খালেদা জিয়াকে কেন আদালতে হাজির করা হবে না জানাতে বলেছে হাইকোর্ট

বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়নি তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এবং আদালতের সন্তষ্টির জন্য তাকে কেন আদালতের সামনে হাজির করা হবে না আগামী ৫ দিনের মধ্যে তা আদালতকে জানানোর জন্য হাইকোর্ট সরকারের ওপর রুল জারি করেছে। বিচারপতি মোঃ আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা ও বিচারপতি মোঃ এমদাদুল হক সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গতকাল রোববার এই রুল জারি করেন।

খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে এবং তাকে বিদেশ পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে খালেদা জিয়ার পারিবারিক বন্ধু বিএনপি নেতা খন্দকার বাবুল চৌধুরী গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের এই বেঞ্চে একটি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দায়ের করেছিলেন। পিটিশনে বলা হয়েছিল খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে, তার সঙ্গে কাউকে (নির্ধারিত ৪ জন ছাড়া) দেখাসাক্ষাৎ করতে দেওয়া হচ্ছে না, বাসার টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং তাকে বিদেশ চলে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এই আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত খালেদা জিয়ার ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আদালতের উদ্বেগের কথা সরকারের
সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করার জন্য সরকারের আইন কর্মকর্তা অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ২৩ এপ্রিল রোববারের মধ্যে খালেদা জিয়ার অবস্থান আদালতকে জানানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। এছাড়া রোববার পর্যন্ত খালেদা জিয়ার স্বাধীন চলাচলের ওপর কোনো বাধা সৃষ্টি না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

আদালতের এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার বেলা পৌনে ১২টায় অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল সালাউদ্দিন আহমেদ আদালতে মৌখিকভাবে জানান খালেদা জিয়াকে অন্তরীণ বা আটক দুটোর কোনোটাই করা হয়নি। তিনি মুক্ত আছেন। কিন্তু আদালত সরকারি আইন কর্মকর্তাকে এই বক্তব্য মৌখিকভাবে না দিয়ে লিখিতভাবে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং বেলা দুটায় লিখিতভাবে তা আদালতকে জানানোর জন্য সময় নির্ধারণ করেন।

বেলা দুটায় আদালতে বিচারকাজ শুরু হলেও অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল সালাউদ্দিন আহমেদ পৌনে ৩ টায় হলফনামা করে লিখিত জবাব দাখিল করে জানান খালেদা জিয়া অন্তরীণ বা আটক নন। তিনি মুক্ত আছেন। সরকারি আইন কর্মকর্তার এই সংক্ষিপ্ত জবাবে আদালত অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়ে আবেদনকারীর আবেদনের ওপর দৃষ্টিপাত করে বলেন, আবেদনে বলা হয়েছে খালেদা জিয়ার বাসার টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং তার সঙ্গে কাউকে দেখাসাক্ষাৎ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

আদালতকে এসবের সত্যতা জানানোর জন্য আপনাদের (সরকারকে) ৩ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল কিন’ এ সময়েও আপনারা বিস্তারিত জানাতে পারলেন না। সরকারি আইন কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, স্পষ্ট করে বলুন খালেদা জিয়া স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছেন কি না? এটা সিরিয়াস মেটার। জবাবে অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল বলেন, আমি নিশ্চিত হয়েই বলছি খালেদা জিয়াকে আটক বা অন্তরীণ কিছুই করা হয়নি। তিনি মুক্ত আছেন। মুক্ত না থাকলে তিনি কীভাবে তার কারাবন্দী ছেলেকে দেখতে যান?

এরপর আবেদনকারীর আইনজীবী এডভোকেট আজিজুল হক বলেন, খালেদা জিয়া মুক্তভাবে চলাচল করতে পারছেন না। তার বাসার সব টেলিফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আদালতের সামনে খালেদা জিয়াকে হাজির করার আবেদন জানিয়ে বলেন, আদালতের উচিত খালেদা জিয়া যে অন্তরীণ নন না নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকে আদালতের সামনে হাজির করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া। এ ছাড়া খালেদা জিয়াকে জোর করে বিদেশ পাঠানোর যে প্রক্রিয়া চলছে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য আদালতের কাছে প্রার্থনা জানানো হয়।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত খালেদা জিয়াকে যে অন্তরীণ রাখা হয়নি তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এবং আদালতের সন’ষ্টির জন্য তাকে আদালতের সামনে কেন হাজির করা হবে না আগামী ৫ দিনের মধ্যে তা জানানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব , যৌথবাহিনীর কমান্ডার, ডিএমপি কমিশনার ও ঢাকার ডিসির ওপর রুল জারি করেন। খালেদা জিয়াকে আদালতের সামনে হাজির করার জন্য এবং তাকে যাতে জোর করে বিদেশ পাঠানো না হয় এর ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে যে আবেদন করা হয়েছিল আদালত তা নামঞ্জুর করেন। এছাড়া আদালতের এই আদেশ কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ নয় বলে আদালত জানান।
এদিকে আদালতের এই আদেশের ফলে খালেদা জিয়া কতোটুকু আইনি সুবিধা পাবেন এ নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত জানতে চাইলে তারা জানান হাইকোর্টের এই রুলের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়া বিশেষ আইনি সুবিধা পাবেন বলে মনে হয় না। কারণ সরকার থেকে বলা হয়েছে খালেদা জিয়া অন্তরীণ নন এবং আটকও নন। ৫ দিন পর সরকার একই জবাব দাখিল করে বলবে যে, যেহেতু খালেদা জিয়া আটক নন ফলে তাকে আদালতের সামনে হাজির করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। তবে আদালত যদি খালেদা জিয়াকে আদালতের সামনে হাজির করার নির্দেশ প্রদান করতেন সে ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র হতো। কিন্তু আবেদনকারীর এই আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেন। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-04-23

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: