রায়ের পরপরই ঋণ খেলাপির সম্পত্তি দখলে নিতে পারবে ব্যাংক

এবার ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। ব্যাংকিং খাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ আদায় এবং বড় ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে বাড়তি ৰমতা দেয়া হবে। খেলাপি ঋণ আদায়ে অর্থঋণ আদালতের রায় সম্পর্কিত বিবরণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর করার জন্য খেলাপি ঋণ গ্রহীতার সম্পত্তি দখলে নিতে পারবে সংশিস্নষ্ট ব্যাংক। এ ৰেত্রে উচ্চ আদালতে রিট করার আর কোনো সুযোগ থাকবে না। আগামী বাজেটে এ সংক্রানত্দ সুস্পষ্ট ঘোষণা থাকবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, দুর্নীতিবাজ সন্ত্রাসী-গডফাদারদের পাশাপাশি ঋণ খেলাপিরাও যাতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সে জন্যই এ ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২০০৭-০৮ অর্থ বছরের বাজেটে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু পদৰেপ নেয়া হবে। এর মধ্যে ঋণ খেলাপিদের কাছে আটকে থাকা হাজার হাজার কোটি টাকা আদায়ের জন্যও নেয়া হবে বিশেষ ব্যবস্থা। এ জন্য প্রয়োজনে এ সংক্রানত্দ বিদ্যমান আইন আরো কঠোর করা হবে।

সম্প্রতি ইকনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত বাজেট সংক্রানত্দ এক আলোচনায় অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতিবাজদের পাশাপাশি ঋণ খেলাপিদের বিরম্নদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার।

এদিকে শুধু ব্যাংক নয়, যে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপিরাও যাতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সে জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। ব্যাংকের পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (লিজিং কম্পানি, বিনিয়োগ কম্পানি) ঋণ খেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করতে বিদ্যমান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ সংশোধন সংক্রানত্দ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রসত্দাব অনুমোদন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয় হয়ে সংশোধিত প্রসত্দাবটি ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ সংশোধনের জন্য যে খসড়া প্রসত্দাব অনুমোদন করেছে তাতে এ বিষয়টি অনত্দভর্ুক্ত আছে বলে জানা গেছে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় সংশিস্নষ্ট প্রার্থী কোনো ব্যাংকে ঋণ খেলাপি হলে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ আইনে শুধু ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যারা খেলাপি হয়েছেন তাদেরই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দি্বতা করার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। ১৯৯১ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গণপ্রতিনিধি আইন ১৯৭২ সংশোধন করে এক অধ্যাদেশ বলে ওই আইন প্রণয়ন করে। কিন্তু এবার ব্যাংকের সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানও যুক্ত হয়েছে। প্রসত্দাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ব্যাংকের মতো বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণকারী খেলাপিদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ৰেত্রে বিধি-নিষেধ থাকবে। সে ৰেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর দ্বিতীয় ‘প্রভিশো’-তে ‘ব্যাংক’ শব্দটির পরিবর্তে ‘ব্যাংক/ফিনানশিয়াল ইন্সটিটিউশন’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে ওই আইনের এক্সপস্নানেশন-৪-এ ‘ব্যাংক’ মিনস কথাগুলো পরিবর্তন করে ‘ব্যাংক/ফিনানশিয়াল ইন্সটিটিউট’ মিনস কথাগুলো প্রতিস্থাপন করতে হবে।

বর্তমানে আর্থিক লেনদেনে ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা লিজিং কম্পানিগুলোও উলেস্নখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। যে জন্য ব্যাংকিং খাতের ঋণ খেলাপিদের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও রয়েছে অনেক খেলাপি। দেশে এখন ২৮টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা লিজিং কম্পানি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এর আগে সব জাতীয় নির্বাচনে আইনের বিভিন্ন ফাক-ফোকর দিয়ে বাঘা বাঘা ঋণ খেলাপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ নিয়েও কোনো কাজে আসেনি। শেষ মুহূর্তে ঠিকই তারা প্রার্থী হয়েছেন। ওই কর্মকর্তা জানান, বিদ্যমান আইনে ঋণ পুনঃতফসিল করে নির্বাচনে অংশ নেয়া যাবে – এমন বিধান রয়েছে। কিন্তু এ আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করে অনেক ঋণ খেলাপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পথ পরিষ্কার করেছেন। গত ২২ জানুয়ারি যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল সে নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক ঋণ খেলাপি এ পথ অনুসরণ করে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু এবার প্রেৰাপট ভিন্ন। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার কালো টাকার মালিক ও ঋণ খেলাপিদের বিরম্নদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কোনো অবস্থায় যাতে ঋণ খেলাপিরা আইনি দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে – সে বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রেখেই নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান সব আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=7966

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: