অভিযুক্ত ১০ শীর্ষ রাজনীতিবিদের বিচার এ মাসেই

খুব শিগগির দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত শীর্ষ ১০ রাজনীতিবিদের বিচার কাজ শুরু করা হবে। রোববার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রটি জানায়, বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ইতিমধ্যে ২০ আইনজীবীর একটি প্যানেল তৈরি করা হয়েছে। প্যানেলে দেশের ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীরা রয়েছেন। সূত্র আরও জানায়, শীর্ষ ১০ রাজনীতিবিদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিচারের কাজ শুরু করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা সম্মতি দিয়েছেন। দুদকের চেয়ারম্যান হাসান মশহুদ চৌধুরী কমিশনের যাবতীয় কার্যক্রম ও মামলার প্রস্ততি সম্পর্কে রোববার প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ, মামলার চার্জশিট ও সাবজেল গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে তদন্ত কর্মকর্তার অপ্রতুলতা প্রসঙ্গে আলোচনাকালে পুলিশ বিভাগ থেকে লোক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়, কোন কোন আইনজীবী দুদকের মামলায় সহযোগিতা করবেন।

দুদক এ পর্যন্ত ১৫ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও কিছু মামলা দায়ের করা হবে। যে কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৭ এপ্রিল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ আইন সংশোধনের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তা চূড়ান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। আইন সংশোধনের মাধ্যমে কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। কমিশনের কোন কর্মকর্তা যদি বিশ্বাস করেন বা তার কাছে যদি যুক্তিসঙ্গত কোন কারণ থাকে যে, কোন ব্যক্তি তার নিজের নামে বা অন্য কোন ব্যক্তির নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক, যা ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা যাবে। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মামলা দায়েরও করতে পারবেন। এমনকি, সেই ব্যক্তিকে কমিশনের অনুমতি নিয়ে গ্রেফতার করতে পারবেন। দুদকের মামলাগুলো স্পেশাল জজ বিচার করবেন। বিচারের কাজ ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করা হবে। দুদক চেয়ারম্যান হাসান মশহুদ চৌধুরী প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এর আগে একবার সাক্ষাৎ করেছেন। সেই সাক্ষাতে মামলার প্রস’তি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হলেও রোববারের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।

বৈঠকে দুদককে সহযোগিতা করতে উপস্থিত ছিলেন গুরুতর অপরাধে বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান ও যোগাযোগ উপদেষ্টা মে. জে. (অব.) আবদুল মতিন ও আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন।
এদিকে, মামলার স্তূপ না করে একে আইনি কাঠামো ও তদন্তের মাধ্যমে একটি ফলপ্রসূ কার্যব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণেও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আভাস দেন। জানা গেছে, দুর্নীতি মামলা তদন্তে তদন্ত কর্মকর্তাদের ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। যাতে মামলা লড়ার সময় তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে কোন ধরনের অসুবিধা না হয়। মামলার চার্জশিট এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে সাক্ষ্যপ্রমাণের যথেষ্ট সুযোগ থাকে। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-04-16

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: