শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা হতে পারে না : দুর্নীতির অভিযোগ দুদক খতিয়ে দেখবে : আইন উপদেষ্টা

আইন ও তথ্য উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেছেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটা অদ্ভুত মামলা করা হয়েছে। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ ধরনের চাঁদাবাজির মামলা হতে পারে না, দুর্নীতির মামলা হতে পারে। তাই শেখ হাসিনার দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশন খতিয়ে দেখবে। দুদকের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে তিনি জামিন পাবেন না। তবে মামলা হলেই গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে ব্রিটিশের তৈরি করা আইন সংস্কার করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তা না হলে ব্যক্তিগত ও সরকারের দায়ের করা মামলার মধ্যে পার্থক্য থেকে যাবে। শনিবার বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপ অনুষ্ঠানে দর্শকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সন্ধ্যায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিবিসির সাপ্তাহিক এই আয়োজন সংলাপ অনুষ্ঠানের ২৬তম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন ও তথ্য উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিম ও নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবির। তারা দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন বিবিসি বাংলা সার্ভিসের প্রযোজক কামাল আহমেদ।

আইন উপদেষ্টা বলেন, সরকার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার অভিযোগ টাস্কফোর্সে যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান- নিয়েছে। সত্যতা পেলে বিচার করা হবে। তিনি বলেন, আইন সবার জন্য, এর ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কে কার স্ত্রী, কার মেয়ে- সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার আগে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনের চেয়ে ব্যক্তি কখনোই বড় নয়। দুর্নীতি, কালোটাকা ও পেশিশক্তিমুক্ত অবাধ নির্বাচন সময়মতো করা তার সরকারের গণতন্ত্র ও শাসনতান্ত্রিক দায়িত্ব। তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন সংস্কার করেছেন। কালো টাকা ও পেশিশক্তিধারীরা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, সে জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন- যেই হোক না কেন, দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে না। কোন দলকে কিংবা কোন দুর্বৃত্তায়ন সরকারকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য তারা আসেননি। যত দ্রুত সম্ভব সৎ ও যোগ্য মানুষের সমন্বয়ে সরকার গঠন করা হবে। আর এ লক্ষ্যেই বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, তারা ‘অ্যাপ্লিকেশন’ করে ক্ষমতায় আসেননি। একটা ‘সিভিল ওয়ার সিচুয়েশনে’ তাদের নিয়ে আসা হয়েছে। তারপরও তারা মনে করেন, ক্ষমতাসীন সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলেও জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা রয়েছে।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক। এই মামলার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এ ধরনের মামলার এজাহার যে পুলিশ কর্মকর্তা গ্রহণ করেছেন, তার বিষয়টি আরও একটু খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। তিনি মনে করেন, একটা ‘টার্গেট হিট’ করার জন্য মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন দলের নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন প্রথমত জনগণ, তারপর দলের কাউন্সিলররা। ২০০৮ সালের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা সম্পর্কে তিনি বলেন, এ ঘোষণা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা জাতিকে আশ্বস- করেছেন। দেশ ও জাতি নির্বাচন চায়। অনির্ধারিত ও অনির্দিষ্টকালের সরকার জনগণ মেনে নেবে না। তবে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে শংকার কথা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

মোফাজ্জল করিম বলেন, নির্বাচনই প্রধান লক্ষ্য। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। দুর্নীতিমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, এজন্য সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, তবে কাউকে অযথা হয়রানি করা ঠিক নয়।
নুরুল কবির বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার সামনে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে তার ওপর নির্ভর করছে নির্বাচন কখন অনুষ্ঠিত হবে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা উভয়ের বিরুদ্ধে এর আগেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কিন’ কখনোই তা নিষ্পত্তি হয়নি। জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে জঙ্গিদের ব্যবহার করেছে। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারাই তাদের সঙ্গে আপস করে এবং মদদ দেয়।

সংলাপ অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা দর্শকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, দুর্নীতির দায়ে যারা দোষী সাব্যস- হবে তারা কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেত্রীদের বাদ দিয়ে নির্বাচন হবে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি তাদের শাস্তি হয়, তবে তারা আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। অনুষ্ঠানে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের জবাবদিহিতার বিষয়েও দর্শকরা জানতে চান। রেকর্ডকৃত অনুষ্ঠানটি রোববার সন্ধ্যা ৭টায় বিবিসির প্রবাহ অনুষ্ঠানে প্রচার করা হয়েছে। চ্যানেল আই আজ রাত ৮টায় প্রচার করবে। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-04-16

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: