শেষ মুহূর্তে খালেদার দেশত্যাগ বিলম্বিত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সপরিবারে সৌদি আরব যাওয়া নিশ্চিত হলেও শেষ মুহূর্তে তা বিলম্বিত হয়েছে। আজ সকালে তিনি সৌদি আরবের উদ্দেশে দেশত্যাগ করতে পারেন। তবে কোন সূত্র থেকেই এই জটিলতার সুস্পষ্ট কারণ জানা যায়নি। শনিবার রাত ১০টায় এমিরেটস এয়ারের একটি ফ্লাইটে তার যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন- তা হয়নি। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, একটি বিশেষ বিমান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রস\’ত রাখা হয়েছিল। নিরাপত্তার কারণে এই বিশেষ বিমানে যেতে তিনি রাজি হননি। সরকারের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ও মেয়ে, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান, তার স্ত্রী ও দুই কন্যা, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, তার স্ত্রী ও সন-ান এবং ৪ জন কাজের লোকসহ তিনি সৌদি আরব যাচ্ছেন। অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, বেগম জিয়ার সঙ্গে তারেক রহমানের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু ও বেগম জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউকও থাকছেন। সৌদি আরবে অবস্থানকালে তিনি পবিত্র ওমরাহ্ হজ পালন করবেন এবং এখানে তিনি কতদিন অবস্থান করবেন সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। এই খবরের সূত্র ধরে বিকাল থেকেই বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা জিয়া আন-র্জাতিক বিমানবন্দরে ভিড় করেন। এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার দেশত্যাগের প্রস\’তি হিসাবে শনিবার ভোর সাড়ে ৬টায় বিশেষ ব্যবস্থায় কারাবন্দি তারেক রহমানের সঙ্গে সিএমএইচ-এ দেখা করেন। তারেক রহমানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেয়ার সময় সিএমএইচ-এ নেয়া হয় এবং এসময় বেগম জিয়া ছাড়াও তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, একমাত্র কন্যা জাইমা ও ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোও তার সঙ্গে দেখা করেন। এ সাক্ষাৎ ৩০ মিনিটের বেশি সময় স্থায়ী হয় বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর থেকেই বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সপরিবারে অন্যান্য সদস্যকে নিয়ে বিদেশে যাওয়ার জন্য বলা হয়। কিন\’ সংশ্লিষ্ট মহলের এই পরামর্শ সে সময় বেগম জিয়া আমলে নেননি। এর মধ্যে দুনর্ীতির অভিযোগে একের পর এক দলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং প্রভাবশালী মন্ত্রীদের গ্রেফতার, বিভিন্ন নেতা ও মন্ত্রী ও এমপিদের বাড়ি থেকে ত্রাণের টিন, শাড়ি, বিস্কুট ও কম্বল উদ্ধার শুরু হলে সমস- দেশ জুড়ে বিএনপির বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হতে থাকে। এসময় বেগম জিয়া দলের সিনিয়র নেতাদের একাধিকবার ডেকেও কাছে পাননি। এই অবস্থার মধ্যে গত ৭ মার্চ রাতে বেগম জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে যৌথ বাহিনী দুনর্ীতির অভিযোগে গ্রেফতার করে। এর পর বেগম খালেদা জিয়া মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়েন। তার পরও ছোট ছেলে কোকোকে নিয়ে সপরিবারে বিদেশে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকে। কিন\’ বেগম জিয়া তখন অনমনীয় মনোভাব ব্যক্ত করেন। গত ১০ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট মহল থেকে বেগম জিয়াকে ১৭ এপ্রিলের মধ্যে দেশত্যাগ করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। তখনও তিনি সম্মত না হওয়ায় ১৫ এপ্রিল মধ্যরাতে যৌথ বাহিনী আরাফাত রহমান কোকোকে আটক করে। এর পরেই বেগম জিয়া মানসিকভাবে নমনীয় হন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও হয়। ‘সমঝোতা’ বৈঠকের পর পরদিন মধ্যরাতেই কোকোকে বাসায় ফেরত পাঠানো হয়। এর পর থেকেই বেগম জিয়ার সৌদি আরব যাওয়ার বিভিন্ন প্রস\’তি শুরু হয়। প্রতীক্ষার পালা শুরু হয় কখন তিনি সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা তার পর থেকেই জিয়া আন-র্জাতিক বিমানবন্দরে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পালা করে অপেক্ষা করতে থাকেন।

এ দিকে বেগম জিয়া দেশত্যাগের আগে দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনবেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তার বরাত দিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার (অব.) আসম হান্নান শাহ অসুস্থতার কারণে দলের মহাসচিব রদবদলসহ বিভিন্ন কমিটি ভেঙে দেয়ার কথা বলেন। এ নিয়ে দলের ভেতর তোলপাড় শুরু হয়। শনিবার সকালে মহাসচিব মান্নান ভূঁইয়ার বাসায় দলের অর্ধশতাধিক নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও এমপি তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি কোন গুজবে বিভ্রান- না হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।
সূত্রঃ http://jugantor.com/online/news.php?id=60445&sys=1

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: