বিএনপিতে মান্নান-হান্নান দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠছে

বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভুঁইয়া এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) আসম হান্নান শাহ’র পরস্পর বিরোধী তৎপরতায় দলে গৃহদাহ ছড়িয়ে পড়ছে। দুই নেতার মধ্যে মান্নান ভুঁইয়ার পক্ষে প্রকাশ্যে অনেকে অবস্থান নিলেও কৌশলগত কারণে হান্নান শাহ’র সমর্থক সিনিয়র নেতারা সেভাবে তার সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করতে পারছেন না। তারা অপেক্ষা করছেন ঘরোয়া রাজনীতির এবং দলের চেয়ারপারসনের সুস্পষ্ট মনোভাব জানান জন্য। তবে দুই নেতার বিবাদের প্রেক্ষাপটে এই রাজনীতি নিষিদ্ধ সময়েও দলীয় নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিয়েছে দুই দলে বিভক্ত হয়ে। মান্নান ভুঁইয়া তার বাসায় নেতাদের ডাকছেন প্রায় প্রতিদিন। মান্নান ভুঁইয়া তার বাসভবনে গতকাল দলের যুগ্ম মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান ও ঢাকা মহানগর সভাপতি সাদেক হোসেন খোকাসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে হান্নান শাহ’র বিরুদ্ধে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। পরে নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, হান্নান শাহ দলের মুখপাত্র নন। তিনি দলের হয়ে কথা বলার অধিকার রাখেন না। মহাসচিব সম্পর্কে তার বক্তব্য অবাঞ্ছিত। এই মুহূর্তে মহাসচিবের সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় থাকার বিষয়টি অবান্তর। অপরদিকে হান্নান শাহ ঐ বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, কে কি বললো তাতে আমার কিছু যায় আসে না। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে তার নির্দেশে যেটুকু বলার এবং করার তা আমি পালন করছি মাত্র। আমার সঙ্গে মহাসচিবের কোন দ্বন্দ্ব নেই। তবে হান্নান শাহ বলেন, ম্যাডাম আমার মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন। তিনি আগের চেয়ে এখন একটু ভাল আছেন। তিনি আবারো বলেন, ঘরোয়া রাজনীতি শুরু হলেই দলে সংস্কার ও পুনর্গঠন করবেন বেগম খালেদা জিয়া। শুদ্ধি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন আরম্ভ হবে। পর্যায়ক্রমে তা চলতে থাকবে। রাজনীতির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার হলে গঠনতন্ত্রেও সংশোধন আনা হতে পারে। একজন নেতা জানান, গত ৮ মার্চের পর মহাসচিব দলের চেয়ারপার্সনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। খালেদা জিয়া তাকে ডাকলেও তিনি যাননি। এমনকি চেয়ারপার্সন যেসব দিক-নির্দেশনা এবং কর্তব্যের পরামর্শ দিয়েছিলেন তাও তিনি অনুসরণ করেননি। দায়িত্বশীল, সুস্থ-সবল, সক্রিয় একজন মহাসচিব কে হতে পারে তা নিয়েও ইতিমধ্যে দলে জল্পনা-কল্পনার প্রশাখা বিস্তার করেছে। দলের চেয়ারপার্সনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষাকারী বলে দাবিদার হান্নান শাহ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ম্যাডাম সক্রিয়ভাবে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। কিছু সিদ্ধান্তও তিনি নিয়ে রেখেছেন।

এদিকে গতকাল মান্নান ভুঁইয়ার বাসভবনে যারা তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন তাদের কেউ কেউ বের হয়ে এসে আবার টেলিফোনে কথা বলেছেন হান্নান শাহ’র সঙ্গে। হান্নান শাহ বলেছেন, আমার সঙ্গে অনেকেই যোগাযোগ করে আমার ভূমিকার প্রশংসা করছেন। তাদের অনেক রকম প্রতিক্রিয়া আছে। দলের চেয়ারপার্সনের বক্তব্য ও তার মনোভাবকে এই সময়ে আমি দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছি মাত্র। এতে অন্ততঃ নিরব নেতারা কিছুটা হলেও খোলস ছেড়ে বাইরে এসেছেন। এদিকে মান্নান ভুঁইয়ার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, হান্নান শাহকে শো কজ এবং দলের শংখলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত করে ব্যবস্থা নিতে চান মান্নান ভুঁইয়া। তাকে এ বিষয়ে পরামর্শও দিয়েছেন তার ক’জন অনুগত নেতা।

এ প্রসঙ্গে হান্নান শাহ বলেন, আমি দলের সংস্কার ও পরিবর্তনের কথা বলেছি। আমি ম্যাডামের অনুমতি নিয়ে বলেছি। এতে যদি দলের শৃংখলা ভঙ্গ হয় তবে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। আমার আপত্তি নেই। তিনি বলেন, তৃতীয় মাধ্যমে ম্যাডামের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হচ্ছে।

এদিকে মান্নান ভুঁইয়ার বাসভবনে বৈঠক করেছেন এমন কয়েকজন নেতা ইত্তেফাককে বলেন, আমরা এই সংকটময় সময়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে চাই। দলে কোন ভাঙ্গন হোক এটা আমাদের কাম্য নয়। আমরা দলের মহাসচিবকে ঐক্য ধরে রাখার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-04-25

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: