মীর নাসির আমান আলমগীরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

সাবেক তিন প্রতিমন্ত্রীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। গতকাল রবিবার স্পেশাল জজ কোর্টে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তকারী কর্মকর্তারা সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোঃ নাছির উদ্দিন, তার ছেলে ব্যারিস্টার মীর মোঃ হেলালউদ্দিন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আমানউল্লাহ আমান, তার স্ত্রী সাবেরা আমান এবং আওয়ামী লীগ সরকার আমলের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি চার্জশিট দাখিল করেন। এর আগে গতকাল সকালে কমিশনের এক বৈঠকে এই তিনটি চার্জশিট দাখিলের সিদ্ধান্ত হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক দাখিলকৃত তিনটি চার্জশিট অনুমোদন করেন কমিশনের কমিশনার মোঃ হাবিবুর রহমান। দুদকের পরিচালক (লিগ্যাল এন্ড প্রসিকিউশন) মোঃ জাকির হোসেন চার্জশিট আদালতে দাখিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। দুদক চেয়ারম্যান লে. জে. (অব.) হাসান মশহুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন কমিশনার আবুল হাসান মনযুর মান্নান ও সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন। এ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আশা করছি ১০ দিনের মধ্যে মূল মামলা আদালতে উঠবে। তার আগে যে পদক্ষেপগুলো নিতে হবে তা বিজ্ঞ বিচারকরা নিবেন।

গত ৬ মার্চ দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা শারমিন ফেরদৌসী বাদী হয়ে গুলশান থানায় মীর মোঃ নাছির উদ্দিন, তার ছেলে ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২৯ কোটি ৯১ হাজার ৯৩০ টাকা জ্ঞাত আয়ের বহির্ভূত সম্পদ দখলে রাখা এবং ৭ কোটি ৭৮ লাখ ৮৮ হাজার ৯৬৮ টাকার সম্পদ গোপন রাখার অভিযোগ এনে দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাহিদ। একইদিনে আমান উল্লাহ আমান ও তার স্ত্রী সাবেরা আমানের বিরুদ্ধে মোট ৯ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪১ টাকা জ্ঞাত আয়ের বহির্ভূত সম্পদ দখলে রাখার অভিযোগ এনে দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাহিদ বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন জীবনকৃষ্ণ রায়। মহিউদ্দিন খান আলমগীরের বিরুদ্ধে এক কোটি ১৭ লাখ টাকা গোপন রাখার অভিযোগ এনে দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা জীবনকৃষ্ণ রায় বাদি হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা শারমিন ফেরদৌসী।

মীর মোঃ নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ২৬, ২৭ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারাসহ জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা-২০০৭-এর ১৫ঘ(৫) বিধি মোতাবেক এবং মামলার অপর আসামি তার ছেলে ব্যারিস্টার মীর মোঃ হেলালউদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ২৭ ধারা ও দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়। আমানউল্লাহ আমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ২৬, ২৭ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধের আইনের ৫(২) ধারাসহ জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা-২০০৭-এর ১৫ঘ(৫) বিধি মোতাবেক এবং মামলার অপর আসামি তার স্ত্রী সাবেরা আমানের বিরুদ্ধে তার স্বামীর অবৈধ সম্পদ সংরক্ষণে সহযোগিতা করা এবং যথাযথভাবে ঘোষণা না করায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ২৬, ২৭ ধারা, জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা-২০০৭-এর ১৫ঘ(৫) বিধিসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মহিউদ্দিন খান আলমগীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ২৬, ২৭ ধারা এবং জরুরি বিধিমালা, ২০০৭-এর ১৫ঘ(৫) বিধি মোতাবেক গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

দুদক প্রকাশিত ৫০ দুর্নীতিবাজের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও চার্জশিট দেয়া হয়েছে তিনজনের বিরুদ্ধে। বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে শিগগিরই চার্জশিট দাখিল করা হবে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনেক কষ্ট করে নিখুঁতভাবে কাজ করেছেন। ইনশাল্লাহ আমরা আমাদের উদ্দেশ্যে সফল হবো। তিনি বলেন, তিনটি মামলা একত্রে হবে নাকি পৃথকভাবে হবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে আদালত। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-04-30

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: