আরো গ্রেফতার হবেঃ ৬ মাসের আগে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়

দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও কালো টাকার দাপট কমিয়ে আনতে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। গত তিন মাসে নেয়া দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের বিচারের সমমুখীন করা হচ্ছে খুব শিগগির। একই সাথে নতুন করে অভিযুক্ত আরো শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হবে। তবে এখন যাদের গ্রেফতার করা হবে সেটি আগে থেকে জানানো হবে না। তালিকা অনুযায়ী অভিযান পরিচালনাকারীরা অভিযুক্তদের গ্রেফতার করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধ শতাধিক ভিআইপি দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। এর বাইরে গ্রেফতারকৃতের সংখ্যা হাজার হাজার। ভিআইপিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় ১২টির চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হয়েছে। পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে বিলম্ব হওয়ায় চার্জ গঠন এবং অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের সমমুখীন করা যাচ্ছে না। এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পুলিশ ও অন্যান্য বিভাগ থেকে প্রেষণে লোকবল নিয়োগ করা হচ্ছে। আর সেনাবাহিনী মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছে। জানা গেছে, চলমান অভিযানকে আরো জোরদার এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে। এই অভিযানে কে গ্রেফতার হবেন তার চেয়ে কে গ্রেফতার হবেন না সেটিই প্রশ্নের বিষয়। গতকাল যোগাযোগ উপদেষ্টা অবঃ মেজর জেনারেল এম এ মতিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তালিকায় নাম থাকতে হবে এমন কোনো কথা নেই। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে তাকেই গ্রেফতার করা হবে। তবে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, এই গ্রেফতার অভিযানে আতঙ্ক ছড়াতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে না। প্রকৃত ব্যবসায়ী যারা তাদেরকেও গ্রেফতার করা হবে না। রাজনীতিবিদ, আমলা, সরকারি চাকুরে এবং অন্যান্য পেশার লোকদের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে যাদের আটকের মেয়াদ প্রায় তিন মাস কিংবা তার বেশি হয়েছে তাদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিচারে সোপর্দ করা হবে।
জানা গেছে, বর্তমানে ক্ষমতার প্রভাব বলয়ের মধ্যে থাকা ব্যক্তিরা চাচ্ছেন রাজনীতির বর্তমান ধারা থেকে দেশ মুক্ত হোক। এজন্য যা করণীয় তারা তাই করবেন। কাউকে এ ব্যাপারে ছাড় দেয়া হবে না। রাজনীতির নামে দুর্নীতি করার সুযোগ চিরতরে বনধ করতে তারা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই নেবেন। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা এ কাজে সরকারকে সহযোগিতা দিচ্ছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া দেশের জনগণ তাদের কর্মকা েপূর্ণ সহযোগিতা ও সমর্থন দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির যে অভিযোগ রয়েছে সেসব স্থানেও প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হচ্ছে শিগগিরই। আগামী ২০০৮ সাল শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে উল্লেখ করার কথা জানিয়ে সূত্রটি বলছে, আরো অন্তত দু মাস সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানেই লেগে যাবে। তারপরই ঘরোয়া রাজনীতি এবং পর্যায়ক্রমে নির্বাচনের কথা ভাবা হচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনা মোতাবেক হলে ছয় মাস পরই নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। সে পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া রাজনীতিবিদদের সামনে আর কোনো পথই খোলা নেই। Source:দৈনিক নয়া দিগন্ত
Date:2007-04-16

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: