ঢাকা ফেরা হলো না শেখ হাসিনার

জাজিরা ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বোর্ডিং পাস না পেয়ে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ফিরে গেলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সরকারের বিধিনিষেধ থাকার কারণে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে তাকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ঢাকাগামী বিমানে উঠতে দেয়া হয়নি।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক সচিব সাবের হোসেন চৌধুরী গতকাল রাতে নয়া দিগন্তকে জানান, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বাংলাদেশ সময় সনধ্যা সাড়ে ৬টায় বিমানবন্দরে যান। কিন্তু তাকে বোর্ডিং পাস না দেয়ার কারণে তিনি বাসায় ফিরে গেছেন।

এদিকে আল জাজিরা টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আমি আমার দেশের মানুষের কাছে ফিরে যেতে চাই। এটা আমার দেশ। দেশে যাওয়ার ব্যাপারে বাধা দেয়ার কোনো অধিকার তাদের নেই। তিনি বলেন, আমি আমার আদর্শের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। আমি জানি, আমি নিজে কোনো অন্যায় করিনি। আমার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনার পরপরই আমি দেশে ফিরে মামলা মোকাবেলার প্রস্তুতি গ্রহণ করি। কিন্তু তারা আমার দেশে ফেরার পথে বিধিনিষেধ আরোপ করল। তিনি বলেন, যদি আমি অভিযুক্ত হই, তাহলে অবশ্যই আমার আত্মপক্ষ সমর্থন করার অধিকার থাকতে হবে।

বিবিসি জানায়, বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার কয়েক দিন আগে ঘোষণা করে, শেখ হাসিনা জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকিস্বরূপ এবং সে কথা তারা বিমান সংস্থাগুলোকেও জানিয়ে দিয়েছেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার খবর সংগ্রহের জন্য লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বিবিসি’র সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনা লন্ডনের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় বিমানবন্দরের চার নম্বর টার্মিনালে এসে পৌঁছান এবং তারপরই তিনি তার সঙ্গীদের সাথে নিয়ে টার্মিনাল ভবনের ভেতরে যান। সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এ উপলক্ষে এখানে নিরাপত্তা কড়াকড়ি করা হয়েছে। সেখানে তার সাথে ছোট বোন শেখ রেহানা এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ছিলেন। তার সঙ্গীরা ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের কর্মকর্তাদের সাথে কথাবার্তা বলেছেন। মোয়াজ্জেম হোসেন আরো জানান, শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে আসার সাথে সাথেই সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরেন। অনেকেই তার কাছে নানা বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। ঢাকায় যাওয়ার জন্য ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ যদি তাকে বোর্ডিং পাস না দেয় সে ক্ষেত্রে তিনি কী করবেন জানতে চাওয়া হলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগে দেখি, আমাকে পাস দেয়া হয় কি না। তারপর কী হয় সেটি আমি বলতে পারছি না। তবে আমি চেষ্টা করব। দেখি কী হয়।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঢাকায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ মামলা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা এবং যেকোনো পরিস্থিতিরই তাকে মুখোমুখি হতে হোক না কেন, তিনি ঢাকা ফিরে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। শেখ হাসিনার সাথে যারা আছেন তারা কেউ কিছু বলেছেন কি না জানতে চাওয়া হলে মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, আওয়ামী লীগের এখানকার কয়েকজন নেতার সাথে আমার কথা হয়েছে। তারা বলেছেন, শেখ হাসিনা এ মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখেননি। এখানকার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। যুক্তরাজ্যের আরেকজন আওয়ামী লীগ নেতা জানিয়েছেন, যদি তাকে যেতে দেয়া না হয় সে ক্ষেত্রে তিনি হয়তো লন্ডনে দু-এক দিন থাকবেন। তারপর তিনি তার পরবর্তী কর্মপন্থা ঠিক করবেন। বিবিসি বাংলা স্টুডিও থেকে মোয়াজ্জেম হোসেনকে আরো প্রশ্ন করা হয়, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না। মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, বিমানবন্দরে অবস্থানরত ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের এক কর্মকর্তাকে আমি এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছেন, তারা এ সম্পর্কে কোনো কিছু বলতে পারবেন না। তাদের যে প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট আছে তাদের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে হবে।

হিথ্রো ছাড়ার সময় শেখ হাসিনা ছিলেন হতাশ ও ক্ষুব্ধ দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ফিরে যাওয়ার সময় শেখ হাসিনা সেখানে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের কাছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ তাকে বলেছে, বাংলাদেশ সরকার ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষকে লিখিত চিঠি দিয়ে তাকে না নেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে এবং সেই পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ তাকে ঢাকাগামী বিমানে তুলতে পারছে না। শেখ হাসিনা বিমান কর্তৃপক্ষের এ ভাষ্য সম্পর্কে বলেন, তারা ওই চিঠি আমাকে দেখিয়েছেন।
কেন আপনাকে যেতে দেয়া হলো না তা সরকারের কাছে লিখিতভাবে জানতে চাইবেন কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখানে ব্রিটিশ সরকারকে জিজ্ঞেস করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে ইতোমধ্যে জানতে চাওয়া হয়েছে।

লন্ডনের স্থানীয় সময় বেলা ২টায় শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে পৌঁছেন। হিথ্রো বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনাল থেকে বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিমান শেখ হাসিনাকে না নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। শেখ হাসিনা যখন বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসেন তখন তাকে বেশ হতাশ ও ক্ষুব্ধ মনে হচ্ছিল।
শেখ হাসিনা তার প্রতিক্রিয়ায় আরো বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে হচ্ছে সিএমএম কোর্ট। সিএমএম কোর্ট গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে জেনেও আমি দেশে যেতে চাচ্ছি। যা-ই হোক আমি মোকাবেলা করব। অথচ তারা আমাকে যেতে দেবে না।
আপনারা জানেন আমাদের চিফ অ্যাডভাইজার ফখরুদ্দীন আহমেদ। তার অধীনে হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাহলে আমরা তাকেই জিজ্ঞেস করি যে, একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিএমএম কোর্ট ওয়ারেন্ট ইস্যু করে আবার ওই হোম মিনিস্ট্রি কী করে আমার যাওয়া বনধ করে? এটা কোন ধরনের কথা আমাকে বলেন তো? Source:দৈনিক নয়া দিগন্ত
Date:2007-04-23

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: