অব্যবস্থাপনা ও লোকসানে খুলনার শিল্প কারখানাগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে

কর্তৃপৰের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি, অব্যাহত লোকসান, চলতি মূলধনের অভাব, অনিয়মিত বিদু্যৎ সরবরাহ এবং শ্রমিক অসনত্দোষের কারণে শিল্প নগরী খুলনায় একের পর এক শিল্প কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে খুলনার ১৪/১৫টি সরকারি-বেসরকারি জুট মিলসহ ছোট-বড় শতাধিক শিল্প কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সম্প্রতি খুলনাঞ্চলের ৮টি রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিলের মধ্যে চারটি জুট মিল লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে। অব্যাহত লোকসানের কারণে বাকি চারটি জুট মিলও বন্ধের পথে। এদিকে বিগত কয়েক বছরে একের পর এক শিল্প কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দু’ লৰাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে গেছে। এক সময়ের শিল্প নগরী খুলনা বর্তমানে পরিণত হয়েছে মৃত শিল্প নগরীতে।

উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, কাঁচামালের সহজলভ্যতা ও কম খরচে শ্রমিক পাওয়ার সুবিধার কারণে গত ৫০-এর দশক থেকে খুলনায় নিউজপ্রিন্ট মিল্স, হার্ডবোর্ড মিল্স, দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরী, আফিল জুট মিল্স, সোনালী জুট মিল্স, দৌলতপুর জুট মিল্স, পস্নাটিনাম জুবিলি জুট মিল্স, ক্রিসেন্ট জুট মিল্স, পিপল্স জুট মিল্স, স্টার জুট মিল্স, এ্যাজাক্স জুট মিল্স, আলিম জুট মিল্স, ইস্টার্ণ জুট মিল্স, লবণ ও হিমায়িত কারখানাসহ ছোট-বড় সহস্রাধিক শিল্প কলকারখানা গড়ে ওঠে। কিন্তু বছরের পর বছর অব্যাহত লোকসান দিতে দিতে ইতিমধ্যে দেশের একমাত্র নিউজপ্রিন্ট কারখানা খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল্স, খুলনা হার্ডবোর্ড মিল্স, দৌলতপুর জুট মিল্স ও খুলনা টেক্সটাইল মিল্সসহ ছোট-বড় শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে যে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান টিকে রয়েছে তার অধিকাংশই রম্নগ্ন। সূত্র জানায়, কতর্ৃপৰের অব্যবস্থাপনা, দুনর্ীতি, স্বজনপ্রীতি ও শ্রমিক অসনত্দোষ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের প্রধান কারণ। এ সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংক ঋণ ও বিদু্যৎ বিলসহ শ্রমিক-কর্মচারিদের শত কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এদিকে অব্যাহত লোকসান ও বকেয়া মজুরি পরিশোধ করতে না পারায় শ্রমিকদের তীব্র বিৰোভের মুখে সর্বশেষ গত শুক্রবার খুলনার ৮টি রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিলের মধ্যে পস্নাটিনাম জুবিলি জুট মিল্স, ক্রিসেন্ট জুট মিল্স, পিপলস জুট মিল্স ও স্টার জুট মিলস লে-অফ ঘোষণা করা হয়। লে-অফ ঘোষিত চারটি জুট মিলের কাছে বকেয়া মজুরি বাবদ শ্রমিকদের পাওনা রয়েছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। মিলগুলো লে-অফ ঘোষণা করার কারণে ২২ সহস্রাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। এছাড়া লোকসানের কারণে খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত অপর চারটি জুট মিলও বন্ধ হওয়ার পথে। এ মিলগুলোর শ্রমিক-কর্মচারিদের বেতন ও মজুরি প্রদান হয়ে পড়েছে অনিয়মিত।

এদিকে অধিকাংশ শিল্প কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুলনা মহানগরীর ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে। ইতিমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে পাশর্্ববর্তী যশোরের নওয়াপাড়া, রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে নতুন করে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরম্ন করেছে। অনেকে পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় যোগ দিয়েছে। ফলে শিল্প এলাকা বলে খ্যাত খুলনা মহানগরীর খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকা বর্তমানে প্রায় জনশূন্য। মিল কলোনীগুলোতে আগের মত নেই মানুষের ঠাসাঠাসি । নগরীর স্টেশন রোড, খালিশপুরের বিআইডিসি রোড ও দৌলতপুরের রেলগেটসহ শিল্প এলাকার রাসত্দাঘাট এখন ফাঁকা । একের পর এক শিল্প কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিক-কর্মচারিরা বেকার হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকে কাজের সন্ধানে খুলনা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। যে সকল শ্রমিক কাজের আশায় এখনও শিল্পাঞ্চলে রয়েছে তারা দিনমজুরি, রিকশা ও ঠেলাগাড়ি চালিয়ে কোনরকমে জীবনধারণ করছে।

সূত্রঃ http://www.ittefaq.com/get.php?d=07/04/24/w/n_zuvmyv

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: