এসেছে সাকা চৌধুরীর কিউসি শিপিংয়ের কনটেইনারে : যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটের বিশাল চালান চট্টগ্রাম বন্দরে আটক

চট্টগ্রাম বন্দরে এবার ভায়াগ্রাজাতীয় আমদানিনিষিদ্ধ ট্যাবলেটের বিশাল চালান ধরা পড়েছে। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মালিকানাধীন কিউসি শিপিং লাইনের কনটেইনারে করে আনা চালানটি নিয়ে কাস্টমসে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ৫০টি বড় কার্টনভর্তি এ চালানে রয়েছে ৭৭৫ কেজি ভায়াগ্রাজাতীয় যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট। শনিবার কার্টনগুলো খুলে গণনার পর দেখা যায় মোট ৩ লাখ ২০ স্ট্রিপ ট্যাবলেট রয়েছে। সবই মেয়াদোত্তীর্ণ। বন্দরে নিষিদ্ধ ওষুধের এতবড় চালান আটকের ঘটনা এই প্রথম। নেপালের একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে আমদানিকারক দেখিয়ে আনা চালানটি এর আগে মুম্বাই, সিঙ্গাপুর ও দুবাই বন্দরে খালাসের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

নিষিদ্ধ ট্যাবলেটের চালানটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩ নং শেডে আটক রয়েছে। এমভি মার্থা রাশ জাহাজযোগে সিঙ্গাপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা চালানটি আনস্টাফিং হয় গত ২৯ এপ্রিল। সাকা চৌধুরীর মালিকানাধীন কিউসি শিপিং লাইনের কনটেইনারে ৫০ কার্টন ভায়াগ্রাজাতীয় ট্যাবলেটের চালান ছাড়াও কিছু গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ছিল। তিনদিন আগে কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিষিদ্ধ ওষুধের চালানটি আটক করেন।
আটক যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটগুলোর প্যাকেটে লেখা রয়েছে এক্সএল মোড-৩৬ টাডাফিল। মেড ইন ইন্ডিয়া। প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যাপি কেয়ার ফার্মা প্রাইভেট লিমিটেড, মুম্বাই। বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান মুম্বাইয়ের ফিনিক্স কোম্পানি লিমিটেড। প্যাকেটে মেয়াদের তারিখ রয়েছে নভেম্বর ২০০৬ পর্যন্ত। গতকাল বিকালে কার্টন ৫০টি খুলে ট্যাবলেটগুলো প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হয়। তবে প্যাকিং লিস্ট এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র না থাকায় এসব ট্যাবলেটের মূল্যমান নির্ধারণ করা যায়নি।

কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান দেখানো হয়েছে নেপালের কাঠমান্ডু শহরের কামলা পোখারি এলাকার গ্রেসতা মেডিকেল সেন্টারকে। চালানটি প্রথমে ভারতের মুম্বাই থেকে বিমানে দুবাই পাঠানো হলেও সেখানে কেউ গ্রহণ করেনি। চালানটি পুনরায় মুম্বাই ফেরত পাঠানোর কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট চক্রটি দুবাই অরিজিন পণ্য হিসেবে এটি সিঙ্গাপুর পাঠিয়ে দেয়। সেখানেও খালাস চেষ্টা ব্যর্থ হলে চট্টগ্রামকে ট্রানজিট পয়েন্ট দেখিয়ে নেপালি প্রতিষ্ঠানের নামে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে আসা হয়। একই পণ্য বিভিন্ন দেশের আকাশপথ, জলপথ, স্থলপথ বরাবর ঘুরে খালাসের চেষ্টাকে রহস্যজনক বলেই মনে করছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মতিউর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, যথাসময়ে আটক করতে না পারলে নিষিদ্ধ ট্যাবলেটের চালানটি বাজারে ঢুকে যেত। ডকুমেন্ট পরীক্ষা করে কিউসি শিপিংয়ের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। এর আগের অনেক ভেজাল চালান আমদানির সঙ্গে কিউসি শিপিং জড়িত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে কিউসি শিপিংয়ের নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এস কে ঘোষ জানান, তাদের কনটেইনারে করে আনা ৫০ কার্টন নিষিদ্ধ ওষুধ আটকের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। কাস্টমস কর্তৃপক্ষও এখনও তাদের কিছু জানায়নি।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের অডিট ইনভেস্টিগেশন ও রিসার্চ শাখার সুপারিনটেনডেন্ট প্রভাস চন্দ্র তরফদার যুগান্তরকে জানান, গণনার পর এ চালানে মোট ৩ লাখ ২০ স্ট্রিপ ট্যাবলেট পাওয়া গেছে। অন্য কনসাইনমেন্টের আড়ালে পাচারের উদ্দেশ্যে চালানটি আনা হতে পারে। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ওষুধগুলো ছাড়াছাড়ির চিন্তা আপাতত নেই। নিষিদ্ধ ওষুধের এত বড় চালান আর কখনও আটক হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-05-06

এসেছে সাকা চৌধুরীর কিউসি শিপিংয়ের কনটেইনারে : যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটের বিশাল চালান চট্টগ্রাম বন্দরে আটক-এ একটি মন্তব্য হয়েছে

  1. kajolkabir বলেছেন:

    Saka chodhuri ar or bap boro dhoroner razakar silo. akon khaledar ontorongo hoise

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: