সেনাপ্রধানের বক্তব্যে জাতিসংঘ ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া

সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ’প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলেই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে’ বলে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান লে. জেনারেল মইন উ আহমেদ যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, তাতে বিশ্ব ব্যাংক ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। ‘পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশেও সেনা শাসন আসছে’ বলে যারা এতোদিন সন্দেহ পোষণ করেছেন, তেমন প্রবাসীর মধ্যেও সেনাবাহিনীর প্রতি বিশ্বাস আরো বেড়ে গেছে। সেনাপ্রধানের এ বক্তব্যটি দু’দিন ধরেই ‘টক অফ দি কমিউনিটি’ ছিল।

‘সেনাবাহিনী রাজনীতিতে অংশ নেবে না, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনকে সহযোগিতা করছে। প্রয়োজন শেষ হলেই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে’_ সেনাপ্রধানের এ অঙ্গীকারের পরই বার্তা সংস্থা এনার পৰ থেকে বিশ্ব ব্যাংক ও জাতিসংঘে দৰিণ এশিয়া তথা বাংলাদেশ নিয়ে কর্মরত বেশ কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশ আবারো সেনা শাসনের কবলে যাচ্ছে বলে ক’দিন আগেও আমাদের সন্দেহ ছিল; কিন্তু এখন সে সন্দেহ কমে গেল। তবে এ সন্দেহ একেবারেই দূর হয়ে যাবে দ্রম্নত নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরম্ন করা হলে।

কর্মকর্তারা বলেন, রাজনীতিকে দুর্নীতি ও দুবর্ৃত্তমুক্ত করার চলমান অভিযানকে সফল করতে হলে গ্রেফতারকৃত ও ফেরারি হিসেবে তালিকাভুক্তদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বিচারে যারা দোষী সাব্যসত্দ হবে তাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। তাহলে আপনাআপনি রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার হয়ে যাবে।

জাতিসংঘের গুরম্নত্বপূর্ণ এক কর্মকর্তা এনাকে বলেন, বাংলাদেশে সেনা শাসনের আশঙ্কায় শানত্দি রৰা মিশনে কর্মরতদের মধ্যেও এক ধরনের সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল। জেনারেল মইন উ আহমেদের বক্তব্যের পরিপ্রেৰিতে সংশিস্নষ্ট সবাই বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনর্বহাল নিয়ে স্বসত্দি পাবেন বলেও মনে করছেন উপরোক্ত কর্মকর্তা।

বিশ্ব ব্যাংকের কনসালটান্ট ম্যারিল্যান্ডে বসবাসরত ড. আনোয়ারম্নল করিম বলেছেন, সেনাপ্রধানকে আমি অভিনন্দন জানাতে চাই এবং আশা রাখছি, কথা অনুযায়ী তিনি কাজ করতে দ্বিধা করবেন না। ড. করিম বলেন, কেয়ারটেকার সরকারের সংস্কারের পদৰেপগুলো প্রশংসাযোগ্য। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের ব্যাপারটি সংশিস্নষ্ট দলের সমর্থকদের ওপরই ছেড়ে দেয়া উচিত।

ওয়াশিংটন মেট্র এলাকায় বসবাসরত জাতীয় প্রফেসর ড. নূরম্নল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে শুনে আমার খুব ভালো লাগছে। এটা দেশবাসীর প্রত্যাশার প্রতিফলন। ড. ইসলাম আরো বলেন, কেয়ারটেকার সরকার কতর্ৃক গৃহীত সংস্কারের উদ্যোগকে সঠিকভাবে সম্পাদনের পরই নির্বাচন দেয়া উচিত।

ওয়াশিংটনে সাউথ ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ ড. ফাইজুল ইসলাম বলেন, সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে এটা আমাদের সবার জন্যই সুখের খবর। ব্যক্তিগতভাবে আমি সেনাবাহিনীর প্রধানকে অভিবাদন জানাতে চাই স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে সমগ্র গণতান্ত্রিক বিশ্বকে স্বসত্দি দেয়ার জন্য।

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড অফ ট্রাস্টির চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বলেন, সেনাপ্রধানের বক্তব্যে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছিল তা কেটে গেল।

নিউ ইয়র্কের ব্যবসায়ী আবু সুফিয়ান বলেন, সেনাপ্রধানের মতো বর্তমান কেয়ারটেকার সরকারের প্রতিটি উপদেষ্টাই জাতীয় স্বার্থে কাজ করছেন_ এটা এখন আর অজানা থাকলো না।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=8103

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: