তারেককেও প্যারোলে মুক্ত করে বিদেশে নিতে চান খালেদা জিয়া

কারাবন্দী জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমানকে চিকিৎসার নামে প্যারোলে মুক্ত করে সঙ্গে করে বিদেশে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ জন্য ওপর মহলের সঙ্গে দেনদরবার চলছে। ছোট ভাই সাঈদ ইস্কান্দরসহ আরো ক’জন এ ব্যাপারে চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। আর এ কারণেই খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রায় বিলম্ব হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে তারেককে সঙ্গে নেওয়ার ব্যাপারে কোনো মহল থেকেই এখনো খালেদা জিয়া আশ্বাস পাননি। তারপরও দেশ ছেড়ে যাওয়ার সকল প্রস্ততিই সম্পন্ন করে রেখেছেন।
যাওয়ার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত তারেককে সঙ্গে নেওয়ার ব্যাপারে শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন তিনি। তারেককে সঙ্গে নেওয়া সম্ভব না হলে জেলখানায় গিয়ে তাকে একনজর দেখে এবং জিয়ার মাজার জিয়ারত করে সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন খালেদা জিয়া। সঙ্গে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো, তার স্ত্রী শরমিলা রহমান, মেয়ে জাকিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকেও নিয়ে যাবেন। এরই মধ্যে পাসপোর্ট, ভিসা, সৌদি আরবে থাকার জায়গা ঠিক করা হয়েছে। ৩টি বড়ো স্যুটকেসে মালপত্রও ভরে রাখা হয়েছে। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে বিদায়ও নিয়ে ফেলেছেন।

উল্লেখ্য, গত রোববার মধ্যরাতে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে ছোট ছেলে কোকোকে আটকের ২৪ ঘণ্টা পর সোমবার মধ্যরাতে ওপর মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোকোকে বাসায় ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে খালেদা জিয়া বিদেশে চলে যেতে রাজি হন। মঙ্গলবার রাতেই তার দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিদেশ যাওয়ার শর্ত জুড়ে দেন। তিনি চাচ্ছেন জেল থেকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে তারেক রহমানকেও চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেওয়া হোক। কিন্তু ওপর মহল থেকে খালেদা জিয়ার এই শর্ত মানার ব্যাপারে কোনো আশ্বাসই দেওয়া হচ্ছে না। তবুও তিনি শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে তার ছোট ভাই সাঈদ ইস্কান্দরসহ আরো কজন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

গতকাল দুপুরে তারেক রহমানকে দেখতে খালেদা জিয়ার কেন্দ্রীয় কারাগারে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি যাননি। তবে তারেকের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও তার মা (তারেকের শাশুড়ি) তারেকের সঙ্গে দেখা করেছেন। এদিকে বিদেশ যাওয়ার প্রস্ততি সম্পন্ন হওয়ায় মঙ্গলবার রাতেই খালেদা জিয়া তার ২ জন ড্রাইভারের মধ্যে ১ জনকে বিদায় করে দেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতেই তার দেশ ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমানের কি হবে সে বিষয়টির কথা বারবার মনে করতে গিয়ে তিনি আরো কিছু সময় নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে কারণেই, তারেক রহমানকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব বলে ওপর মহল থেকে এর আগে জানিয়ে দেওয়ার পরও খালেদা জিয়া হাল ছাড়েননি।

এদিকে খালেদা জিয়া বিদেশে নির্বাসনে গেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের দায়িত্ব কে পালন করবেন সে ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে। তবে যাওয়ার আগে এ ব্যাপারে খালেদা জিয়া দলীয় নেতাদের মৌখিক নির্দেশ দিয়ে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুঞ্জন রয়েছে, স্থায়ী কমিটির সদস্য এম সাইফুর রহমান অথবা মহাসচিব আবদুল মান্নান ভুঁইয়া এ দুজনের মধ্য থেকে যেকোনো একজন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হচ্ছেন। তবে বিএনপি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে কে দলের চেয়ারম্যান হবেন তা নির্ভর করবে বর্তমান মহাসচিব মান্নান ভুঁইয়া ও তার অনুসারীদের মানা না মানার ওপর।

গতকাল ছোট ভাই সাঈদ ইস্কান্দর, তার স্ত্রী নাসরিন সাঈদ এবং তারেক রহমানের আইনজীবী আহমেদ আজম খান ক্যান্টনমেন্টের বাসায় গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন বলে জানা গেছে। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-04-19

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: