পাচার করা ২৬০ কোটি টাকা সরকার দেশে ফেরত এনেছে

দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া বিপুল অংকের অর্থের মধ্যে সম্প্রতি ২৬০ কোটি টাকা ফেরত আনা হয়েছে। পাচারের দায়ে অভিযুক্ত ৬ জন ব্যবসায়ী ওই অর্থ চেকের মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রায় বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের হিসাবে জমা দিয়েছেন। একইভাবে আরও অর্থ সরকারের কোষাগারে আনার প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে গ্রেফতারকৃত একাধিক ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অর্থ পাচার সম্পর্কে তথ্য নিয়ে তা ফেরত আনার উদ্যোগ নেয়া হয়। এসব ব্যবসায়ীর কেউ কেউ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তবে কোন কোন ব্যবসায়ীর টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে ফেরত দেয়া হয়েছে তা জানা যায়নি। অন্য একটি সূত্র জানায়, পাচার হওয়া অর্থের মধ্যে ২৬০ কোটি টাকা সরকারের হিসাবে জমা হওয়ায় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আরও কমেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে, ১৭ এপ্রিল ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নেয়া নিট ঋণের পরিমাণ ৪ হাজার ২শ’ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, দেশের বাইরে কোন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব থাকা বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের লংঘন। কোন ব্যক্তি যদি বিদেশের কোন ব্যাংকে অর্থ জমা রাখেন তাহলে গ্রাহকের গোপনীয়তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কোন তথ্য দেবে না। পাচার নিশ্চিত হওয়া গেলেও বিদেশের কোন ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা ফেরত আনা দুরূহ ব্যাপার। পাচারকারী স্বেচ্ছায় ফেরত দিলেই ঝামেলা সবচেয়ে কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে কয়েকটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সেসব দেশের সঙ্গে চুক্তি না থাকায় এখনই তা আনা যাচ্ছে না। কোন দেশে কত টাকা আছে তা বাংলাদেশ ব্যাংক পুরোপুরি অবহিত নয়। দুর্নীতি দমন কমিশন কিছু হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছে। পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ কিভাবে ফেরত আনা যায় সে ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের আলোচনা চলছে। তবে যে ব্যক্তি টাকা পাচার করেছেন তিনি স্বেচ্ছায় ফেরত দিতে চাইলে তা সহজেই আনা যেতে পারে। ২৬০ কোটি টাকা শেষোক্ত প্রক্রিয়ায় ফেরত আনা হয়েছে।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লেখা এক পত্রে বিভিন্ন দেশে ১৬টি ব্যাংক হিসাব থাকার তথ্য পাঠায়। ওই তথ্য মতে, আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান, তারেক রহমানের বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম এবং তার ছেলে তমাল মনসুর, সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী মীর নাছির ও তার মৃত স্ত্রীসহ আরও কয়েকজনের নামে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে ব্যাংক হিসাব রয়েছে- এমন তথ্য পাঠায়। এর উত্তরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এনবিআরকে জানানো হয়, বিদেশি এসব ব্যাংক তাদের ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনের তথ্য গোপনীয়তা রক্ষার যুক্তিতে দিতে সম্মত হবে না। তবে সুনির্দিষ্ট কোন অপরাধের সূত্রে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে পারে। জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের সূত্র ধরেও তথ্য সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-04-25

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: