তিতাসে পুড়ছে লাখ লাখ টাকার গ্যাস

দেশের সর্ববৃহৎ গ্যাসফিল্ড তিতাসের কূপ থেকে অবিরাম গ্যাস নির্গমনের জের হিসেবে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আর কোনো আশঙ্কা নেই দাবি করা হলেও এখনো পর্যনত্দ গ্যাস বের হওয়ার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা যায়নি। বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার খনি বিশেষজ্ঞরা ৩নং কূপকে গ্যাস নির্গমনের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করলেও কেন এমনটি হচ্ছে সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি। তারা সমস্যার সমাধানে ৩নং কূপটি বন্ধ করতে গিয়ে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করে ফেলেন। তাদের অপরিপক্বতার কারণেই প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার গ্যাস পুড়িয়ে দিতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, গ্যাস পুড়িয়ে দেওয়ার কারণে সৃষ্ট আগুনের তাপ ও শব্দে এর আশপাশে বসবাসরত মানুষের মধ্যে প্রতিনিয়ত আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভূমি ফেটে যাচ্ছে। সমস্যার সমাধানে গতকাল শুক্রবার সকালে কানাডা থেকে আসা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কূপ বন্ধকরণ বিশেষজ্ঞ (ওয়েল কিলিং এক্সপার্ট) বব ডিন গ্রেস তিতাস গ্যাস ফিল্ডে পেঁৗছেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের এপ্রিল মাসের দিকে ১০নং কূপের পাশর্্ববতর্ী গ্রাম ও
বিলের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন বের\”তে থাকে। পাশর্্ববতর্ী তিতাস নদীতে বুদ্বুদ সৃষ্টি হয়। গ্রামের টিউবওয়েলের পানি উপচে তা অনবরত পড়তে থাকে। বিষয়টিকে প্রথমে পাত্তাই দেয়নি তিতাস গ্যাসফিল্ড করপোরেশন লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। পরে ৩নং কূপের কেসিংয়ে প্রেসার পরিলক্ষিত হলে টনক নড়ে তাদের। তখন উক্ত কূপটিকে গ্যাস নির্গমনের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তা বন্ধের জন্য বাপেক্সের মাধ্যমে কূপটি সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধানত্দ নেয় কতর্ৃপক্ষ। বাপেক্স গত ১৩ এপ্রিল কূপ কিলিং কার্যক্রম শুর\” করে, কিন\’ কিল করতে ব্যর্থ হয়। ফলে গ্যাস নির্গমন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পরে তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্যাস পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধানত্দ নেয়। গত ১৬ এপ্রিল ভোর ৪টা থেকে নির্গত হওয়া গ্যাসের চাপ ঠেকাতে ৪টি পথে গ্যাস নির্গমনের ব্যবস্থা করা হয়। এসব পথ দিয়ে নির্গমন হওয়া গ্যাস পুরো এলাকার বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাসহ ভয়াবহ বিপর্যয় এড়াতে কতর্ৃপক্ষ পাইপলাইনে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে গ্যাস পুড়িয়ে দিচ্ছে। যার ফলে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ ঘনফুট মিলিয়ন গ্যাস পুড়ে যাচ্ছে।
গতকাল পেট্রোবাংলার একটি টিমের সঙ্গে গ্যাস ফিল্ডে গিয়ে দেখা যায়, ৩নং কূপের একটিমাত্র পাইপ দিয়ে গ্যাস পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এখনো দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। আগুনের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৩নং কূপ সংলগ্ন শ্যামপুর, আনন্দপুর গ্রামের লইস্কা বিলের বিভিন্ন জায়গায় নির্গমন হওয়া গ্যাস থেকে আগুন জ্বলছে। কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে পুড়িয়ে দেওয়া গ্যাসের আগুনের শব্দ শোনা যায়। রাতে শব্দ প্রকট আকার ধারণ করে।
কানাডার কূপ কিলিং বিশেষজ্ঞ বব ডিন গ্রেস এসে সমস্যা চিহ্নিত করার পর কূপটি বন্ধ করে সমস্যার সমাধান করা হবে বলে পেট্রোবাংলার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন। বব গ্রেস গতকাল এসে যে সকল জায়গা দিয়ে গ্যাস লিকেজ হচ্ছে তা ঘুরে ঘুরে দেখছেন। বাপেক্সের ভূতত্ত্ব বিভাগের জিএম এম এ বাকী বলেন, এখন নির্গমন হওয়া গ্যাস অনেক নিয়ন্ত্রনে চলে এসেছে। বিপর্যয়ের আর কোনো আশঙ্কা নেই। প্রতিদিনই গ্যাসের চাপ কমে আসছে। আমরা এ পর্যনত্দ যা কিছু করেছি তার ডাটা বব গ্রেসকে দেওয়া হয়েছে। আজকালের মধ্যে বসে সিদ্ধানত্দ নেবো কী করা যায়।
তিতাস গ্যাসফিল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল আবেদীন জানান, আশঙ্কার আর কোনো কারণ নেই। সবকিছুই এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে প্রাথমিকভাবে ভয়াবহ বিপর্যয় এড়াতে গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণের জন্য গ্যাস পুড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধানত্দ নিই। গত ৩ দিনে ৭৫ লাখ টাকার গ্যাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত দুদিন ধরে ২৫ থেকে ২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রসেস প্লান্টে আনা সম্ভব হচ্ছে। অতিরিক্ত চাপ এড়াতে ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ডাক্ট) মুক্তাদির আলী বলেন, ৩নং কূপটি ৩৮ বছরের পুরোনো হওয়ায় পাইপের বিভিন্ন জায়গায় লিকেজ হয়ে গ্যাস নির্গমন হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি। সবকিছু এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে। বড়ো কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করি।
Source: http://bhorerkagoj.net/online/news.php?id=12814&sys=1

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: