কালবৈশাখীতে নিহত ২, চার হাজার ঘর বিধ্বস্ত, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

দেশের নানা প্রান্তে সোমবার ভোররাত ও মঙ্গলবার সকালে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে দুজন নিহত ও ৭৫ জন আহত হয়েছে। প্রায় চার হাজার কাচা ও আধাকাচা ঘর বিধ্বসত্দ হওয়ার পাশাপাশি ফসলের হয়েছে ব্যাপক ৰতি। বিদু্যৎ লাইনের খুটি উপড়ে যাওয়ায় অনেক এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত। অগণিত মানুষকে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে। কালবৈশাখীর ছোবলে সবচেয়ে বেশি ৰতিগ্রসত্দ হয়েছে রংপুরের দুটি উপজেলা। রংপুর প্রতিনিধি জানান, টর্নেডোর ১০ মিনিটের আঘাতে দুটি উপজেলার ৩০ গ্রাম ল-ভ- হয়ে গেছে। এসব গ্রামের তিন হাজার ঘরবাড়ি, শিৰা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, হাটবাজার, চাতালকলসহ ১০ হাজার গাছপালা উপড়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে টর্নেডোটি রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়ার সাতটি ইউনিয়নে আঘাত হানে। ভোর ৪টা ১০ মিনিটে শুরম্ন হওয়া ১০ মিনিট স্থায়ী টর্নেডো গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের বাবুপাড়া, ওমর, কৈপাড়া, বালাটারি, তালুক হাবু-ট্যানপাড়া, গজঘণ্টা, জয়দেব মানাসপাড়া, জোলপাড়া, বাদিয়াটারি, খামারটারি, কাউয়া ফান্দা, চরছালাপাক, রাজবলস্নভ, দোলাপাড়া, রিফুজিপাড়া, মর্নেয়া ইউনিয়নের ছোট রূপাই, ভাটিয়াটারি, আলালের চর, আরাজী, ভাঙ্গাগড়া, মৌভাষার অংশ, তালপট্টি, সদর উপজেলার ময়নাকুঠি ইউনিয়ন ও পরশুরাম ইউনিয়নের একাংশসহ কাউনিয়া উপজেলার সারাই ও হারাগাছ, শহিদবাগ, বালাপড়া ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। প্রায় ১০ হাজার মানুষ বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে থাকছে। টর্নেডোর আঘাতে শতাধিক মানুষ বিভিন্নভাবে আহত হয়েছে। বিদু্যৎ লাইন উপড়ে যাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সোমবার রাতে উলস্নাপাড়া, শাহজাদপুর, চৌহালী এবং বেলকুচির গ্রামে কালবৈশাখীতে তিন শতাধিক কাচা ঘর বিধ্বসত্দ হয়েছে। এতে ১৫ জন আহত হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঝড় শুরম্ন হয়। বাতাসের গতিবেগ ছিল প্রায় ৬০ কিলোমিটার। রূপগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সোমবার ভোরে কালবৈশাখীতে গাছের ডাল ভেঙে দুজন মারা গেছেন। তারা হলেন চার তালস্নুক গ্রামের রমিজ উদ্দিন (৫২) ও জেলেপাড়ার পার্বতী (৬০)। তারা আম কুড়াতে গিয়েছিলেন। এছাড়া ঝড়ো হাওয়ায় শতাধিক কাচা ঘর পড়ে গেছে। কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, জেলার রৌমারী ও চিলমারী উপজেলার ১৯টি গ্রামে কালবৈশাখী আঘাত হানে। মঙ্গলবার ভোরে বয়ে যাওয়া প্রায় সাত মিনিট স্থায়ী এ ঝড়ে নারী ও শিশুসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। বিধ্বসত্দ হয়েছে তিন শতাধিক বাড়িঘর। তছনছ হয়ে গেছে প্রায় ২০ হেক্টর ভুট্টা ৰেত। কালিয়াকৈর সংবাদদাতা জানান, গত সোমবার বিকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ৰয়ৰতি হয়েছে। উপজেলার মধ্যপাড়া, জামালপুর চা বাগান, বোয়ালি, চাপাইর, মাধুখান, আমদাইর, বড়ইবাড়ি, সিনাবহ এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে পাকা ও কাচা বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ৰতি হয়। সোনারগাও সংবাদদাতা জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় পৌনে এক ঘণ্টার কালবৈশাখীতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাও উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি ৰতিগ্রসত্দ হয়েছে। এতে ১১শ’ কাচা ঘর, ২০টি শিৰা প্রতিষ্ঠান, ৭৮টি মুরগির ফার্ম, প্রায় ১ হাজার হেক্টর ইরি ধান, ১১শ’ হেক্টর সবজি এবং অসংখ্য গাছপালা ল-ভ- হয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী ৰয়ৰতির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি টাকা। ঝড়ে সোনারগাও পৌরসভা, থনমান্দী, পিরোজপুর, বারদী, মোগড়াপাড়া, নোয়াগাও, শম্ভুপুরা, ফদিপুর, জামপুর ও কাচপুর ইউনিয়নের ৬০টি গ্রামে ব্যাপক ৰয়ৰতি হয়।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=7397

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: