নেতৃত্ব পরিবর্তন প্রশ্নে মইনুলের বক্তব্য সমর্থন করে না বিএনপি-আওয়ামী লীগ

রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা সম্পর্কে আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের মন্তব্য সম্পর্কে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন রাজনীতিকরা। তবে একই ব্যক্তির দুই বারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত নয় বলে আইন উপদেষ্টার মতকে গ্রহণ করেছেন তারা। তারা বলেছেন, একই ব্যক্তির দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি আইন করে নির্বাচিত সংসদে পরিবর্তন আনা যেতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব সম্পর্কে দলগুলোই কেবল সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা হিসেবে শেখ হাসিনা দলের ঐক্যের প্রতীক। তার নেতৃত্বকে পরিবারতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে মেনে নিতে রাজি নন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তাই দলের নেতৃত্ব পরিবর্তন সম্পর্কে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বক্তব্যকে যথার্থ মনে করেন না তিনি। এ প্রসঙ্গে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আমি মনে করি একজন দলীয় প্রধান তিনি যদি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রধান হতে চান তার এই পদটি অন্য আরেকজন তার পরে দলে যারা যোগ্য ব্যক্তি তার কাছে হস্তান্তর করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে তিনি যেমন সম্পূর্ণ সময়টি জাতীয় এবং রাষ্ট্রীয় কল্যাণে দিতে পারবেন তেমনিভাবে আরেকজন নতুন নেতৃত্ব পাশাপাশি গড়ে উঠবে। তিনি বলেন, সরকার অর্ডিন্যান্স করে বলে দিক যে সংস্কারের প্রয়োজন। বলাই তো যায় যে, একটি পদে কেউ দুবার রাষ্ট্রপতি হতে পারবে না। হলে একটি পদ ছাড়তে হবে। সরকার বলতেই পারেন কাউন্সিল দৃশ্যমান হতে হবে। সেই কাউন্সিল ইলেকশন কমিশন মনিটর করবে। আমি মনে করি যিনি সরকারপ্রধান হবেন তার দলীয় প্রধানের পদে থাকার প্রয়োজন নেই। একই ব্যক্তির দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হওয়াও ঠিক নয়। কিন্তু দলের প্রধান কে হবেন, তিনি কতোদিন এ পদে থাকবেন তা বাইরের কেউ ঠিক করে দিতে পারে না।

অনুরূপ মত ব্যক্ত করেন বিএনপি নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহও। তিনি বলেন, যারা রাজনীতি জানেন না বলে আমি বিশ্বাস করি তারা ভাবেন আমি একরকমের রাজনীতি করি, আমি অন্য দলের দলপ্রধান বদলাবো। তিনি আরো বলেন, এটা তো কেনা গোলামের দেশ না। এটা তো কারো বিশেষ কথার কোনো দল নয়। বিএনপি বাংলাদেশের শতকোটি মানুষের রাজনৈতিক দল। রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানের মেয়াদ প্রসঙ্গে হান্নান শাহ বলেন, সেটি কি দুই মেয়াদ হবে না তিন মেয়াদ হবে না কনসিকিউটিভ হবে না মধ্যখানে গ্যাপ দিয়ে হবে তা আপনি আমি এখন মতামত দিতে পারি, কিন’ পরিশেষে কাজটি করতে হবে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত পার্লামেন্টেকেই। একজন নেতা বা নেত্রী এক মেয়াদের জন্য নাকি দুই মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী হবেন তা গণতান্ত্রিকভারে নির্বাচিত সংসদই ঠিক করবে। তবে দলীয় নেতৃত্ব পরিবর্তনের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, যারা রাজনীতি জানেন না তারাই এ ধরনের মন্তব্য করতে পারে। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-04-24

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: