ভোটার তালিকা মুদ্রণে অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ইসি

হাইকোর্টের রায়ে বাতিল হয়ে যাওয়া বিতর্কিত ভোটার তালিকা মুদ্রণে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ব্যাপারে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন।

উল্লেখ্য, বিতর্কিত ভোটার তালিকা তৈরি ও মুদ্রণে নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতির তথ্য উদঘাটনে গঠিত তদন্ত কমিটি গত বৃহস্পতিবার ইসি সচিবালয়ে তাদের রিপোর্ট জমা দেয়। সাবেক শাসক গোষ্ঠী বিএনপি-জামাত নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট ছাড়া দেশের অন্য সকল রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহল এমনকি একাধিক
আন্তর্জাতিক সংস্থাও এই ভোটার তালিকা প্রণয়নের পদ্ধতি ও এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলেছিল। এর আগে সকল মহলের আপত্তি উপেক্ষা করেই কমিশন এই বিতর্কিত ভোটার তালিকা তৈরি করে।

বিতর্কিত এই ভোটার তালিকা প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বিচারপতি এম এ আজিজ, নির্বাচন কমিশনার স ম জাকারিয়া ও বিচারপতি মাহফুজুর রহমান এবং ইসি সচিব মোঃ আব্দুর রশীদ সরকার ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া। অভিযোগ রয়েছে, গত ২২ জানুয়ারির প্রহসনমূলক নির্বাচন (পরবর্তী সময়ে বাতিল ঘোষিত) অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে স ম জাকারিয়ার কৌশল বাস্তবায়নে রশীদ সরকার ও মোহাম্মদ জকরিয়ার সকল অপকর্মের সঙ্গী ছিলেন ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মিহির সারোয়ার মোর্শেদ, সিনিয়র সহকারী সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান, আব্দুল বাতেন এবং সাবেক ও বর্তমান সিইসির একান্ত সচিব মোস্তফা ফারুক।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার এদের মধ্য থেকে রশীদ সরকারকে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে বদলি এবং জকরিয়াকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে (ওএসডি) তার চাকরি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করলেও দুর্নীতিবাজ অন্য কর্মকর্তারা এখনো ইসি সচিবালয়েই বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এ ছাড়া বিস্ময়করভাবে এখনো নতুন সিইসির একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন চরম বিতর্কিত কর্মকর্তা মোস্তফা ফারুক। শুধু তাই নয়, তিনি একই সঙ্গে ইসি সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার শাখায়ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন, যা সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তার মাঝে বিস্ময় ও ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
এ প্রসঙ্গে কমিশনার সাখাওয়াত বলেন, তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে ইসি সচিবালয়ে তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। কিন্তু তা এখনো পর্যালোচনা করা কিংবা খতিয়ে দেখা হয়নি। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কমিশন ব্যবস্থা নেবে। তবে তদন্তে কারা অভিযুক্ত হয়েছেন তা বলেননি তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত জানান, নির্বাচন কমিশন ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নে পাইলট প্রকল্পের কাজ আগামী মাসের শেষ সপ্তাহে শুরু করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীর যেকোনো একটি ওয়ার্ডে এবং ঢাকার বাইরে যেকোনো একটি প্রত্যন্ত পল্লীতে পরীক্ষামূলকভাবে এই কাজ শুরু করা হবে। মাঠ পর্যায়ের এ কাজে বিদেশী পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা নেওয়া হবে। পাইলট প্রকল্পে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ডিজিটাল ক্যামেরা ও কম্পিউটারসহ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে বলে কমিশনার সাখাওয়াত জানান। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-04-18

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: