আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু দুই নেত্রী কি ঘটবে আজ ও আগামীকাল

দেশের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সশরীরে উপস্থিত না থেকেও খালেদা-হাসিনা প্রসঙ্গই এখন মানুষের মুখে মুখে। শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে পারা, না পারা এবং খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া, না দেয়া নিয়ে চলছে নানামুখী জল্পনা-কল্পনা। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার কি করছে এবং আগামী দিনগুলোতে কি করতে পারবে, সে বিষয়েও জনগণ ধারণা পেতে চাইছে দুই নেত্রীকে কেন্দ্র করে তাদের চিনত্দাভাবনার বাসত্দবায়নের মধ্যে থেকে। তবে যা কিছুই ঘটুক, তা যে আজ অথবা আগামীকাল রবিবারেই ঘটবে, এ ধারণা রাজনৈতিক বিশেস্নষকদের।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কি আসলেই দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হবে _ এটি এখন বহুল উচ্চারিত একটি প্রশ্ন। কিন্তু এ প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না সরকারের দায়িত্বশীল কারো কাছ থেকে। এক উপদেষ্টা অবশ্য দিন কয়েক আগে বলেছিলেন, খালেদা জিয়াকে জোর করে বিদেশে পাঠানোর কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। কিন্তু তার সে কথার ওপর আস্থা রাখতে পারছে না মানুষ। এর কারণও উপদেষ্টারাই। নিজেদের কথায় তারা স্থির থাকতে পারছেন না। যোগাযোগ উপদেষ্টা এম এ মতিন একবার বললেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে সরকার কোনো বাধা দেবে না। তিনি যে কোনো সময় দেশে ফিরতে পারবেন। কিন্তু তার এ বক্তব্যের দু’দিন পরেই সরকারি এক প্রেস নোটের পরিপ্রেৰিতে পাল্টে গেল তার ভাষা। এবার তিনি বললেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকারি প্রেস নোটের ভাষা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার অনুকূলে নয় মোটেই। সেখানে কোথাও বলা হয়নি, তাকে দেশে ফিরতে দেয়া হবে না; কিন্তু ভাষার মধ্যে এমন কিছু ছিল এবং তা এমন জায়গায় সরকার পাঠিয়েছে যে, বিদেশি এয়ারলাইন্স পর্যনত্দ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে বাংলাদেশে বহন করে আনতে রাজি হচ্ছে না। বৃটিশ এয়ারওয়েজ আমেরিকা থেকে তাকে বাংলাদেশের বোর্ডিং পাস দিতে রাজি হয়নি।

শেখ হাসিনা এখন লন্ডনে, তার ছোট বোন শেখ রেহানার বাসায়। দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, আগামীকাল তিনি হিথ্রো এয়ারপোর্টে যাবেন দেশে ফেরার লৰ্যে। এটা এখন অনেকটাই স্পষ্ট, ডালেস এয়ারপোর্টের মতো এখান থেকেও তাকে দেয়া হবে না; কিন্তু তারপর কি হবে_ তা নিয়েই চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। শেখ হাসিনা নিজে অবশ্য আমেরিকা থেকে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের বলেছেন, বৃটেন থেকে বাংলাদেশে যেতে না পারলে তিনি আবার আমেরিকাতেই ফিরে আসবেন; কিন্তু বাসত্দবে সে কাজটি তিনি খুব চুপচাপে করবেন তা মনে করছেন না অনেকেই।

রাজনৈতিক বিশেস্নষকদের মতে, আনত্দর্জাতিক মিডিয়ায় আলোড়ন তুলতে শেখ হাসিনা আমেরিকার চেয়ে বৃটেনকেই যে বেশি সুবিধাজনক স্থান হিসেবে বিবেচনা করতে চাইবেন, এটা ধারণা করা যায়। সে হিসেবে আগামী দু’দিন কি করেন শেখ হাসিনা, সেদিকে তীৰ্ন দৃষ্টি থাকবে সরকারসহ অনেকেরই।

পাশাপাশি মানুষ দারম্নণ কৌতূহল নিয়ে দেখছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তার পরিবারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনাবলী। প্রতিদিনই শোনা যাচ্ছে নানা গুজব। এগুলো ছড়াচ্ছে এবং উচ্চারিত হচ্ছে এমন এক পরিবেশে, মানুষ সেগুলো বিশ্বাস না করলেও একেবারে তাৎৰণিক উড়িয়েও দিতে পারছে না। বিশেষ করে সরকারের এক উপদেষ্টার মালিকানাধীন পত্রিকায় যখন ২২ তারিখের আলটিমেটামের কথা প্রকাশিত হয়, তখন সাধারণ মানুষের অনেকেই কিছুটা হলেও বিভ্রানত্দ হয়। তারা বুঝতে পারে না কোনটা বিশ্বাস করবে_ উপদেষ্টার মুখের কথা, নাকি পত্রিকার প্রধান শিরোনাম।

তবে রাজনৈতিক বিশেস্নষকদের অধিকাংশই কিন্তু খালেদা জিয়ার বিদেশ গমনের অনিবার্যতাকে এখন মেনে নিয়েছেন। এ রকমই একজনের উচ্চারণ, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যখন প্রেস নোট প্রকাশ করা হলো, তখনই খালেদা জিয়ার বিষয়ে সরকারের মনোভাব স্পষ্ট হয়ে গেছে। হয়তো এরই মধ্যে তাকে পাঠিয়েও দেয়া হতো; কিন্তু বৃহস্পতিবার হাই কোর্টে দায়ের করা বাবুল চৌধুরীর মামলার কারণে বিষয়টি দিন দু’একের জন্য পিছিয়ে গেল। সে ৰেত্রে আগামীকাল রবিবার হয়তো নির্ধারিত হবে খালেদা জিয়ার ভাগ্য।

এদিকে অন্য একটি সূত্রের মতে, খালেদা জিয়ার বিষয়ে কোনো পদৰেপ নিতে সরকার হয়তো ২২ এপৃল পুরো দিন সময় নেবে। আদালতের সিদ্ধানত্দের পাশাপাশি লন্ডনে শেখ হাসিনা কি করেন, সেটা দেখেই রবিবার রাতে তারা সিদ্ধানত্দ নেবেন।

Source:http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=6836

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: