ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রদানে দুর্নীতির তদন্তে নেমেছে সরকার

বিগত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সরকারের সময়ে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ইনশিওরেন্স কম্পানির লাইসেন্স প্রদানে বড় ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে কি না তা তদনত্দে নেমেছে সরকারের গুরম্নতর অপরাধ দমন বিষয়ক টাস্ক ফোর্স। আর এ অনিয়মের সঙ্গে গত দুই সরকারের প্রভাবশালী কোনো নেতা-নেত্রী সরাসরি জড়িত আছেন কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গুরম্নতর অপরাধ দমন বিষয়ক টাস্ক ফোর্স বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ সংক্রানত্দ যাবতীয় কাগজপত্র চেয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও তদনত্দ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওই নির্দেশের পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তারা গতকাল রবিবারই তদনত্দে নেমেছেন।

জানা যায়, ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যনত্দ সময়ে যেসব ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ইনশিওরেন্স কম্পানির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমতি দেয়া হয়েছে মূলত সেগুলোই তদনত্দ করবে টাস্ক ফোর্স। এই ১০ বছরে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যনত্দ ৰমতায় ছিল আওয়ামী লীগ আর ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যনত্দ ৰমতায় ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট। ১০ বছরে ১০টি ব্যাংক, ১৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ৩০টি ইনশিওরেন্স কম্পানি এবং একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের পাচ বছরেই ১৫টি ব্যাংক ও ৩০টি ইনশিওরেন্স কম্পানির লাইসেন্স দেয়া হয়। সে সময় ব্যাঙের ছাতার মতো ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দেয়ার কারণে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। এরপরও একটির পর একটি ব্যাংক ও ইনশিওরেন্স কম্পানির লাইসেন্স দিয়ে যায় আওয়ামী লীগ সরকার। অভিযোগ উঠেছে, বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব লাইসেন্স ইসু করা হয়েছিল।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার একেবারে শেষ সময়ে বাংলাদেশ-মালয়শিয়া হজ ফিনান্স কম্পানি নামে মাত্র একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দেয়। তবে আরো চারটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়ার চূড়ানত্দ সিদ্ধানত্দ নিয়েছিল। এর মধ্যে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ছেলের একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু সময়ের অভাবে শেষ পর্যনত্দ লংকা অরিক্স লিমিটেড, ইন্টারন্যাশণাল ইসলামিক লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, মাই লিজিং কম্পানি লিমিটেড এবং সিটি ইনভেস্টমেন্ট কম্পানি লিমিটেড নামে এ চারটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ইসু করতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়ার পেছনেও মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। এ বিষয়গুলোও টাস্ক ফোর্স তদনত্দ করবে বলে জানা যায়।

জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ইনশিওরেন্স কম্পানির অনুমোদন বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পৰ থেকে একটি তদনত্দ করা হয়েছিল। সে তদনত্দে এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের পেছনে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পৰ থেকে সেসব অনিয়ম চিহ্নিত করে বেশ কয়েকটির লাইসেন্স স্থগিত রাখাসহ বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু যাদের নামে এ প্রতিষ্ঠানগুলো অনুমোদন দেয়া হয়েছিল তারা এতোটাই প্রভাবশালী ছিল যে, কোনো সুপারিশই বাসত্দবায়িত হয়নি। উল্টো প্রভাবশালীদের চাপে তদনত্দ কমিটির সদস্যদের তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে আঞ্চলিক এক অফিসে বদলি করা হয়েছিল। এক সদস্যকে প্রভাবশালী একজন সরাসরি তার অফিসে গিয়ে হুমকি দিয়েছিল বলেও জানা যায়।

বাংলাদেশের মতো অর্থনীতির দেশে এতো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ইনশিওরেন্স কম্পানির আদৌ প্রয়োজন আছে কি না তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফসহ স্থানীয় অর্থনীতিবিদরাও এর সমালোচনা করেছেন। এসব সমালোচনার কারণেই গত জোট সরকারের সময়ে কোনো ব্যাংক ও ইনশিওরেন্স কম্পানির অনুমোদন দেয়া হয়নি।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=8107

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: