সরকারকে চাপ দিতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি শেখ হাসিনার আহ্বান

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে দেশে ফিরতে দেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে দেশের জনগণ ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত করার বিষয়টিকে তিনি জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন বলে মনে করেন। একইসঙ্গে তিনি তার দেশে ফেরার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা আরো জানান, দেশে ফেরার লক্ষ্যে লন্ডন থেকেই আইনি লড়াইয়ে নামবেন। তাকে কেন ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না তার কারণ জানতে চেয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে চিঠি দেবেন তিনি।

দেশে ফিরতে না পেরে বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভানেত্রী গতকাল সোমবার আল জাজিরা টেলিভিশন, বিবিসি ওয়ার্ল্ডের এশিয়া টুডে, বিবিসি রেডিও ও ভারতীয় টিভি চ্যানেল এনডিটিভিকে পৃথক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এসব সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লিখিত কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলাকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ উল্লেখ করে বলেছেন, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে তিনি রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে এসব মামলা মোকাবিলা করতে চান।
লন্ডনে আল জাজিরার স্টুডিওতে বসে গতকাল সোমবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, সাংবিধানিক অধিকার চাওয়া কোনো অপরাধ নয়। আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লড়াই করছিলাম। তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আমি এ ধরনের কোনো অপরাধ করিনি। তারা আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগে মিথ্যা মামলা দিতে পারে না। তাই আমি এসবের বিরুদ্ধে লড়ে যাবো। অক্টোবরে পল্টনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার কোনোরূপ দায়দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেন।

গত রাতে বিবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত করা প্রসঙ্গে বলেন, আমার ওপর মামলা দেয় আবার এই সরকারই আমাকে দেশে যেতে দেয় না। এটা সম্পূর্ণ অনৈতিক। এটা সম্পূর্ণ মানবাধিকার লঙ্ঘন। তারা আমার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট তুলে নিয়েছে এখন আমার দেশে ফিরতে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেটা তুলে নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত প্রমাণ করে দিয়েছে যে এই মামলা সম্পূর্ণ ভুয়া। এটা যে একটা মিথ্যা মামলা, তারা যে ইচ্ছা করে এটা দিয়েছে তাই প্রমাণিত হয়েছে।

এখন আপনি কী করবেন? বিবিসির এই প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন, আমি এখন লন্ডনে আছি, আমি বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। বাংলাদেশেও যোগাযোগ হচ্ছে, এখানেও হচ্ছে। বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে কাজ করছি। শেখ হাসিনা আরো বলেন, বাংলাদেশের জনগণের কাছে আমার একটাই আবেদন, আমার ওপর কেন এরকম জুলুম করা হলো আমি এর প্রতিকার চাই। আমি বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাই এবং অবিলম্বে আমার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে এটা সরকার যাতে প্রত্যাহার করে।
বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, ঢাকায় বাংলাদেশ সরকারের কারো সঙ্গে এর মধ্যে তার কোনো কথাবার্তা হয়নি।

দলের কারো সঙ্গে সরকারের কারো কথাবার্তা হয়েছে কি না তা তিনি জানেন না বলে জানান। ব্রিটিশ সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হযেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোববার আমার সঙ্গে তো ব্রিটিশ এমপি ছিলেন। ইতিমধ্যে আপনারা জানেন ব্রিটিশ মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। অনেক এমপির সঙ্গে দেখা হয়েছে। এছাড়া ইউরোপ ও আমেরিকাসহ সব জায়গা থেকে মোটামুটি ম্যাসেজ পাচ্ছি, খবর পাচ্ছি, কথা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত করায় এখন দেশে ফেরার কোনো চেষ্টা করবেন কিনা জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, এখনো তো ব্রিটিশ এয়ার লাইন্সে তাদের চিঠি রয়ে গেছে যাতে আমাকে না নেয়। সরকারকে তো সেটা আগে তুলে নিতে হবে। সে জন্য আমি জনগণের সহযোগিতা চাই, মানুষের সহযোগিতা চাই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, নিশ্চয়ই মানুষ এ ব্যাপারে সচেতন।

আপনি রোববার বিমানবন্দরে বলেছেন যে, এই বিষয়টিকে আইনগতভাবে ও রাজনীতিগতভাবে মোকাবিলা করবেন। সেই লক্ষ্যে কোনো পদক্ষেপ কি আপনি বা আপনার দল থেকে নেওয়া হচ্ছে? বিবিসির এ প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, হ্যাঁ নেওয়া হচ্ছে। দেশে আমাদের আইনজীবীরা বসেছেন, মিটিং করেছেন। তারা যা যা করার করছেন। এখন যিনি আওয়ামী লীগের অ্যাকটিং প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান সাহেব উনিও টেলিফোন করেছেন। উনার সঙ্গে কথা হয়েছে।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, তিনি আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে এসব মোকাবিলা করবেন। তিনি বলেন, তাদের কোনো অধিকার নেই আমাকে দেশের বাইরে রাখার। আমি কোনো অন্যায় করিনি যে আমি ঐ মামলাতে ভীত হয়ে যাবো। আমি জনগণের জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত হয়েই রাজনীতিতে নেমেছি।

এদিকে লন্ডন থেকে ভারতীয় টিভি চ্যানেল এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তাকে দেশে ফিরতে দিতে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য দেশের জনগণ ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলাকে তিনি পুরোপুরি মিথ্যা অভিহিত করে বলেন, বাংলাদেশ সরকার ‘দ্বৈতনীতি’ গ্রহণ করেছে। একদিকে তারা আদালতে মামলা করেছে অন্যদিকে মামলা মোকাবিলা করতে আমাকে দেশে আসতে দিচ্ছে না।

বাংলাদেশে ফেরার ব্যাপারে তার পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এনডিটিভিকে বলেন, আমি দেশে এবং ইংল্যান্ডে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও আইনগত বিষয় নিয়ে কথা বলছি। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-04-24

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: