দেশ ছেড়ে যাবো না, অভিযোগ মোকাবিলা করবো : খালেদা

বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, তিনি দেশ ছেড়ে যাবেন না। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে দেশের মাটিতে থেকেই তিনি তা মোকাবিলা করবেন। প্রচলিত আইনে যে বিচার হবে তা মেনে নেবেন। ইচ্ছার বাইরে কোনো আইনেই তাকে বিদেশ পাঠিয়ে দেওয়া যায় না। তিনি আরো বলেন, ঘরোয়া রাজনীতি চালু হলে দলের সকল স্তরে নেতৃত্বের পরিবর্তন আনা হবে। দুর্নীতিবাজদের বাদ দিয়ে বিএনপিকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহ গতকাল শুক্রবার একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের কাছে সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়া তাকে এ কথা বলেছেন বলে জানান। এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহ বলেন, আপাতত শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে না। তবে ঘরোয়া রাজনীতি শুরু হওয়ার পর জাতীয় স্থায়ী কমিটি, নির্বাহী কমিটি এবং অঙ্গসংগঠনগুলোতেও নেতৃত্বের পরিবর্তন আনা হবে।

মহাসচিব পদে পরিবর্তন আনা হবে কি? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মহাসচিব পদেও পরিবর্তন আনা হতে পারে। কারণ বর্তমান মহাসচিব আবদুল মান্নান ভুঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। এ অবস্থায় তিনি দলের পক্ষে কোনো ভূমিকা পালন করতে পারছেন না। এছাড়া অনেকেই তাকে মহাসচিব পদে যোগ্য মনে করে না। তবে তিনি যদি তার যোগ্যতার প্রমাণ দিতে না পারেন তাহলে অন্য কাউকে এ পদে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, আমাকেও দেওয়া হতে পারে।

এদিকে কোনোভাবে ওপর মহলকে ম্যানেজ করে দেশে থাকা যায় কিনা সে কৌশল নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। আবার কৌশল ব্যর্থ হলে বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারেও তিনি যাবতীয় প্রস্ততি নিয়ে রেখেছেন। তবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরত আসার ব্যাপারে শেষ পর্যন্ত সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয় তা দেখে খালেদা জিয়া দেশ ছাড়বেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছেন।
অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, কালক্ষেপণ করলেও কোনো অজুহাতই খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রা ঠেকাতে পারবে না। এদিকে খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দী করে রাখা প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বাবুল চৌধুরীর করা উচ্চদালতে রিট আবেদনের পক্ষে দলীয় কোনো আইনজীবী শুনানিতে অংশ না নেওয়ায় বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

যেকোনো মুহূর্তে খালেদা জিয়া ছোট ছেলে কোকোকে নিয়ে দেশ ছেড়ে যেতে পারেন এমন গুঞ্জন গত কয়েকদিন ধরে চলতে থাকলেও তিনি কবে যাবেন তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে ধারণা করা হচ্ছে কাল-পরশু সৌদি আরবের উদ্দেশে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখনো ক্যান্টনমেন্টের বাসায় কার্যত গৃহবন্দী। সেই সঙ্গে তার সঙ্গে কাউকে দেখা করতেও দেওয়া হচ্ছে না। টেলিফোন সংযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ বিষয়টি উত্থাপন করে গত বৃহস্পতিবার বাবুল চৌধুরী হাইকোর্টে যে আবেদন করেছেন তার পক্ষে শুনানিতে দলীয় কোনো আইনজীবী অংশ নেননি। তবে ৮-১০ বছর আগে দল থেকে বহিষ্কৃত স্থায়ী কমিটির সদস্য বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এ মামলার পক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়েছেন।
এ ঘটনাটি মাঠপর্যায়ের বিএনপি নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। তাদের প্রশ্ন, দলের সিনিয়র নেতা ও আইনজীবী খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমাদ, টিএইচ খান, হাবিবুল ইসলাম ভুঁইয়া, জয়নাল আবেদীনসহ অনেকেই খালেদা জিয়া ইস্যুতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হননি। একজন দলীয় সমর্থক রিট করার সাহস দেখালেও দলীয় সিনিয়র আইনজীবীদের কেউই তাকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেননি, যা খুবই দুঃখজনক। কিন্তু দীর্ঘ দিন আগে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া খালেদা জিয়ার পক্ষে করা আবেদনের শুনানিতে অংশ নেওয়ায় সর্বস্তরের দলীয় নেতাকর্মীর প্রশংসা অর্জন করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জোট সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অসন্তষ্ট থাকায় এখন দলের সিনিয়র আইনজীবীদের মধ্যে কেউই তাকে আইনি সহায়তা দিতে চাচ্ছেন না, বরং নিরাপদ দূরত্বে থেকে তারা নিজেরা বিপদমুক্ত থাকার চেষ্টা করছেন। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-04-21

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: