এডিপির সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট

রাজস্ব আয়ের মন্থরগতিসহ বিভিন্ন কারণে চলতি ২০০৬-০৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার কাটছাঁট করে ২১ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। মূল এডিপি ছিল ২৬ হাজার কোটি টাকার। কিন\’ রাজস্ব ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা, বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে জটিলতা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে সংশোধিত এডিপি কমানো হচ্ছে। আজ সোমবার এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপি অনুমোদন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।
চলতি ২০০৬-০৭ অর্থবছরের মূল এডিপিতে ২৬ হাজার কোটি টাকার মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় ছিল ১৭ হাজার ২৫০ কোটি ও বৈদেশিক মুদ্রায় ৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে স্থানীয় মুদ্রার পরিমাণ হচ্ছে ১৩ হাজার ৬৫০ কোটি ও বৈদেশিক মুদ্রায় ৭ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ সংশোধিত এডিপিতে ৪ হাজার ৪শ’ কোটি টাকা কমে যাচ্ছে।
এদিকে সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্প সংখ্যা সীমিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে চলতি ২০০৬-০৭ অর্থবছরের এডিপিভুক্ত নতুন প্রকল্প, এডিপিতে বরাদ্দবিহীন যেসব প্রকল্পের বর্তমান আর্থিক বছরে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বা বাস-বায়ন সম্ভব নয় সেগুলো সংশোধিত এডিপি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। তবে বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প ও দারিদ্র্য বিমোচন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে মোট ১ হাজার ৯২টি প্রকল্প অন-ভর্ুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বরাদ্দবিহীন অনুমোদিত প্রকল্পের সংখ্যা ৮৭টি।
সংশোধিত এডিপিতে মোট বরাদ্দের ক্ষেত্রে যেসব সেক্টরে চাহিদার ভিত্তিতে তুলনামূলকভাবে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে_ পল্লী উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠান ৩ হাজার ৪২৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, পরিবহন ২ হাজার ৯৯০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, শিক্ষা ও ধর্ম ২ হাজার ৯২৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা, বিদু্যৎ ২ হাজার ৭৭৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য ২ হাজার ৩৬৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এছাড়াও উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা ৩০ কোটি, ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ৪৫ কোটি, পৌরসভা উন্নয়ন সহায়তা ৪০ কোটি, জেলা পরিষদ ৬০ কোটি ও ৬টি সিটি কর্পোরেশনের ৩৫ কোটি টাকার থোক মূল বরাদ্দের অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মূল এডিপিতে খাতওয়ারি থোকের অনুকূলে মোট ৩ হাজার ২৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সংশোধিত এডিপিতে খাতওয়ারি থোক বাবদ কোন অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি।
সংশোধিত এডিপি বরাদ্দ পুনর্নির্ধারণ বা অর্থ ছাড়ের ক্ষমতার ক্ষেত্রে একনেকে অনুমোদনের পর কোন থোক বরাদ্দ বা কোন প্রকল্পের অব্যয়িত ও সাশ্রয়যোগ্য অর্থ থাকলে তা ৩১ মে’র মধ্যে পুনর্নির্ধারণ বা পুনঃবরাদ্দের এখতিয়ার পরিকল্পনা কমিশনকে দেয়া হতে পারে।
এদিকে রোববার অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে সম্পদ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আগামী ২০০৭-০৮ অর্থবছরের এডিপির আকার ২৬ হাজার কোটি টাকা করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আগামী অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ ও মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশের ওপর ভিত্তি করে বাজেট প্রণয়ন করা হবে। এছাড়াও আগামীতে এডিপির অগ্রগতি কাঠামোগত অগ্রগতি হিসেবে বিচার-বিশ্লেষণ করা হবে। কৃষিতে ভতর্ুকির পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে বলে তিনি জানান।
এনইসি বৈঠকে এছাড়াও ২০০৫-০৬ অর্থবছরের এডিপি বাস-বায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রতিবেদন, চলমান দারিদ্র্য নিরসন কৌশলপত্রের মেয়াদ ২০০৮ সালের ৩০ জুন পর্যন- বাড়ানোর প্রস-াব অনুমোদন করা হতে পারে।
সূত্রঃ http://jugantor.com/online/news.php?id=61818&sys=1 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: