গডফাদার ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ধরতে আবার সাড়াশি অভিযান ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ

আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসীদের লালন-পালনকারী গডফাদার ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ধরতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, পুলিশ ও গোয়েন্দারা বিভিন্ন কৌশলে ঢাকাসহ সারা দেশে সাড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। বিদেশে অবস্থানরত দুই শতাধিক টেররকে ধরার জন্য আবারো ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ।

গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা যায়, আত্মগোপনে থাকা শীর্ষ কৃমিনালরা দেশে এসে নানা রকমের অপরাধ কার্যক্রম চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে গোয়েন্দারা। ইতিমধ্যে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের আশঙ্কা জানিয়ে কয়েকটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরপরই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গুরম্নত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা। তাছাড়া বিভিন্ন যানবাহন ও পথচারীদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তলস্নাশি চালানো হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সন্ত্রাসীদের লালন-পালনকারী গডফাদারদের খুজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দারা। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের বিরম্নদ্ধে এ সংক্রানত্দ অভিযোগ খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা। তারা ঢাকা সিটি কর্পরেশনের প্রায় ২০ ওয়ার্ড কমিশনারের গতিবিধির ওপরও নজর রাখছে। ইতিমধ্যে পুলিশ ও র্যাব কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। ওয়ার্ড কমিশনারদের বিরম্নদ্ধে সন্ত্রাসী লালন-পালন এবং সরকারি জমি দখল ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে সূত্রাপুরে দু’জন, কোতোয়ালিতে একজন, শাহবাগে একজন, মোহাম্মদপুরে দু’জন, জুরাইনে একজন, তেজগাওয়ে দু’জন, ধানমন্ডিতে একজন, মিরপুরে তিনজন, খিলগাওয়ে একজন, লালবাগে একজন, ডেমরায় দু’জন, রমনায় দু’জন ও বাড্ডায় একজন ওয়ার্ড কমিশনার রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের বিরম্নদ্ধে সন্ত্রাসী লালন-পালনের অভিযোগ থাকার পরও তাদের বিরম্নদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। বর্তমানে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। সন্ত্রাসী ও তাদের গডফাদারদের ধরতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে গ্রেফতারকৃত কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার বিরম্নদ্ধে সন্ত্রাসী লালন-পালনের অভিযোগ তদনত্দ করা হচ্ছে।

পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা যায়, আত্মগোপনে থাকা দেড় শতাধিক সন্ত্রাসীকে ধরতে আবার ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার পরপরই পলাতক সন্ত্রাসীদের ধরার জন্য পুলিশ ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়েছিল। ইন্টারপোলের কাছে সন্ত্রাসীদের অপরাধের ডেটাসহ ছবি দেয়া হয়েছে। পুরস্কার ঘোষিত টেরর ও তালিকাভুক্ত কৃমিনালদের ধরতে পুলিশ ও র্যাব বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আসছে। গোয়েন্দারা ব্যবসায়ী, ফকির, রিকশাচালক সেজে অভিযান চালাচ্ছে। বেশির ভাগ সন্ত্রাসী ইনডিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে আত্মগোপনে থেকে বাংলাদেশের ভেতরে অপরাধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। দুই মাস আগে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের ধরতে বিডিআর ও বিএসএফের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পরও কোনো অপরাধী ধরা পড়েনি।

সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী ও মোলস্না মাসুদ গত পাচ মাসের ব্যবধানে সীমানত্দ পথ দিয়ে দু’বার দেশে এসে সহযোগীদের সঙ্গে মগবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে গোপন বৈঠক করে আবার ইনডিয়ায় চলে যায় বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। সুব্রত বাইন মুর্শিদাবাদে মাছের চাষ করছে বলেও জানা গেছে। কালা জাহাঙ্গীর বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। যদিও তার পরিবার দাবি করছে, সন্ত্রাসীদের গুলিতে সে মারা গেছে। চরমপন্থী দলের শীর্ষ নেতা তপন মালিথা ও শাহাদত কলকাতায় অবস্থান করছে। পলাতক সন্ত্রাসীরা টেলিফোনে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাদা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, গত সপ্তাহে শাহাদত টেলিফোনে এক লাখ টাকা চাদা দাবি করে। চাদা না দেয়ায় শাহাদত ও তার ক্যাডাররা পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=7530

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: