যাই ঘটুক না কেন, দেশে ফিরবোই : শেখ হাসিনা

সরকারের ঘোষিত সতর্কতা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার বিষয়ে তার দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা ঘোষণা করেছেন। গতকাল শনিবার বিবিসির সঙ্গে দেয়া এক সাৰাৎকারে শেখ হাসিনা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, জীবন দিয়ে হলেও তিনি তার দেশের মাটিতে ফিরে আসবেন।
তিনি দেশে ফিরে না আসার সিদ্ধানত্দ নিয়েছেন এমন কথা উঠেছে_ জানালে তিনি ৰুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘এ সংবাদ কে দিল? আমি বলতে চাই, আমি এ ধরনের সিদ্ধানত্দ নিইনি। আমি তো কালই রওনা হচ্ছি। আমি আগামীকালই ঢাকায় যাবো। আমি আমার সিদ্ধানত্দে অটল। আমি আমার দেশের মানুষের কাছে যাবো। আমি জাতির জনকের কন্যা। আমি আমার দেশের মানুষকে ছেড়ে বেশিদিন থাকতে পারি না।’

আমেরিকা কিংবা বৃটেন সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে পারেন কি না_ এ প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রশ্নই ওঠে না। আমি এখন রাজনৈতিক আশ্রয় কেন নেবো? এটা আমার দুর্ভাগ্য, আমার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করছে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এটা ভাবতেই পারি না, এটা আমার কল্পনার বাইরে। আমি এসেছিলাম এক মাসের জন্য। উপদেষ্টার সঙ্গে আমার কথাও হয়েছিল এবং তারা ভালো করেই জানে আমি এসেছিলাম আমার অসুস্থ পুত্রবধূকে দেখতে, আমার মেয়েকে দেখতে। আমার মেয়ের বাচ্চা হবে আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে। তখন আবার আমাকে আসতে হবে। হঠাৎ আমি শুনলাম, আমাকে নাকি দেশে যেতে দেয়া হবে না। ওয়াশিংটনে আমি যখন টিকেট চেকিং করতে গেলাম, তখন বৃটিশ এয়ারওয়েজ থেকে জানালো_ আপনি কি জানেন, আপনার দেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। আমি বললাম, হ্যা আমি শুনেছি এবং আমি কাল এয়ারপোর্টে যাবো। আমি আশা করবো সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। আমার যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং আমাকে যেতে দিতে কোনো ধরনের বাধা দেবে না। যদি বাধা দেয়, আমাকে এ জীবন দিয়ে হলেও দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে আর কোথাও কোনো দেশে এ রকম না হয়। আমি দেশে ফিরতে পারবো না এমন কোনো চিনত্দাই করছি না।

বাংলাদেশে টিভি চ্যানেলে প্রচারিত সংবাদে নেত্রী দেশে ফিরছেন না_ এমন সংবাদে নেতাকর্মীরা আশঙ্কাগ্রসত্দ। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে প্রতিদিন আমার দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা হচ্ছে। তারা সবাই জানে বিষয়টি। কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতাদের সবাইকে বলে দিয়েছি। বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য, বিভিন্ন সময় সূত্রের কথা ধরে ধরে অনেক বিভ্রানত্দ ছড়ায়। এ খবরটা আমি পেয়েছি এবং আমার সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলেছি। সে সবাইকে জানিয়েছে, আমার দেশে না ফেরার খবরটি ঠিক নয়।’

বিবিসির সাৰাৎকারে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আমি আমার দেশের মাটি ও মানুষের কাছে ফিরে যেতে চাই, আমাকে গ্রেফতার করম্নক অথবা হত্যা করম্নক। কি করবে, একটা বুলেট খরচ করবে? আমার ওপর তো গ্রেনেড হামলাও হয়েছে। কিন্তু বেচে গেছি। হায়াত-মউত আলস্নাহর হাতে। কাজেই যা ভাগ্যে আছে হবে। কিন্তু আমাকে কেন বাধা দেবে? আমি এ দেশের নাগরিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা হয়েছে আমার পিতা জাতির জনক শেখ মুজিবের নেতৃত্বে। এ দেশের স্বাধীনতার জন্য যিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। আমি নিজে রাজনীতি করেছি দেশের মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য এবং আমি সবকিছু ত্যাগ করে বাংলাদেশের মানুষের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছি। কাজেই যা-ই ঘটুক না কেন, আমি বাংলাদেশে যাবোই যাবো।’

বাংলাদেশে ঢোকার সময় এয়ারপোর্টেই যদি নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে বাধা দেয় তখন তিনি কি করবেন। কারণ সরকারের আদেশ মানতে তারা বাধ্য। এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, ‘তখন অবস্থা অনুযায়ী তাকে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তিনি বলেন, তিনি এয়ারপোর্টে যাবেন, চেষ্টা করবেন দেশে ঢোকার। যদি না দিতে চায় তাহলে চিনত্দা করবেন কিভাবে কি করা যায়।

বৃটিশ সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেত্রীর সাৰাৎ হয়েছে। তার দেশে ফেরার নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে তাদের অভিমত জানতে চাইলে হাসিনা বলেন, ‘আমাকে কেন দেশে ফিরতে দিচ্ছে না, এ ব্যাপারে তারাও চিনত্দা করছেন। আমাকে দেশে যেতে না দেয়ার ব্যাপারটি তারা একদমই পছন্দ করছেন না। আমার দেশে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশে তারা আমাকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের কাছে আমি এ বিষয়ে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। অনেক এমপিও আমার দেশে যাওয়ার বিষয়ে খোজখবর নিচ্ছেন।’

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=6976

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: