দুই উপদেষ্টার সাথে কথা বলেই যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা

সরকারের দুইজন উপদেষ্টার সাথে কথাবার্তা বলেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন। ভারতের একটি পত্রিকার সাথে সাক্ষাৎকারে তিনি তা স্বীকারও করেছেন। এই সফরের নেপথ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল বলেই তিনি যাওয়ার আগে উপদেষ্টাদের সাথে আলোচনা করেছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোন্‌ ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে সে সব বিষয়েও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে শেখ হাসিনার আলোচনা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুইজন এবং সম্পাদকমণ্ডলীর দুইজন নেতা সফর সম্পর্কে সব জানতেন বলে জানা গেছে।
এরপর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলা হয় এবং পরে ১৮ এপ্রিল তার দেশে ফেরার ওপর সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি দুবার চেষ্টা করেও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বোর্ডিং পাস পাননি। বর্তমানে তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশের মিডিয়ার সাথে কথা বলেন। ওই সব মিডিয়ায় তিনি তার বক্তব্য সপষ্ট করে তুলে ধরেন। তার একটি সাক্ষাৎকার গত ২১ এপ্রিল কলকাতার বাংলা দৈনিক স্টেটসম্যান পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়। ওই সাক্ষৎকারে তিনি বলেন, ‘সরকার বলছে আমি নাকি প্ররোচনামূলক বিবৃতি দিয়েছি। এ অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার দেশ কলঙ্কিত হয় এমন কোনো কাজ আমি করিনি। আসলে আমি ঢাকায় ফিরলে তাদের ক্ষমতায় থাকা বিপন্ন হতে পারে। এতেই তারা ভয় পাচ্ছে। আমি যুক্তরাষ্ট্র আসার আগে দুজন শীর্ষ উপদেষ্টা আমাকে নিশ্চিন্তে মাসখানেক ঘুরে আসতে বলেছিলেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে ভুল করেছিলাম। তাদের উদ্দেশ্য আমার কাছে জলের মতো সপষ্ট। আমাকে ফাঁদে ফেলতে চেয়েছিলেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। আমার ক্ষেত্রে তারা পাকিস্তান বা মিয়ানমারের কর্তাদের মতো আচরণ করছেন। বর্তমান সরকারকে আমরা সমর্থন করেছিলাম সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, তাদের কর্মসূচি আলাদা। নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমাণ করতে তারা আমাকে আর খালেদা জিয়াকে একই আসনে বসাতে চাইছেন।’ এদিকে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, দলীয় সভানেত্রী উপদেষ্টাদের সাথে সব বিষয়ে কথা বলেই পুত্রবধূকে দেখতে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন। উপদেষ্টারা তাকে সব বিষয়েই আশ্বস্ত করেছিলেন। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিএনপি নেত্রী, তার পরিবার ও বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়ার জন্যও নেত্রী উপদেষ্টাদের পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরামর্শ মতোই সব হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে নেত্রীকে আশ্বস্তও করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুইজন ও সম্পাদকমণ্ডলীর দুইজন নেতা সভানেত্রীর সফরের পুরো পরিকল্পনা জানতেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা গত ১৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে তিনি বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমরা ক্ষমতায় এলে সব কিছুর বৈধতা দেয়া হবে।’ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘সভা থাকতে কীর্তন শেষ করা ভালো।’ অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাচন বনধ থাকলে মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হবে। আর হতাশা থেকে বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শেখ হাসিনা তার আমেরিকা যাওয়ার কারণ উল্লেখ করে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, পুত্রবধূ ক্রিস্টিন অসুস্থ থাকার কারণে তিনি তাকে দেখতে যাচ্ছেন। এর আগে যখন সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছিল তখনও তিনি তার পাশে থাকতে পারেননি।
তার এই যাত্রা অনির্দিষ্টকালের জন্য কি না এক প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, এটা নিয়ে নানা ধরনের কথাবার্তা চলছে। আমি নাকি চলেই যাচ্ছি। আমি আমার দেশ ছেড়ে কোথায় যাব। একটি বিশেষ মহল ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সরকারের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে তিনি বলেছিলেন, বর্তমান সরকার হলো আমাদের আন্দোলনের ফসল। তাই এই সরকার ব্যর্থ হলে এর দায়-দায়িত্ব আমাদের ওপরও পড়ে। তাদের ব্যর্থতা আমাদের জন্যও লজ্জার। Source:দৈনিক নয়া দিগন্ত
Date:2007-04-24

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: