নতুন রাজনৈতিক প্লাটফরম গঠনের প্রক্রিয়া চলছে

দেশে প্রচলিত ধারার বাইরে একটি নতুন রাজনৈতিক প্লাটফরম গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে তুলনামূলক ক্লিন ইমেজধারী রাজনীতিকদের যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার সুনামসম্পন্ন কিছু লোকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে বিষয়টি নিয়ে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যম পর্যায়ের কয়েকজন নেতার উদ্যোগে প্রক্রিয়াটি ইতিমধ্যে বেশ কিছুদূর এগিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে এসব তথ্য জানিয়েছে।

নতুন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একজন বিএনপি নেতা জানান, দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে পারিবারিক প্রভাববলয় থেকে বের করে আনার চেষ্টা আপাতত ব্যর্থ হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এছাড়া দুই দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে দুর্নীতিবাজ নেতাদের ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত সুস্পষ্ট করে কিছুই বলা হয়নি। মূলত এ দু’টি কারণে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সৎ ও দক্ষ হিসাবে পরিচিত নেতাদের অনেকেই এখন ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য নতুন ঠিকানা খুঁজছেন। মূলত তাদের সমন্বয়েই এখন নতুন রাজনৈতিক প্লাটফরম গঠনের চেষ্টা চলছে। তবে সম্ভাব্য নতুন এই প্লাটফরমের শীর্ষ নেতৃত্বে কে থাকছেন, কার নেতৃত্বে সংগঠিত হবেন আগ্রহীরা তা এখনো পরিষ্কার নয়।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গৃহীত দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন বিরোধী নানামুখী তৎপরতার কারণে প্রথম দিকে ধারণা করা হয়েছিল যে, বাস্তব পরিস্থিতির কারণেই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব এ পর্যায়ে নিজ নিজ দলকে পারিবারিক প্রভাববলয় ও দুর্নীতিবাজদের করতলমুক্ত করার উদ্যোগ নেবেন। কিন্তু গত তিন মাসেও এমন কোন লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভাই মেজর (অব) সাঈদ এস্কান্দারকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান করার ফলে দলটিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক নেতা প্রকাশ্যেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিএনপিতে ক্লিন ইমেজধারী নেতা সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ড: ওসমান ফারুকও গতকাল একটি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাঈদ এস্কান্দারের এ নিয়োগের সমালোচনা করেছেন। এর আগে গত বুধবার রাতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম একটি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চা, দলে নতুন নেতৃত্ব তৈরীর বিষয়ে বেশ কিছু খোলামেলা কথাবার্তা বলেছিলেন। তাদের এমন মনোভাবের অর্থ হলো প্রচলিত ধারার রাজনীতির প্রতি তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। মূলত প্রচলিত রাজনীতি ও বর্তমান নেতৃত্বের ব্যাপারে যাদের মনে হতাশা ও অনেক প্রশ্ন আছে, তারাই নতুন একটি রাজনৈতিক প্লাটফরম খুঁজে পেতে আগ্রহী।

জানা যায়, সম্ভাব্য নতুন রাজনৈতিক প্লাটফরম গঠনের লক্ষ্যে আগ্রহী ব্যাক্তিরা গত কয়েকদিনে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে তারা মিলিত হয়েছিলেন একটি পাঁচতারকা হোটেলে। এর আগে কয়েক দফায় তারা বৈঠক করেন গুলশানের একটি বাড়িতে। এসব বৈঠকে মূলত বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যম পর্যায়ের কিছু নেতা উপস্থিত ছিলেন। নেপথ্য থেকে প্রক্রিয়াটিকে সমর্থন ও পরামর্শ দিয়ে চলেছেন দুই দলেরই প্রথম সারির কয়েক প্রভাবশালী নেতা। তবে সম্ভাব্য নতুন এই প্লাটফরমের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য এখনো তেমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।

সংশ্লিষ্ট অন্য একটি সূত্র জানায়, নতুন রাজনৈতিক প্লাটফরম গঠনের কথা জানতে পেরে তার সঙ্গে যুক্ত হবার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সুযোগসন্ধানী নেতারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে গিয়ে ধর্না দিচ্ছেন। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই দুর্নীতি, সন্ত্রাসে মদদদানসহ নানারকম অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে আতঙ্কিত এসব রাজনীতিক এখন নতুন পরিচয় ধারণের মাধ্যমে নিজেদের রক্ষার প্রচেষ্টায় মরিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের কেউই রক্ষা পাবে না বলে জানিয়েছেন একজন উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তিনি বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময়ই সুযোগসন্ধানীরা নিজেদের বাঁচানোর জন্য রূপ বদলানোর চেষ্টা করে থাকে। এ-পর্যায়েও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের অনেকেই আত্মরক্ষার জন্য নানামুখী দৌড়ঝাঁপ করছে। কিন্তু এবারের বাস্তবতা হলো, সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধেই আছে তাদের প্রত্যেককেই আইনী প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ধারা রোধে সৎ ও যোগ্য ব্যাক্তিদের যেকোনো প্রচেষ্টাকে সরকার সহায়তা দিতেই পারে।

অন্য একটি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেশত্যাগের ব্যাপারে যেমন কোনো চাপ দেয়া হবে না, তেমনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকেও দেশে ফেরার ব্যাপারে ন্যূনতম কোনো বাধা দেয়া হবে না। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো দুর্নীতির অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও একই রকম আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়া জরুরি অবস্থা চলাকালীন যদি তারা কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন বা রাজনৈতিক বক্তৃতা-বিবৃতি দেন তাহলে সে ব্যাপারেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে সরকার কাউকেই কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-05-05

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: