দেশ ছাড়ছেন খালেদা জিয়া

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে যে কোন মুহূর্তে দেশত্যাগ করতে হচ্ছে। গত রাতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সযোগে তার দেশত্যাগের কথা ছিল। শেষ মুহূর্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আর একদিন সময় চাওয়ায় তার ‘ওমরাহ’ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাত্রা পিছিয়ে গেল। খালেদা জিয়াকে দেশত্যাগে সম্মত করাতে বেশ কিছুদিন থেকে উচ্চ মহলের সঙ্গে তার প্রতিনিধিদের কথা হচ্ছিল। একটি অসমর্থিত সূত্র তার বিদেশ গমনের ব্যাপারে সন্দেহের চাদর বিছিয়ে দিয়েছে মধ্যরাতের দিকে। এই মহলটি বলছে, বেগম খালেদা জিয়া আদৌ দেশত্যাগ করবেন কি করবেন না তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন তিনি। তবে সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মহল জোর দিয়েই বলছে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে গত রাতের আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্তের নড়চড় হবে না। তাকে দেশত্যাগ করতেই হবে, আজ কিংবা কাল।

জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশে যেতে সম্মত করার লক্ষ্যে বিভিন্নভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়। এ উদ্যোগের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠজন, দলীয় নেতারা যুক্ত। সরকারের পক্ষে একটি উচ্চ মহল এই দেনদরবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। গত ক’দিন ধরে খালেদা জিয়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। এই দোদুল্যমানতার প্রেক্ষাপটে রোববার গভীর রাতে তার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোকে যৌথ বাহিনী আটক করলে খালেদা জিয়া মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়েন। তিনি বুঝতে পারেন, তিনি দেশত্যাগ না করলে বিপদের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।
এই বিপদের ব্যাপারে তাকে নাকি সতর্কও করে দেয়া হয়েছিল। গত রাতে খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনেই নাকি চূড়ান্ত আলোচনা পর্বটি সম্পন্ন হয়। খালেদা জিয়া তারেক রহমানকে ছাড়াই কোকোসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে নিয়ে সোমবার মধ্যরাতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সযোগে সিঙ্গাপুর এবং সেখান থেকে সৌদি আরব যেতে রাজি হন। ‘খালেদা জিয়া দেশত্যাগ করছেন’- এ খবর বিদ্যুৎ বেগে ছড়িয়ে পড়ে। ভয়েস অব আমেরিকাও তার সম্ভাব্য দেশত্যাগের ইঙ্গিত দিয়ে সংবাদ প্রচার করে। সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্টার ও ফটোগ্রাফাররা বিমানবন্দরে ভিড় জমান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স চলে গেছে, খালেদা জিয়া যাননি। ইত্যবসরে সংবাদ মাধ্যমগুলো জানতে পারে খালেদা জিয়ার দেশত্যাগ খানিকটা বিলম্বিত হতে পারে। তবে সূত্র জানায়, সরকারের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে দেশত্যাগ করতেই হবে।

জানা গেছে, নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অনুরোধে খালেদা জিয়ার ভাই মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দার সোমবার বিকালে ক্যান্টনমেন্টের বাসায় গিয়ে তার বোনকে বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে রাজি করানোর চেষ্টা করেন। খালেদা জিয়া প্রথমে দেশত্যাগ না করার ব্যাপারে অনড় থাকলেও দীর্ঘ আলোচনার একপর্যায়ে ভাইয়ের অনুরোধে বিদেশ যেতে রাজি হন। তবে তিনি কোকোকে তার সঙ্গে বিদেশে নেয়ার শর্ত দেন। কোকোকে ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস পেলে তিনি রাজি হন। আটকের ২৪ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে বারটার দিকে আরাফাত রহমান কোকোকে শহীদ মইনুল রোডের বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়।
Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-04-17

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: