বাংলাদেশ-মিয়ানমার সড়ক যোগাযোগ চুক্তি স্বাক্ষরিত

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সে দেশের রাজধানী নেপেটাওতে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ চুক্তি স্বাৰরিত হয়েছে। গতকাল শনিবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশের পৰে চুক্তিতে স্বাৰর করেন যোগাযোগ সচিব ড. মাহবুবুর রহমান এবং মিয়ানমারের পৰে সে দেশের যোগাযোগ উপমন্ত্রী উ থিনটম।

চুক্তি অনুযায়ী কক্সবাজারের ঘুনধুম থেকে মিয়ানমারের বাউলি বাজার পর্যনত্দ ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়কটি নির্মিত হবে বাংলাদেশের অর্থায়নে, যা দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও পর্যটন সম্প্রসারণে অন্যতম সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। এ সংযোগ সড়কের মাধ্যমে চায়না ও থাইল্যান্ডের সঙ্গেও বাংলাদেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে।

এর আগে মিয়ানমার সফররত পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী মিয়ানমারের নতুন রাজধানী নেপেটাওতে গত শুক্রবার দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ও স্টেট পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের সেক্রেটারি-১ লে. জেনারেল থিয়েন সানের সঙ্গে বৈঠক করেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি ইয়াঙ্গুনে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ নেয়ান উইনের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

উপদেষ্টা দ্বিপৰীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের দ্রম্নত প্রত্যাবর্তন, সীমানত্দ বাণিজ্য, কনট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে মিয়ানমারে আবাদি জমি লিজ নিয়ে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের কৃষিপণ্য উৎপাদন, সমুদ্রসীমা নির্ধারণ, ভিসা পদ্ধতি সহজীকরণ এবং দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যৌথ কমিশন স্থাপনসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়। মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা স্থাপনের ওপর গুরম্নত্ব আরোপ করেন।

বৈঠকে মিয়ানমারের পৰ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ নেয়ান উইন, পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী উ সু থান, জনশক্তি ও ইমিগ্রেশন বিষয়ক মন্ত্রী সুয়াং মং এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী উ থিস্ট শ উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়ান উইনের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সংযোগ সড়ক স্থাপন, সীমানত্দ নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের মিয়ানমার প্রত্যাবর্তন ও সামুদ্রিক জলসীমা নিয়ে দ্বিপৰীয় সমঝোতার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধানের সিদ্ধানত্দ হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পররাষ্ট্র নীতির প্রধান দিক হলো সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা। মিয়ানমার বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী বলে দেশ দুটির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অত্যনত্দ গুরম্নত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে তা আরো জোরদার হবে। এর আগে উপদেষ্টা হোটেল পার রয়ালে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অভিন্ন স্বার্থ-সংশিস্নষ্ট বিষয় নিয়ে একানত্দ আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊধর্্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=7967

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: