একই ব্যক্তি বারবার দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন নাঃ ব্যারিস্টার মইনুল

আইন ও তথ্য উপদেষ্টা মইনুল হোসেন বলেছেন, রাজনীতির পট পরিবর্তনের পর থেকে সরকার দলীয় রাজনীতিতে পরিবর্তনের কথা বলে আসছে। এতদিন দলীয় রাজনীতিতে রাজনীতি বলে কিছু ছিল না। দলগুলোতে ব্যক্তিগত আনুগত্য ও পরিবারতন্ত্র ছিল। দলগুলো চলেছে ব্যক্তিকেন্দ্রীকভাবে। কিন্তু কোনো নেতা ব্যর্থ হলে তার নিজেরই নেতৃত্ব থেকে চলে যাওয়া উচিত।
তিনি রাজনৈতিক সংস্কারের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, একই ব্যক্তি বারবার প্রধানমন্ত্রী হবেন বা একটি দলের প্রধান হবেন, তা হতে পারে না। এটা লজ্জার বিষয়। দলের ভেতরেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকতে হবে। দলীয় প্রধানের পরিবারে কেউ যোগ্য থাকতে পারে, তাকেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আসতে হবে। গতকাল আইন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। ঘরোয়া রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার বাসায় দলীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক এবং টিভি চ্যানেলে আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা তো ভালোই করেছেন। রাজনৈতিক দলগুলো তো নিষিদ্ধ করা হয়নি। দলীয় রাজনীতি সংস্কারে যারা কাজ করছে, সরকার তাদের প্রতি সহনশীল। সরকার তাদের সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, রাজনীতিহীন দলগুলোর কারণে দলীয় রাজনীতিই আমাদের জন্য বড় সঙ্কট ছিল। বর্তমানে পরিবর্তনের আলোকে সৎ ও ভালো রাজনীতিকরা আবারো রাজনীতি নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন, এতদিন দলগুলোতে প্রকৃত রাজনীতিকরা বঞ্চিত ও নিগৃহীত ছিলেন। প্রকৃত রাজনীতিক ও দেশের মানুষ প্রতিটি পদেই অসহায় ছিলেন, লজ্জিত ও দুঃখিত হয়েছেন। এ সুযোগে কেউ কেউ দুর্নীতি, ভূমি দখল ও লাম্পট্য করে চলেছে। দলীয় রাজনীতিতে পরিবর্তন ও সংস্কারে প্রকৃত রাজনীতিকরা এগিয়ে আসছেন। এতে আমরা খুশি। বর্তমান সরকার চায় সৎ লোকেরা রাজনীতিতে আসুন এবং থাকুন। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। পরিবর্তন এলে জরুরি অবস্থা তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। আমরা রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভালো লোকের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই।

দ্রুত নির্বাচন দিতে রাজনীতিকদের দাবির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের সরকার দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও দেশকে ঠিক রাখার জন্য কাজ করছে। আমরাও নির্বাচন দিতে চাই। কিন্তু তার আগে রাজনীতিকদের বলতে হবে, তারা কিসের জন্য নির্বাচন চান, কেমন নির্বাচন চান। সৎ সরকারই যদি না পাই, আবারো যদি চোর-ডাকাতরা নির্বাচনে জয়ী হয়, তবে নির্বাচন দিয়ে কী লাভ। জাতীয় সরকার গঠনের উদ্যোগ কোন পর্যায়ে রয়েছে, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় সরকারের মানে কী। এটাই তো আমি জানি না। জাতীয় সরকারের কথা বলছেন, তবে আমরা কী। আমরা কি আন্তর্জাতিক সরকার। আসলে সব সরকারই জাতীয় সরকার। জাতীয় সরকার বলে আর কিছু নেই।
অতীত রাজনীতির সমালোচনা করে উপদেষ্টা মইনুল হোসেন বলেন, অন্ধ লোকও রাজনীতি করতে পারে, কিন্তু বোবা কখনো রাজনীতি করতে পারে না। কারণ বোবা কথা বলতে পারে না। অথচ নিকট অতীতে আমাদের দেশের রাজনীতি ছিল ‘উইদাউট ডায়লগ’। তারা নির্বাচন করবে, রাজপথে আন্দোলন করবে, হরতাল করবে; কিন্তু সংসদে যাবে না। এটা কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হতে পারে না।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, অনেকের দুর্নীতি নিয়েই সরকার কাজ করছে। কিন্তু সবার দুর্নীতি নিয়ে কাজ করতে গেলে তো সরকার আসল কাজই করতে পারবে না। এতে দেশে শান্তিও আসবে না। সরকার যতটুকু পারছে করার চেষ্টা করছে। যারা বাদ পড়ছেন প্রচলিত আইনেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-04-23

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: