মওদুদ ৪ দিনের রিমান্ডে

সাবেক আইনমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করছে। বাসা থেকে বিদেশী মদ ও বিয়ার জব্দ করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গুলশান থানা পুলিশ শনিবার ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদকে মহানগর হাকিম এমএ সালামের আদালতে হাজির করে। আদালত শুনানি শেষে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বৃহস্পতিবার রাতে যৌথ বাহিনী মওদুদ আহমদের গুলশানের বাসভবন থেকে ১৬ বোতল বিদেশী মদ, ৩২ ক্যান বিয়ার ও ২২০ পিস ত্রাণের শাড়ি উদ্ধার করে। মদ উদ্ধারের ঘটনায় মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে গুলশান থানার এসআই খবির উদ্দিন ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(খ) ধারায় মামলা করেন। শুনানিকালে ব্যারিস্টার মওদুদ আদালতকে বলেন, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। মামলার আলামত সম্পর্কে তার কোন ধারণা নেই। তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

শনিবার দুপুর পৌনে ১২টায় মওদুদ আহমদকে যৌথ বাহিনী গুলশান থানায় হস্তান্তর করে। তাকে রাখা হয় ক্যান্টনমেন্ট থানা হাজতে। বেলা ২টা ৪৮ মিনিটে কড়া পুলিশ পাহারায় সাধারণ প্রিজন ভ্যানে করে মহানগর হাকিম এ সালামের আদালতে তাকে হাজির করা হয়। এ সময় মওদুদ আহমদের পরনে ছিল ছাই রঙের সাফারি ও চোখে সোনালি রঙের ফ্রেমের চশমা। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল মওদুদ আহমদকে ভীষণ ক্লান্ত ও বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। আদালতে হাজির হওয়ার সময় অপর একটি মামলার শুনানি চলছিল। কাঠগড়ায় তোলার ৫ মিনিট পর মওদুদ আহমদের মামলার শুনানি শুরু হয়। এ সময় মওদুদ আহমদ তার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন। শুনানির আগে তাকে জিআরও মামলার ফরোয়ার্ডিং পড়ে শোনান। শুনানির এক পর্যায়ে মওদুদ আহমদ আদালতে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্র্দোষ দাবি করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

মওদুদ আহমদের পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন ব্যারিস্টার মাহবুদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট ফয়সাল হাসান আরিফ, অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন লস্কর। শুনানির শুরুতে মওদুদ আহমদের আইজীবীরা আদালতে বলেন, যে ধারায় মামলা হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। মাদকদ্রব্যের জন্য নির্দিষ্ট আইনের ধারা রয়েছে। মামলায় আইনগত ভুল রয়েছে। তাই এ মামলায় রিমান্ড চাওয়া অযৌক্তিক। এ সময় জিআরও বিরোধিতা করে বলেন, ধারা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশী মদের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিন রিমান্ডের প্রয়োজন। এছাড়া ক্ষমতার অপব্যহার করে ত্রাণের শাড়ি বিতরণ না করে নিজ দখলে রাখার বিষয়টি দুদক তদন্ত করবে। এ ব্যাপারে আরও একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ তারিখ রাত ১০টা ৩৫ মিনিট থেকে মওদুদ আহমদের বাসায় অভিযান শুরু হয়। সকাল সোয়া ৫টার দিকে তার বাড়ির নিচতলার শয়ন কক্ষের কাঠের আলমারির ভেতর থেকে ও দোতলায় পাকঘরের কাঠের কেবিনেটে রক্ষিত অবস্থায় ১৬ বোতল বিদেশী মদ (বিভিন্ন ব্রান্ডের) ও ৩২ ক্যান হ্যানিকেন বিয়ার উদ্ধার করা হয়। এছাড়া উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ ত্রাণের শাড়ি। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে এসব মদ ও বিয়ার তিনি আমদানি করেছেন। নিজ হেফাজতে রেখে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(খ) ধারায় অপরাধ করেছেন। মদ ও বিয়ার কার মাধ্যমে, কিভাবে, কোত্থেকে সংগ্রহ করেছেন তার উৎস জানার জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসবাদ প্রয়োজন।

১৩ মিনিট ধরে এ শুনানি চলে। এ সময় আদালতে বিএনপির কোন নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। তবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন মওদুদ আহমদের বড় বোন নাফিসা বেগম, ভাগ্নে হেলাল উদ্দিনসহ কয়েকজন আত্বীয়। মামলার শুনানির পর তারা কাঠগড়ায় মওদুদ আহমদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা মওদুদ আহমদকে কিছু খাবার ও ওষুধ দেন। বেলা ৩টা ২০ মিনিটে পুলিশ পাহারায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ক্যান্টনমেন্ট থানা হাজতে।

আদালতে মওদুদ আহমদের আইনজীবীরা বলেন, মওদুদ আহমদ ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারের সদস্য। তিনি নোয়াখালী-৫ আসন থেকে ৫ বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, উপ-রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় তার ও টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিল্প, যোগাযোগ এবং সর্বশেষ বিগত সরকারের আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন। দেশের আইন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সব সময় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাকে শুধু রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে। ১২ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টা থেকে পরের দিন ১৩ এপ্রিল সকাল ১০টা পর্যন্ত তার গুলশানের বাসভবন তল্লাশি করে কিছু না পেয়ে পরিকল্পিতভাবে কথিত কিছু মালামাল উদ্ধার দেখিয়ে তাকে গ্রেফতার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। আইনত এ মামলা অকার্যকর, বেআইনি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কোন প্রকার তল্লাশি আদেশ ছাড়া জোরপূর্বক যৌথ বাহিনী বেআইনিভাবে তার বাসভবনে অনুপ্রবেশ করে। প্রায় ১১টাব্যাপী তল্লাশি করে কয়েক বোতল পানীয় বাসা থেকে উদ্ধার দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। মওদুদ আহমদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তাকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বয়স ৭০ বছরের অধিক। তিনি একজন ধার্মিক, নীতিবান ও ব্যক্তিত্ববান লোক। তিনি এ ধরনের কোন অপরাধ করতে পারেন না, যা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি অসুস্থ। তিনি হাতে-পায়ে এবং কোমরে সার্বক্ষণিক ব্যথা অনুভব করেন। এজন্য সবসময় ডাক্তারের পরামর্শ নেন। মানবিক বিবেচনা ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে রিমান্ডের আবেদন বাতিল করে তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হোক। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-04-16

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: