বর্তমান সরকারের প্রেসনোটের মত কোন আইন পরিবর্তন করা ঠিক হবে নাঃ বিচারপতি মোস্তফা কামাল

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল তুচ্ছ জ্ঞান করে যখন-তখন কোন আইন সংশোধনের বিরোধিতা করে বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রেসনোটের মত কোন আইন পরিবর্তন করা ঠিক হবে না। তিনি আদালতের ভিতরে ও বাইরে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সারাদেশে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে জনপ্রিয় করার জন্য একটি আন্দোলন গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অপরদিকে আরেক সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান বলেছেন, বর্তমান সরকার তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। কিছু ভালো কাজ করছে তারা। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা ভুলও করছে। ভুলের সংশোধনও করছে। গতকাল শনিবার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫ পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে ওই দুই সাবেক প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাষ্ট) এ বৈঠকের আয়োজন করে। বিচারপতি কে এম হাসান বলেন, শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের জয় হবেই। এখন অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা চলছে। বাংলাদেশের জনগণ নিজেদের বাঙ্গালী বলুক আর বাংলাদেশীই বলুক তারা গণতন্ত্রমনা। আর বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষিতে প্রত্যেকেই গণতন্ত্র চায়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ১৮ মাস সময় লাগবে বলেছেনণ্ড এ বিষয়ে বিচারপতি কে এম হাসান বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত আমার জানা নেই। তবে আমি আশা করি তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় নেবে না।

গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক ও বিচারপতি নঈমউদ্দিন আহমেদ। ড. শামসুল বারী পরিচালিত এ বৈঠকে পারিবারিক আদালতের বিচারক, আইনজীবিগণ অংশ নেন।

বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক তসলীমুর রহমান। ব্লাস্টের পিআইএল এন্ড এডভোকেসি সেলের উপ-পরিচালক সোমা ইসলাম উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশের বিভিন্ন জটিলতা ও দুর্বলতা আলোচনাসহ কিছু সুনির্দিষ্ট সংশোধনীর প্রস্তাব আনা হয়। এর ওপর অংশগ্রহণকারীদের আলোচনার ভিত্তিতে নিম্নলিখিত সুপারিশমালা পেশ করা হয়। সুপারিশমালা হচ্ছেণ্ডপার্বত্য তিন জেলায় পারিবারিক আদালত স্থান, পারিবারিক আদালতের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিচারক নিয়োগ করার বিধিমালা তৈরি, পারিবারিক আদালতে আপোষ বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে সহজ উপায়ে বিচার পাওয়ার যে সুযোগ আছে তাকে কাজে লাগানো, পারিবারিক আদালতে দাখিলকৃত দরখাস্ত বা প্লেইন্ট সংশোধনীর বিধান সংযুক্ত করা, পারিবারিক আদালতে খোরপোশের টাকার পরিমাণ বাড়ানো এবং ডিক্রিকৃত টাকা চারটি থেকে আটটি কিস্তিতে পরিশোধের বিধান প্রণয়ন, পারিবারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করার ক্ষেত্রে ডিক্রিকৃত টাকার ৫০ শতাংশ আদালতে জমা দিয়ে আপীল করার বিধান রাখা ও ডিক্রি জারির মামলা করার মেয়াদ এক বছরের বদলে কমপক্ষে তিন বছর করা। আলোচকরা পারিবারিক আদালতে আপোষ মীমাংসা বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-04-29

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: