ভিআইপি দুর্নীতিবাজদের সামারি ট্রায়াল আজ শুরু

ভিআইপিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাগুলোর সংক্ষিপ্ত বিচার (সামারি ট্রায়াল) আজ রোববার থেকে সংসদ ভবনের এমপি হোস্টেলে স্থাপিত বিশেষ আদালতে শুরু হচ্ছে। সাবেক ৩ প্রতিমন্ত্রীসহ ৫ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠনের মধ্য দিয়ে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যাদের বিরুদ্ধে সামারি ট্রায়াল শুরু হচ্ছে তারা হলেন : আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, বিএনপি নেতা ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান ও তার স্ত্রী সাবেরা আমান, বিএনপি নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর নাছির উদ্দিন ও তার ছেলে ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন। এই ৫ জনের বিরুদ্ধে আজ চার্জ গঠন করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন এই ৫ জনের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে গত ২৯ এপ্রিল ঢাকার সিএমএম আদালতে পৃথক ৩টি চার্জশিট দাখিল করে। সিএমএম আদালত চার্জশিটগুলো নথিভুক্ত করে বিচারের জন্য বিশেষ আদালতে প্রেরণ করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ ১ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক মোঃ ফিরোজ আলমের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে চার্জ গঠন করা হবে। চার্জ গঠনের সময় সরকার পক্ষ ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন দুর্নীতি দমন কমিশনের নিযুক্ত বিশেষ আদালতের পিপি
আব্দুস সালাম। আর আসামি পক্ষে তাদের নিজ খরচে রাখা আইনজীবীরা মামলা পরিচালনা করবেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে, আজ শুধু একটি আদালতেই চার্জ গঠনের ওপর শুনানি হবে এবং চার্জ গঠনের পর মামলাগুলো বিচারের জন্য পাঠানো হবে অন্যান্য বিশেষ আদালতে। এমপি হোস্টেলেই সব মিলিয়ে ৫টি বিশেষ আদালত স্থাপন করা হয়েছে।

জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা অনুযায়ী বিশেষ আদালতে বিচার কাজ একটানা চলবে এবং সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে বিচার কাজ শেষ করতে হবে। বিচার চলাকালে আসামিরা কোনো জামিন পাবেন না এবং কোনো আদালতে জামিনের জন্য আবেদনও করতে পারবেন না। যে অভিযোগে সাবেক ৩ প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। আর এমন দণ্ডপ্রাপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দন্ডভোগের পর ৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ যে কোনো স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি দণ্ড থেকে মুক্তিলাভের পর ভবিষ্যতে কোনো সরকারি, আধা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো পদে অধিষ্ঠিত হতেও পারবেন না।

দুর্নীতির মামলা বিচারের জন্য ঢাকায় এখন পর্যন্ত ৫টি বিশেষ আদালত স্থাপন করা হয়েছে এবং গত ২৫ এপ্রিল সরকার এই আদালতগুলোতে বিচারক নিয়োগ করে। সারা দেশে এ ধরনের আরো ১৫টি বিশেষ আদালত স্থাপন করা হবে বলে আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ আদালতগুলোর বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারকদের।
জর”রি ক্ষমতা বিধিমালা ২০০৭ এর ১৯ক ধারা অনুযায়ী বিশেষ আদালতগুলোতে ৪৫ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করতে হবে। যদি এ সময়ের মধ্যে বিচারকাজ শেষ না হয় সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদালত সুপ্রিম কোর্ট ও সরকারকে লিখিতভাবে জানিয়ে আরো ১৫ দিন সময় বৃদ্ধি করতে পারবে এবং এ সময় অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে বিচার কাজ শেষ করতে হবে। বিধিমালার ১৯খ ধারা অনুযায়ী বিশেষ আদালতে বিচার শুরু হলে একটানা বিচারকাজ চলবে। তবে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে সর্বোচ্চ ৩ দিন পর্যন্ত বিচারকাজ মুলতবি রাখতে পারবেন।

গত ১১ জানুয়ারি দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির মধ্য দিয়ে ড. ফখর”দ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুর” করে। সেনাবাহিনীর সরাসরি সহায়তায় দেশব্যাপী শুরু হয় দুর্নীতিবিরোধী অভিযান। এই অভিযানে বিএনপি-আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী রাজনীতিকদের দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে। অভিযান এখনো চলছে। দেশব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের জন্য সেনাবাহিনী পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে এবং এই টাস্কফোর্স দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। টাস্কফোর্সের কাজ কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিনকে চেয়ারম্যান এবং সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে প্রধান সমন্বয়ক করে জাতীয় সমন্বয় কমিটি কাজ করছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন গত ১৮ ফেব্রচ্ছারি ৫০ জন দুর্নীতিবাজের তালিকা প্রকাশ করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের সম্পদের হিসাব দাখিল করার জন্য নোটিশ প্রদান করে। এই তালিকায় সাবেক এই ৩ প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন। জরুরি অবস্থা জারির দুদিন পরই মহীউদ্দীন খান আলমগীর, আমান উল্লাহ আমান, মীর নাছির উদ্দিনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করে। কারাগারে আটক থেকেই দুদকের নোটিশ পেয়ে তারা তাদের সম্পদের হিসাব দুদকে দাখিল করেন। দুদকের অনুসন্ধানে তাদের হিসাবে ব্যাপক গরমিল পাওয়া যায়। তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে ৬ মার্চ দুদক আইনের ২৬ ধারা এবং জর”রি বিধিমালা অনুযায়ী সাবেক ৩ প্রতিমন্ত্রীসহ এই ৫ জনের বিরুদ্ধেদুদক প্রথম মামলা দায়ের করে। পৃথক পৃথক তদন্ত শেষে ২৯ এপ্রিল চার্জশিট দাখিল করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে চার্জশিটে মীর নাছিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২২ লাখ ১১ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন, তার ছেলে মীর হেলালের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জন ,আমান উল্লাহ আমান ও তার স্ত্রী সাবেরা আমানের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ২৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করা এবং মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বিরুদ্ধে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের তালিকাভুক্ত ৫০ জনের মধ্যে সব মিলিয়ে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে চার্জশিট দিলেও অন্য মামলাগুলোর তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তবে দুদক সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই আরো কয়েকটি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে আর অব্যাহত গতিতে চলবে বিচার প্রক্রিয়া। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-05-06

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: