আমিনুল হক ও দুলুসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট : জঙ্গি মদদ মামলা

সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাবেক সাংসদ নাদিম মোস্তফা ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শীশ মোহাম্মদসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় বাগমারা থানা পুলিশ রাজশাহীর প্রথম শ্রেণীর আমলি আদালত-৩-এ জঙ্গিদের মদদের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুটি মামলার চার্জশিট দাখিল করে।
বাগমারার পলাশী গ্রামের আইয়ুব আলী গত ১ এপ্রিল জঙ্গিদের মদদ দেয়ার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ওং সাবেক সাংসদ নাদিম মোস-ফাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া গত ৩০ মার্চ একই উপজেলার হাসানপুর গ্রামের লুৎফর রহমান জঙ্গি মদদের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শীশ মোহাম্মদসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অপর একটি মামলা দায়ের করেন। সোমবার এ দুটি মামলায় পুলিশ মোট ৫৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে।
১ এপ্রিল দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে বলা হয়, বৃহত্তর রাজশাহীতে জেএমবিকে মাঠে নামানোর ব্যাপারে সদ্য বিদায়ী চারদলীয় জোট সরকারের ক্ষমতাধর মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং সাবেক সাংসদ নাদিম মোস-ফার সক্রিয় ইন্ধন রয়েছে। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় ক্ষমতা, প্রভাব, দাপট আর প্রশাসন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স\’ানীয় চারদলীয় জোটের মন্ত্রী, সাংসদ ও নেতারা এ সময় জেএমবির ক্যাডারদের প্রশ্রয়দাতা হিসেবে আত্দপ্রকাশ করেন। আর এ কারণেই সে সময়ে জেএমবির ক্যাডাররা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আর এ কাজে ব্যারিস্টার হক, দুলু ও নাদিমকে বিভিন্ন তথ্য ও মন্ত্রণা দিয়ে প্রভাবিত করেছেন স\’ানীয় উল্লেখযোগ্য কয়েকজন চিহ্নিত বিএনপি ও জামায়াত নেতা। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী ও শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বাধীন জেএমবি ক্যাডাররা।
এজাহারে মামলার বাদী আইয়ুব আলী আরও বলেন, ২০০৪ সালের ৭ এপ্রিল তাকে বাংলা ভাইয়ের সশস্ত্র ক্যাডাররা তার পলাশী গ্রামের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করে তুলে নিয়ে কুখ্যাত রাজাকার হামিরকুৎসার রমজান কায়ার বাড়িতে নিয়ে যায়। এ অপহরণের কাজে নেতৃত্ব দেয় জেএমবির কিলিং ও প্ল্যানিং স্কোয়াডের দুর্ধর্ষ জঙ্গি মোশতাক আহমেদ ওরফে কিলার মোশতাক, মোশতাকের আপন মামা মামুন ওরফে বিএনপি মামুনসহ ১৫/২০ সশস্ত্র ক্যাডার। ওই সময় বাংলা ভাইয়ের অভিযান চলাকালে ৩টি টর্চার ক্যাম্প বাগমারা ও এর পার্শ্ববতর্ী এলাকায় ছিল। এ ৩টি টর্চার ক্যাম্পের মধ্যে হামিরকুৎসার ক্যাম্পটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। এ ক্যাম্পে তাকে নিয়ে আসার পর তার কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ সময় বাংলা ভাইয়ের ক্যাডারদের চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে সেখানে বাংলা ভাই উপস\ি’ত হয়। তার উপস\ি’তিতেই ক্যাডাররা তার ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালায় এবং দাবিকৃত চাঁদার টাকা বাংলা ভাই তাকে দিয়ে দিতে বলে। এ সময় তাকে হাত-পা বেঁধে মোটা বাঁশের লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে তিনি এক পর্যায়ে প্রাণে বাঁচার তাগিদে ৮০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন এবং এ টাকা তিনি জেএমবির শীর্ষ ক্যাডার কিলার মোশতাকের মামা মামুন ওরফে বিএনপি মামুনের হাতে দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেন। এজাহারে আইয়ুব আলী আরও বলেন, বিগত চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকার কারণে তিনি মামলা করতে পারেননি।
এদিকে ৩০ মার্চ ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও রাজশাহী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শীশ মোহাম্মদসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে বাগমারায় বাংলা ভাই বাহিনীর নির্মম নির্যাতনে পঙ্গু ও হাত-পা হারানো কৃষক বাদী লুৎফর রহমান উল্লেখ করেন, বৃহত্তর রাজশাহীতে জেএমবিকে মাঠে নামানোর ব্যাপারে সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ইন্ধন রয়েছে। আর এ কাজে ব্যারিস্টার হককে বিভিন্ন তথ্য ও মন্ত্রণা দিয়ে প্রভাবিত করেন তার শীর্ষ রাজনৈতিক সহযোগী শীশ মোহাম্মদ।

সূত্রঃ http://jugantor.com/online/news.php?id=60736&sys=1

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: