্রাসনের রাজনীতি, ধ্বংসের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনাশের রাজনীতি থেকে দেশকে যদি রক্ষা করতে চান, গণতন্ত্র ও সুশাসনের প্রতি আমাদের যদি মায়া থাকে, তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিকে আগের মতো চলতে দেয়া উচিত হবে না।
শুধু সরকারি তরফ থেকে নয়, নিজ দলের লোকেরাই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে দুই নেত্রীকে বাদ দিয়ে রাজনীতি করতে চাচ্ছেন।
দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন বলেছেন, পর্দার আড়ালে দুই দলের সিনিয়র নেতারাই সরকারকে বলছেন, আপনারা যদি গণতন্ত্রকে কলুষমুক্ত করতে চান, নারী নেতৃত্বের পেছনে তা হবে না।
অধিকাংশ লোকই মনে করেন, পচনটা ভেতর থেকে শুরু হয়েছে। দুই দলই বংশানুক্রমিক শাসনের ভারে আক্রান্ত। আওয়ামী লীগের হাসিনা হচ্ছেন বঙ্গবনধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, আর বিএনপি’র খালেদা জিয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের বিধবা স্ত্রী।
ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, রাজনৈতিক দল দুটির অভ্যন্তরেই গণতন্ত্র নেই। দলীয় প্রধানরা কঠোর স্বৈরশাসকের মতো। তারা যা চান, তাই হয়। তাদের পদে কখনো নির্বাচন হয় না। নিম্নশ্রেণীর নেতারা সবসময় তাদের খেয়ালখুশি মতো চলেন। সুতরাং পরিবর্তন প্রয়োজন। বংশানুক্রমিক শাসনের অবশ্যই পরিবর্তন হতে হবে।
এখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ। বিএনপি আওয়ামী লীগ দুই দলের কার্যালয়ই তালাবদ্ধ। এগুলো যদি আবার কখনো খোলা হয়, সম্ভবত তত দিনে দলগুলোতে নেতৃত্বের মৌলিক পরিবর্তন এসে যাবে।
শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ১৫ বছর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু নতুন প্রশাসন তাদের দেশ থেকে বিদায় না করলেও রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে বিদায় করতে সঙ্কল্পবদ্ধ।
দু্‌ই মহিলা আগের অবস্থানে ফিরে আসতে পারবেন কি না, সময়ই তা বলবে। তবে, এখন যা দেখা যাচ্ছে, মাতৃভূমি বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনধকারাচ্ছন্ন। Source:দৈনিক নয়া দিগন্ত
Date:2007-04-16

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: