দেশে আর্মি ব্যাকড সরকার এসেছে এটা সবার বোঝা উচিত : মইনুল

বর্তমানে কঠিন সময়ের মধ্যে দেশ চলছে। আর্মি ব্যাক্‌ড (সেনা সমর্থিত) সরকার এসেছে। পরিস্থিতি কঠিন হয়েছে। রাজনৈতিক নেতারা এ অবস্থার সৃষ্টি করেছেন। আপনারা সবাই বোঝেন, দেশ কোন দিকে যাচ্ছে সবার বোঝা উচিত। আইন ও তথ্য উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন গতকাল বুধবার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে না দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। অপরদিকে গুরুতর অপরাধ দমন জাতীয় সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান যোগাযোগ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) এম এম মতিন বলেছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে বাধা নেই সেটা কালকে বলেছি, আজকে বলিনি।

আইন মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, সময়টা কঠিন। বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এটা রাজনৈতিক নেতাদের বোঝা উচিত। এই পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলে আর্মি ব্যাক্‌ড সরকারের দরকার হতো না। দ্বিতীয়বারের মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দরকার পড়তো না। জরুরি অবস্থারও প্রয়োজন হতো না। এটা আপনারা বোঝেন। শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিদেশে থাকার সময় বিভিন্ন বক্তব্য ও বিবৃতি দিয়েছেন যা দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়টি সম্পর্কে আমাকে জানানো হয়েছে। মূলত এ নিয়ে সরকার একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেসনোটের মাধ্যমে এটা জানাবে।

এর আগে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে দেওয়া না দেওয়ার বিষয় নিয়ে আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, যোগাযোগ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিন ও স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুল করিম এই তিনজন একান্তে বৈঠকে বসেন। এই বৈঠকেই শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রেসনোট জারি করা হয়।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রেস নোট সম্পর্কে সাংবাদিকরা যোগাযোগ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রেসনোটে এর ব্যাখা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমার কিছুই বলার নেই।

এর আগের দিন আপনি বলেছিলেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরায় সরকারের কোনো বাধা নেই। আজ তার উল্টো ঘটলো- এ প্রশ্নের জবাবে যোগাযোগ উপদেষ্টা বলেন, ওটা কালকে বলেছি, আজকে তা বলিনি। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার ব্যারিস্টার মঈনুল বলেছিলেন কে দেশে থাকবে আর কে বিদেশে থাকবে তা সরকার ঠিক করবে না। এ পর্যায়ে গতকাল হাসিনার ব্যাপারে এই প্রেসনোট জারি হয়।

আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, দেশের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের কারণেই দুর্নীতি হয়েছে, অনিয়ম হয়েছে। রাজনীতি থেকে পরিবারতন্ত্রের প্রথা ভাঙতে হবে। দুইনেত্রীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ সরকারের নেই। দেশে এখন রাজনৈতিক সংস্কার ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চলছে। এ অবস্থায় কোনো নেতা-নেত্রী যদি মামলা, জেল ও জরিমানার ভয়ে দেশত্যাগ করতে চান, তা ভিন্ন কথা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ওপর এ ধরনের কোনো চাপ নেই।

গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, খালেদা জিয়া বা তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কোনো বাধা নেই। আরাফাত রহমান কোকো আটক ও পরে ছেড়ে দেওয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করার মাধ্যমে তাদের বিদেশ যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইংল্যান্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানকার রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র নেই বলেই ক্ষমতার মাঝ পথেও অনেক সময় নেতৃত্বের রদবদল হচ্ছে। কিন্তু এদেশের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের কারণে অন্ধ আনুগত্য, দুর্নীতি এসব হচ্ছে। রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের এই ঘুণে ধরা প্রথা ভাঙতে হবে। কোকোকে ধরে আবার ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তাকে ধরা হতেই পারে। অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তাকে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-04-19

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: