হাসিনাকে দেশে ফিরতে নিষেধ

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে নিষেধ করেছে সরকার। তিনি দেশে ফিরলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার, স্থিতিশীলতা বিনষ্ট, জন-নিরাপত্তা ও অর্থনীতি বিপন্ন, বিদ্বেষ ও বিভ্রানত্দি ছড়ানোর আশংকা থাকায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাময়িকভাবে এই বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। দেশের সকল বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশন, এয়ারলাইন্সকে সরকার এ সংক্রানত্দ নির্দেশও দিয়েছে। গতরাতে শেখ হাসিনার ওয়াশিংটন থেকে লন্ডন রওনা হবার কথা।

গতকাল বুধবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেসনোটে শেখ হাসিনা যাতে দেশে ফিরতে না পারেন সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। পূর্ব নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২৩ এপ্রিল লন্ডন থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে সরাসরি ঢাকা পেঁৗছার কথা ছিল শেখ হাসিনার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা গত ১৫ মার্চ ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাষ্ট্র যান। কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল লন্ডন পেঁৗছে সেখানে তিনদিন অবস্থান শেষে ২৩ এপ্রিল ঢাকা ফিরতে বিমানের টিকেট কনফার্ম করা হয়। জানা গেছে, তিনি এখনো দেশে ফেরার জন্য অনড় রয়েছেন। সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি মঙ্গলবার গভীর রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলকে টেলিফোন করে শেখ হাসিনাকে দেশে না ফেরার অনুরোধ করেন বলে জানা যায়। প্রেসনোটে শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে পরিস্থিতির অবনতির আশংকা ছাড়াও গত ১১ জানুয়ারি দেশে জরম্নরি অবস্থা ঘোষণার জন্যও তাকে দায়ী করা হয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলের লাগাতার আন্দোলনকে ‘দায়িত্বহীন’ অভিহিত করা হয়। সম্প্রতি বিদেশে থেকেও তিনি বিভিন্ন সমাবেশ ও দেশী-বিদেশী মিডিয়ায় বর্তমান সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রৰাকারী বাহিনীর বিরম্নদ্ধে উস্কানি ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রাখেন বলে প্রেসনোটে উলেস্নখ করা হয়।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সম্পর্কে প্রেসনোটের ঘোষণায় পুলিশ, সিভিল এভিয়েশন এবং পররাষ্ট্র ও বিমান মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইমিগ্রেশন ও সকল বিদেশী এয়ারলাইন্সকে একই ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

১৫ মার্চ শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে যাবার পর গত ৯ এপ্রিল কাজী তাজুল ইসলাম ফারম্নক নামে একজন ব্যবসায়ী শেখ হাসিনার বিরম্নদ্ধে তিন কোটি টাকার একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। তেজগাঁও থানা মামলাটি গ্রহণ করে। এখন মামলাটির তদনত্দ চলছে। চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের প্রেৰিতে শেখ হাসিনা মামলা মোকাবিলা করতে ১৩ এপ্রিল দেশে ফিরে আসার উদ্যোগ নেন। এরপর সরকারের পৰে যোগাযোগ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবঃ) এম এ মতিন যুক্তরাষ্ট্র অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে এবং ঢাকায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলকে টেলিফোন করেন এবং তড়িঘড়ি করে সফর সংৰিপ্ত না করে ২৩ এপ্রিল দেশে ফেরার জন্য অনুরোধ করেন। এদিকে গত বছরের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের ৰমতা হসত্দানত্দরকালে পুরানা পল্টন এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় শেখ হাসিনার নাম অনত্দভর্ুক্ত করা হয় গত সপ্তাহে। যদিও মামলার এজাহারে শেখ হাসিনার নাম ছিল না। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জন নেতা-কমর্ী মামলার আসামী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা

দুপুরে প্রেসনোট জারির পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাতে সংশিস্নষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার উপর জারি করা আপাততঃ সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বলা হয়। সিভিল এভিয়েশনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ছবি ও পাসপোর্ট নম্বর (ডবিস্নউ-০৫২৬৬২৭) সকল বিদেশী এয়ারলাইন্সকে দেয়া হয়েছে। যাতে ঢাকা অভিমুখী কোন এয়ারলাইন্স শেখ হাসিনাকে বহন না করে। বিমান বন্দর ও সবগুলো ইমিগ্রেশন পোস্টকে একই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রেসনোটের পূর্ণ বিবরণ

বুধবার এক প্রেসনোটে বলা হয়, নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সরকার অবগত হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র সফররত আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৩ এপ্রিল দেশে প্রত্যাবর্তন করতে পারেন। উলেস্নখ্য যে, সাম্প্রতিক অতীতে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের দায়িত্বহীন লাগাতার আন্দোলন ও কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট অরাজক পরিস্থিতিতে দেশের জন-শৃঙ্খলা বিপর্যসত্দ, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে এবং ফলশ্রম্নতিতে অনিবার্যভাবেই জরম্নরী অবস্থা ঘোষণা করতে হয়েছে। সম্প্রতি তিনি বিদেশে অবস্থানকালেও বিভিন্ন সভা-সমাবেশ এবং দেশি ও আনত্দর্জাতিক মিডিয়ায় প্রদত্ত বক্তব্যের মাধ্যমে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আইন-শৃঙ্খলারৰাকারী বাহিনী সম্পর্কে বিভিন্ন উস্কানি ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রেখেছেন।

এমতাবস্থায় শেখ হাসিনা এ সময় দেশে প্রত্যাবর্তন করলে পূর্বের ন্যায় উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান এবং জন-শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে বিদ্বেষ ও বিভ্রানত্দি সৃষ্টির প্রয়াস চালাতে পারেন। এতে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার এবং বিরাজমান স্থিতিশীলতা বিঘি্নত এবং জন-নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন হওয়ার আশংকা রয়েছে। আরো উলেস্নখ্য যে, শেখ হাসিনা নিজেও তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বিগ্ন এবং তাঁর দলের মাধ্যমে সরকারের নিকট বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধার আবেদন করেছেন। উলিস্নখিত কারণে সরকার জনস্বার্থে বর্তমান অবস্থায় শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন বিষয়ে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গৃহীত এই ব্যবস্থা সাময়িক।

দেশের সকল বিমান বন্দর ও স্থল বন্দরে কর্মরত ইমিগ্রেশন বিভাগ, বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনাকারী সকল এয়ালরাইন্স কতর্ৃপৰ ও সংশিস্নষ্ট সকলকে বিষয়টি প্রয়োজনীয় কার্যার্থে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন কতর্ৃপৰ এবং মহা-পুলিশ পরিদর্শককেও এ বিষয়ে আবশ্যক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্রঃ http://www.ittefaq.com/get.php?d=07/04/19/w/n_zuxkvx

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: