হিসাব দিতে না পেরে হাউস বিল্ডিং জিএমের আত্বহত্যা!

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও অফিসের হিসাব দিতে না পেরে হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (এইচবিএফসি) মহাব্যবস্থাপক (জিএম) দেওয়ান আবদুল হক (৫৭) আত্বহত্যা করেছেন। তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, অফিসের হিসাব সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে তিনি মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। ওই অস্থিরতা থেকেই গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্বহত্যা করেন। এছাড়া সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দেওয়ান আবদুল হকের সম্পত্তির হিসাব চেয়ে চিঠি দেয়। চিঠি পাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তবে পুলিশ বলেছে, ফাঁস দিয়ে আত্বহত্যার যথেষ্ট চিহ্ন লাশে পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের পর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম জানান, কয়েকদিন আগে অফিস থেকে তার কাছে হিসাব দাখিল করার জন্য চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু তিনি হিসাব মেলাতে গিয়ে বড় ধরনের ঘাপলা দেখতে পান। কিছুতেই হিসাব মেলাতে পারছিলেন না। এ নিয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। গভীর রাত পর্যন্ত হিসাব নিয়ে কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার রাত ৩টা পর্যন- তিনি ড্রংইরুমে বসে কাজ করেছেন। পরে তিনি সন্তানদের নিয়ে বেডরুমে ঘুমুতে যান। তখন তার স্বামী তাকে কাজ শেষ হলে ঘুমুতে যাবেন বলে জানান। রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্বামীকে ডাকতে গিয়ে তিনি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। নিহতের মামাতো ভাই শফিউল আজম জানান, খবর পেয়ে তিনি বাসায় ছুটে গিয়ে আবদুল হকের লাশ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে আনেন। পরে তাকে নেয়া হয় ধানমণ্ডির সেন্ট্রাল হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, কিছুদিন আগে থেকে আবদুল হক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। প্রায় সময়ই বাসায় একাকী থাকতেন। ফোন এলে আঁতকে উঠতেন। তবে পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি কিছুই বলতেন না।

অপর একটি সূত্র বলেছে, সম্প্রতি দুদক দেওয়ান আবদুল হকের সম্পত্তির হিসাব চেয়ে চিঠি দেয়। চিঠি পাওয়ার পর তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এ কারণে তিনি আত্বহত্যা করতে পারেন বলে সূত্রটি দাবি করে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ সেন্ট্রাল হাসপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। নিহত দেওয়ান আবদুল হক তিন সন্তানের জনক। তার বাবার নাম দেওয়ান সাজু মিয়া। গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার মধ্যপুকুর পাড়ে। আবদুল হকের মৃত্যুর ব্যাপারে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ জানায়, মৃত্যুটি রহস্যজনক। আত্বহত্যার যথেষ্ট ‘সিনটম’ তার দেহে নেই। মাথার পেছনে এবং গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রটি দাবি করেছে। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-04-21

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: