ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনারের বাসার গ্রিল কেটে দুর্ধর্ষ চুরি

রাজধানীর বারিধারার কূটনৈতিক পল্লীতে পুলিশ প্রহরার মধ্যেই ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার সর্বজিৎ চক্রবর্তীর বাসায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার মধ্যরাত থেকে ভোররাতের মধ্যে যেকোনো সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত অস্ত্রধারী দুই পুলিশ সদস্যের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সংঘবদ্ধ চোরের দল বাড়ির বাউন্ডারি দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। চোরেরা বাসার নিচ তলার মালামাল তছনছ করে ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। গতকাল রোববার সকালে এ ঘটনা জানাজানি হলে তোলপাড় শুর” হয়। র‌্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দারা ছুটে যান সেখানে। খবর পেয়ে বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তারা সর্বজিৎ চক্রবর্তীর বাসায় যান। কূটনৈতিক পল্লীর বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় বাসার নিরাপত্তারক্ষী দুই কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়। গোটা কূটনৈতিক পল্লীর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে শুর” হয় তল্লাশি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্র”ত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কূটনীতিক পল্লী বারিধারা পার্ক রোডের ৩০ নম্বর রোডে একটি দোতলা বাড়িতে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার সর্বজিৎ চক্রবর্তী তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকেন। ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রির বিদায়ের পর সর্বজিৎ চক্রবর্তী ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। পুলিশের দুজন অস্ত্রধারী সদস্য সারাক্ষণ তার বাসার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কূটনৈতিক পল্লীতে দিনরাত ছায়ার মতো দায়িত্ব পালন করেন। এ অবস্থার মধ্যেই শনিবার রাত ১২টার পর থেকে ভোররাতের মধ্যে যেকোনো সময় ঘটেছে এই চুরির ঘটনাটি।
সূত্র জানায়, শনিবার রাতে বাসার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন পুলিশের নায়েক আব্দুর রহিম ও কনস্টেবল আব্দুস সাত্তার। সর্বজিৎ চক্রবর্তী শনিবার রাতে বাসায় একা থাকলেও তার পরিবারের সদস্যরা এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। তবে নিচতলায় দুইজন গৃহপরিচারিকা ছিল। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল খেলাটি পুরো না দেখে প্রতিরাতের মতো শনিবার রাত ১২টার দিকে সর্বজিৎ চক্রবর্তী ভবনের দোতলায় শয়নকক্ষে ঘুমাতে যান। সকালে ঘুম ওঠে উঠে সিঁড়ি বেয়ে নিচ তলায় নামতেই দেখতে পান জিনিসপত্র এলোমেলো। দুই গৃহপরিচারিকার মুখে চুরির কথা শোনার পর তিনি দেখেন জানালার গ্রিল কাটা, আলমারির তালা ভাঙা, মালামাল তছনছ। সর্বজিৎ চক্রবর্তীর ডাকে বাসার নিরাপত্তারক্ষী দুই পুলিশ কনস্টেবলসহ অন্যরা এগিয়ে যায়। সর্বজিৎ চক্রবর্তী পুলিশ ও গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, তার চোরচক্র তার বাসা থেকে একটি ল্যাপটপ কম্পিউটার, ৩টি মোবাইল ফোন, একটি ভিডিও ক্যামেরা এবং একটি ডিভিডি প্লেয়ারসহ আরো বেশ কিছু মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে যার আনুমানিক মূল্য ৩ লক্ষাধিক টাকা। এ ঘটনায় গতকাল বিকালে সর্বজিৎ চক্রবর্তী বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে পুলিশ প্রহরা থাকা সত্ত্বেও একজন কূটনীতিকের বাসায় রাতের অন্ধকারে বাসার বাউন্ডারি দেওয়াল টপকে কীভাবে ভেতরে চোর ঢুকলো তা নিয়ে নানা প্রশ্ন্ন উঠেছে। এক্ষেত্রে চুরি ছাড়া অন্য যেকোনো বড়ো অঘটন ঘটিয়েও দুষকৃতকারীরা পালিয়ে যেতে পারতো বলে পুলিশ কর্মকর্তারা মন্তব্য করেছেন। এ নিয়ে পুলিশ এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দারাও ঘটনার তদন্ত করছেন। মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের উপর ন্যস্ত হয়ে পারে বলে শোনা গেছে।
এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার নাঈম আহম্মেদ ভোরের কাগজকে বলেন, ঘটনাটি স্পর্শকাতর। ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার একজন গুর”ত্বপূর্ণ ব্যক্তি। দায়িত্বে অবহেলার জন্য তার বাসায় কর্তব্যরত দুই কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। চোরেরা নগদ টাকা নেয়নি। অলঙ্কারের আলমারি ভাঙেনি। তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সিআইডির ক্রাইম সিনের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা ঘটনাস্থল থেকে ফিঙ্গার প্রিন্টসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান আব্দুল জলিল বলেছেন, বাসার পিছন দিয়ে গ্রিল কেটে ঢুকে এই চুরির ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না । গুলশান থানার ওসি ওবায়দুর রহমান বলেছেন, বাসার সামনে পুলিশ ডিউটি করে। পেছনে কেউ খেয়াল রাখে না। তিনি বলেন, চুরির ঘটনা হরদম ঘটছে এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তবে এখনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে চিহ্নিত এবং গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
ভারতীয় হাইকমিশনার কাউন্সিলর (তথ্য) অজিৎগুপ্তে সাংবাদিকদের বলেন, চোরচক্র নগদ টাকা এবং স্বর্ণালংকার না নিলেও কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ভিডিও ক্যামেরা, ডিভিডির সঙ্গে কয়েক বোতল বিদেশী মদও নিয়ে গেছে। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-04-30

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: