প্রেসনোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কাল হাইকোর্টে রিট (হাসিনার দেশে ফেরার নিষেধাজ্ঞা)

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকারের জারি করা প্রেসনোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হচ্ছে। বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান এবং বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে বিষয়টির উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। রিট আবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। নাগরিক হিসেবে এদেশে তার অবস্থান করার অধিকার রয়েছে। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার উপর বাধা আরোপ বেআইনি, অসাংবিধানিক এবং আইন-বহির্ভূত। এছাড়া প্রেসনোট জারি সরকারের এখতিয়ার বহির্ভূত। সুতরাং প্রেসনোটের কোন কার্যকারিতা নেই। শেখ হাসিনার পক্ষে তার প্রটোকল অফিসার মনজিলা ফারুক রিট আবেদনটি করেছেন। মামলায় স্বরাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব, আইজি পুলিশ ও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজকে বিবাদী করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান এবং বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে রিট আবেদনটি জরুরি উল্লেখ করে তা দায়ের এবং শুনানির জন্য আবেদন জানান আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ এবং এডভোকেট মাহবুবে আলম। এ সময় আদালত বলেন, এ বেঞ্চের নিয়মানুযায়ী বৃহস্পতিবার এফিডেভিটের অনুমতি নিয়ে রিট আবেদন দায়ের করলে রবিবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

রিট আবেদনে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সব বাধা অপসারণ এবং দেশে ফিরলে যেন আইন বহির্ভূতভাবে কোনো ব্যবস্থা তার বিরুদ্ধে গ্রহণ করা না হয় তারও আবেদন জানানো হয়। এছাড়া গত ১৮ এপ্রিল জারি করা প্রেসনোটের ভিত্তিতে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে যে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তাও স্থগিতের প্রার্থনা করা হয়।

আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, একজন নাগরিকের জন্মগত অধিকার তার নিজ দেশে ফিরে আসার। গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় শেখ হাসিনার দেশে ফেরার উপর বাধা আরোপ আইন ও সংবিধানবিরোধী। আইন-বহির্ভূতভাবে এই প্রেসনোট দেয়া হয়েছে।

গত ১৮ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে নিষেধ করে সরকার এক প্রেসনোট জারি করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঐ প্রেসনোটে বলা হয়, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার, স্থিতিশীলতা বিনষ্ট, জন-নিরাপত্তা ও অর্থনীতি বিপন্ন, বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশংকা থাকায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাময়িকভাবে এই বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। দেশের সকল বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশন ও এয়ার লাইন্সকে সরকার এ সংক্রান্ত নির্দেশ প্রদান করে। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-04-25

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: