কারো ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান দেবে না সরকার

দেশব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নয়ন ঘটায় সরকার কারো ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আর গানম্যান দেবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভায় গতকাল সোমবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ আব্দুল করিম সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এই সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। তিনি বলেন, পুলিশের নিরাপত্তা চেয়ে এ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাজনীতিবিদসহ ৫ থেকে ৭ জন আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারো ক্ষেত্রে একান্ত প্রয়োজন মনে করলে সরকার কেবল তার বিষয়টি বিবেচনা করবে।

আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির ৫ম সভা গতকাল অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কমিটির অপর দুই সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিন ও শিক্ষা উপদেষ্টা আইয়ুব কাদরী।
বৈঠক শেষে ব্রিফিঙে স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুল করিম বলেন, বর্তমানে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে সীমিত আকারে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া যায় কিনা এ নিয়ে সরকার চিন্তা করছে। উপসচিব ও মেজর সমপর্যায়ের নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি সরকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে।

তিনি বলেন, দেশের কয়েকটি অঞ্চলে জঙ্গি সংগঠনের অপতৎপরতা দেখা যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। বৈঠকে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ বস্তি উচ্ছেদের নোটিশ প্রদান, একইসঙ্গে বস্তি গড়ে তোলার নেপথ্যের গডফাদারদের বির”দ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ অস্ত্র লাইসেন্স সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া গার্মেন্টস শ্রমিকদের অসন্তোষ নিরসনে ব্যবস্থা নেবে সরকার। গতকালের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আরো বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় গার্মেন্টস শিল্পের সমস্যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সাভার, মিরপুর, তেজগাঁও, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে বেশ কিছু কারখানায় গত বছর শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। ওই অসন্তোষ নিরসনে গার্মেন্টস মালিকদের তরফ থেকে দেনা-পাওনার বিষয়ে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনেও মালিক পক্ষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি। অসন্তোষের আশঙ্কা প্রকাশ করে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এ সমস্যা নিরসন কল্পে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেপজা, পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ ও বিজিএমইএর নেতাদের নিয়ে খুব শিগগিরই বৈঠক করা হবে।
সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রচারণা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করা হয়। তাদের কর্মকাণ্ডে দেশবিরোধী কিছু কার্যক্রম সরকারের নজরে এসেছে। সরকার শিগগিরই উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক করে এ সম্পর্কে করণীয় ঠিক করবে বলে সভা সূত্র জানায়। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-04-17

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: