দুই নেত্রীকে নিয়ে সরকারি ব্যবস্থা বিচক্ষণতার পরিচায়ক নয়

দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের দুই শীর্ষ নেত্রীর একজনের দেশে ফেরায় বাধা প্রদান এবং অন্যজনকে দেশত্যাগে বাধ্য করা কোনো দূরপ্রসারী চিনত্দা ও বিচক্ষণতার পরিচায়ক নয় বলে মনে করেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা। গতকাল সোমবার এক যুক্তবিবৃতিতে এ অভিমত ব্যক্ত করেন বিশিষ্ট নাগরিকরা।
দেশের সুশীল সমাজের ১৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দেশের গভীর সংকটময় মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়ে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার জাতিকে অতীতের কলুষ থেকে মুক্ত করে সুষ্ঠু ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে দেশবাসীর সমর্থন তাদের প্রতি রয়েছে।
তারা বলেন, নব্বইয়ের গণআন্দোলনের সুবাদে দেশ আবার ফিরে এসেছিল গণতন্ত্রের ধারায়; কিন\’ জনগণের ক্ষমতা ও অধিকার প্রসারিত হওয়ার বদলে ক্ষুদ্র স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর যথেচ্ছাচারের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল শাসন ব্যবস্থা। প্রশাসনের সর্বসত্দরে দলীয়করণ ও অবৈধ অর্থের দাপট গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারাকে তামাশায় পরিণত করেছিল। এর বিরুদ্ধে দেশের মানুষের প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও সংগ্রামের এক পর্যায়ে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং নির্বাচনী ও প্রশাসনিক সংস্কার সাধনের পথে অগ্রসর হচ্ছে। আমরা এই উদ্যোগের সফলতা দেখতে চাই এবং বাংলাদেশে রাজনীতি ও সরকার পরিচালনায় গণতান্ত্রিক আদর্শ ও বিধির জোরদার প্রতিষ্ঠা কামনা করি।’
তারা আরো বলেন, ‘জনগণের কতক মৌলিক অধিকার স্থগিত রেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সংস্কার সাধনের লক্ষ্যে গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপে সরকারকে সুবিবেচনা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে। রাজনৈতিক সংস্কারের সমানত্দরালে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যনত্দরীণ সংস্কার ও গণতন্ত্রচর্চা জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতর থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
তারা বলেন, এক্ষেত্রে ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনো পরিবর্তন সুফল বয়ে আনতে পারবে না। বরং সরকারের সংস্কার কর্মসূচির সফলতা যে নৈতিক ও বিধিবদ্ধ চাপ সৃষ্টি করবে সেটা এক্ষেত্রে ইতিবাচক ও ফলপ্রদ হবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি। এসব প্রশ্নে সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল ও সুচিনত্দিত ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যনত্দ গুরুত্ব বহন করে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শরিক প্রধান একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে বাধা প্রদান কোনো দূরপ্রসারী চিনত্দার পরিচয় বহন করে না। একইসঙ্গে অপর প্রধান রাজনৈতিক দলের নেত্রীকে দেশত্যাগে বাধ্য করার মধ্যে সরকারের ক্ষমতার প্রকাশ যতোটা ঘটে, বিচক্ষণতার ততোটা নয়।
বিবৃতিতে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা বলেন, রাজনৈতিক নেতা- নেতৃত্বের মৌলিক অধিকার হরণ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হতে পারে না। রাষ্ট্রের সম্পদ লুটপাট ও চরম দুনর্ীতির জন্য যদি কেউ দায়ী হয়ে থাকেন তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারের সম্মুখে দাঁড় করানোটা দেশবাসী কামনা করে, আইনবহিভর্ূত কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ নয়।’
তারা বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে তাদের গৃহীত পদক্ষেপের সকল দিক পর্যালোচনা ও পুনর্বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন কবীর চৌধুরী, কে জি মুসত্দফা, কলিম শরাফী, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আনিসুজ্জামান, ফয়েজ আহমদ, আতাউস সামাদ, হামিদা হোসেন, সৈয়দ শামসুল হক, কাইয়ুম চৌধুরী, আনোয়ারা সৈয়দ হক, মমতাজউদ্দীন আহমদ ও ফেরদৌসি মজুমদার।
সূত্রঃ http://bhorerkagoj.net/online/news.php?id=13760&sys=1

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: