রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেন ইউনূস

মনের মতো টিম গঠনে সক্ষম হইনি : হিসাব মিলিয়ে দেখেছি জমার ঘরে খুব বেশি থাকছে না : রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেছে : আগামী ৫ বছর গুরুত্বপূর্ণ সময়, দেশের পটপরিবর্তনের সময় : এখন প্রয়োজন নতুন দল ও নেতৃত্ব সৃষ্টি : সকল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে মহাসড়ক যোগাযোগ স্থাপন ও তাদের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে মহাবন্দর স্থাপনের সময় এখন

জীর্ণ-পুরাতন ধারার বাইরে জনকল্যাণমুখী রাজনীতির নতুন ধারা সৃষ্টির স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার সেই স্বপ্ন আপাতত অপূর্ণই থেকে গেল। ড. ইউনূস বৃহস্পতিবার দেশবাসীর উদ্দেশে প্রদত্ত তার তৃতীয় খোলা চিঠিতে রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া থেকে তার সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। ড. ইউনূস নতুন দল গঠনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন বলে বেশ কিছুদিন থেকে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। গত ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি তার প্রথম খোলা চিঠিতে রাজনীতিতে যোগদান সম্পর্কে জনমত জানতে চান, ২২ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় চিঠিতে নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। ৩ মের খোলা চিঠিতে তিনি রাজনীতির অঙ্গন থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত জানান।

ড. ইউনূস তার খোলা চিঠিতে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রতিকূলতার বিষয়গুলো সহজ-সরল ভাষায় ব্যক্ত করেছেন। চিঠির মূল সুরে জড়িয়ে রয়েছে কিঞ্চিৎ ক্ষোভ, ঈষৎ অভিমান। নিজে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেও চিঠিতে আশা ও সম্ভাবনার চিত্রটি উজ্জ্বল করে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। তিনি বলেছেন, এরকম সুযোগ জাতির জীবনে বারবার আসবে না। দেশের সব মানুষ মর্মে মর্মে অনুভব করেছেন যে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, যোগ্য নেতৃত্ব ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলে দেশের মানুষের সহজাত উদ্যম আর সৃষ্টিশীলতা দিয়ে আমরা অসাধ্য সাধন করতে পারব।
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেছেন, প্রফেসর ইউনূসের মতো লোক এলে রাজনীতি সমৃদ্ধ হতো। ড. ইউনূস বলেছেন, তার পরিকল্পিত রাজনৈতিক দলের জন্য মনের মতো একটি ‘টিম’ তিনি গঠন করতে পারেননি।
ড. ইউনূস দীর্ঘদিন বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরে বুধবার প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাতের একদিন পর রাজনীতি থেকে তার সরে আসার সিদ্ধানে-র কথা জানান।
খোলা চিঠিতে ড. ইউনূস বলেন, ‘জনগণের উৎসাহে উৎসাহিত হয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টির সম্ভাবনায় উদ্দীপ্ত হয়ে তিনি রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান- নিয়েছিলেন। কিন’ সকল প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তার মনে আস্থা আসে, এরকম একটি টিম গঠন করতে তিনি সক্ষম হননি। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে তার ধারণা হচ্ছে, আরও দীর্ঘদিন অপেক্ষা করলেও এতে তিনি সফল হবেন না। কাজেই এখনই বাস-বতাকে মেনে নিয়ে এ পথে আর অগ্রসর না হওয়াই সঠিক হবে মনে করে এ প্রচেষ্টা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান- নিয়েছেন। ড. ইউনূস চিঠিতে যারা তার দল গঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, মতামত দিয়েছেন এবং উৎসাহিত করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সকলের মনে উৎসাহ জাগিয়ে এভাবে তার রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার জন্য তিনি অত্যন- দুঃখিত।’ সিদ্ধান-টি নিতে বিলম্ব করার ফলে নাগরিকদের কাছে যাতে তিনি আরও হতাশার কারণ না হন, সে জন্য দল গঠন করার আগেই এই সিদ্ধান- নিয়েছেন।
দল গঠনের প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে চার পৃষ্ঠার চিঠিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধানে- তিনি তার সারাজীবনের গড়া সব কাজ পেছনে ফেলে নতুন জীবনে প্রবেশ করতে প্রস’ত ছিলেন। দল গঠনের সর্বপ্রথম কাজ হিসেবে একটি মজবুত সাংগঠনিক টিম গঠনে হাত দিয়েছিলেন। পরিকল্পনা ছিল, ঘরোয়া রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে সেই টিমকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দল গঠনের কাজ এগিয়ে নেবেন। প্রফেসর ইউনূস চিঠিতে যারা তার দল গঠনের সঙ্কে যুক্ত হয়ে, ফ্যাক্স, চিঠি, এসএমএস পাঠিয়ে মতামত জানিয়েছেন, পত্রিকায় লেখালেখি করে সুচিনি-ত মতামত জানিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
চিঠিতে ড. ইউনূস বলেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশে প্রচণ্ড আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ারগুলো খুলে গেছে। এমন সুযোগ যে জাতির জীবনে বারবার আসবে না, সেটাও সবাই বুঝতে পেরেছেন।
ড. ইউনূস তার চিঠিতে বলেন, আমাদের সকলের সামনে একটিই স্বপ্ন ছিল- দেশে একতামুখী, সমঝোতামুখী, সহনশীল, শানি-পূর্ণ, অসাম্প্রদায়িক, দুর্বার অর্থনৈতিক উন্নয়নমুখী, শক্তিশালী স্থানীয় সরকারে বিশ্বাসী, দুর্নীতিমুক্ত একটি রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টি করা। দেশবাসীকে সংঘাত থেকে, পারস্পরিক অবিশ্বাস থেকে, হতাশা থেকে মুক্ত করে একটি কর্মমুখর আ্তবিশ্বাসী জাতিতে পরিণত করা। কোথায় যেতে হবে এটা আমাদের সবার জানা। গন-ব্য যখন জানাই আছে তখন সে গন-ব্যে পৌঁছার জন্য আমরা সর্বা্তক চেষ্টা করতে পারি- এ বিশ্বাস থেকেই আমি উদ্যোগী হয়েছিলাম।
ড. ইউনূস তার সিদ্ধান- থেকে সরে আসার কারণ সম্পর্কে বলেন, যারা আমাকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন তারা নিজেরা রাজনীতিতে আসবেন না। প্রকাশ্যে সমর্থনও দেবেন না, যেহেতু তাদের প্রত্যেকের নানারকম অসুবিধা আছে। আর যারা রাজনৈতিক দলে আছেন তারা দল ছেড়ে আসবেন না। অন-ত এখন আসবেন না। পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তখন আসবেন। আমি রোজ হিসাব মিলিয়ে দেখেছি, জমার ঘরে আমার খুব বেশি থাকছে না। তাহলে আমি জোরালো টিম বানাব কাদের নিয়ে?
তিনি বলেন, এদেশ এখন বিরাট সম্ভাবনার দ্বারপ্রানে- রয়েছে। আগামী পাঁচ বছর আমাদের জন্য বড় গুরুত্বপূর্ণ সময়। এটি দেশের পটপরিবর্তনের সময়। বড় বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান- নেয়ার এবং সে সিদ্ধান- বাস-বায়নের সময়। প্রতিবেশী দেশগুলোর মাঝখানে ভৌগোলিকভাবে আমাদের চমৎকার অবস্থানের সুযোগকে ব্যবহার করে সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে মহাসড়ক যোগাযোগ স্থাপন এবং তাদের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে মহাবন্দর স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসে দেশের অর্থনীতিতে বিরাট গতি সৃষ্টির সময়। জ্বালানি তৃষ্ণার্ত পৃথিবীতে আমরা গ্যাস ও কয়লার মতো মূল্যবান জ্বালানিসম্পদে সমৃদ্ধ। এই মূল্যবান খনিজসম্পদকে দেশের উন্নয়নের বড় রকম নিয়ামক হিসেবে গড়ে তোলার সময়। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশকে সেরা দেশে পরিণত করার সময়। আন-র্জাতিক মানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে জনসম্পদকে দক্ষ করে গড়ে তুলে দেশের জন্য এবং বিদেশের জন্য সর্বোত্তম সম্পদে পরিণত করার সময়। প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রেরিত ক্রমবর্ধমান বিপুল অর্থের উৎপাদনশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার সময়। প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিদেশ যাতায়াত আনন্দদায়ক করে তাদের মেধা ও অর্থকে দেশের উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করার সময়। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সময়। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চলার পথে জাতির এখন ‘গিয়ার’ পাল্টানোর সময় এসে গেছে। জাতির গতিময়তা এখন আরও অনেক উচ্চ পর্যায়ে উত্তরণের জন্য প্রস’ত। এখন দরকার নতুন রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্ব সৃষ্টি করা, যারা এ কাজটি সুন্দরভাবে দক্ষতার সঙ্গে করে দিতে পারবে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পটপরিবর্তনের এই কর্তব্যটি সমাধা করতে আমরা যেন ব্যর্থ না হই।
‘নাগরিক শক্তি’ গঠন প্রক্রিয়া
গত বছরের ১৩ অক্টোবর শানি-তে নোবেল পুরস্কার জয়ের ঘোষণা আসার পরপরই ড. মুহাম্মদ ইউনূস নতুন এক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তখন থেকেই দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারা সৃষ্টির জন্য তিনি বিভিন্ন বক্তব্য রেখে আসছিলেন। ১৭ জানুয়ারি ঢাকায় নিজ অফিসে বিদেশী এক সংবাদ মাধ্যমকে প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিকরা আদর্শের জন্য নয়, টাকার জন্য রাজনীতি করেন। বড় দুটি দল যেভাবে দলীয় মনোনয়ন দিচ্ছে, এটা ক্ষমতা পাওয়ার জন্য। ক্ষমতায় গিয়ে অর্থ বানানোর জন্য।’ নোবেল বিজয়ীর এসব বক্তব্য জাতীয় নেতৃবৃন্দের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ২৮ জানুয়ারি নয়াদিল্লি যাত্রাকালে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে কলুষমুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতির ভিত্তি গড়তে হবে।’ ৩১ জানুয়ারি দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন হলে রাজনীতিতে নামবেন। পরিস্থিতি যতই জটিল হোক সেজন্য ভয় পাবেন না।’ গত ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি বলেন, ‘জনগণ চাইলে তিনি রাজনৈতিক দল গঠন করবেন।’ একপর্যায়ে দেশের সর্বমহলে এ বক্তব্য নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন প্রফেসর ইউনূস। এ নিয়ে দেশের রাজনীতি ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনার ঝড় ওঠে। বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দও এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। গত ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, প্রফেসর ইউনূস কলকাতা যাত্রাকালে বিমানবন্দরে নাগরিকদের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি দেবেন। পরদিন ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতা যাত্রার প্রাক্কালে বিমানবন্দরে নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি একটি খোলা চিঠি দেন। তিনি রাজনীতি করবেন কিনা, করলে কিভাবে করবেন চিঠিতে সে ব্যাপারে জনমত জানতে চান। এ চিঠিতে তিনি নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘ব্যাপক জনসমর্থন পেলেই তিনি রাজনীতিতে নামবেন। হালকা সমর্থন পেলে অথবা সাধারণ মানুষ নিমরাজিভাবে রাজি হলে তিনি রাজনীতিতে আসতে চান না।’
১৮ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তার দলের নাম ‘নাগরিক শক্তি’ রাখতে আগ্রহী বলে জানান। পরবর্তী সময়ে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করার পর যখন রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ ঠিক সেই পরিবেশে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাত্রার প্রাক্কালে জিয়া আন-র্জাতিক বিমানবন্দরে ২২ ফেব্রুয়ারি নাগরিকদের উদ্দেশে লেখা দ্বিতীয় চিঠিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজনীতি করার ঘোষণা দেন। দলের নাম ঘোষণা করেন ‘নাগরিক শক্তি’। মূল শ্লোগান গ্রহণ করা হয়- ‘বাংলাদেশ এগিয়ে চলো’। আর মূলমন্ত্র হচ্ছে- ‘আমরাও পারি’।
প্রতিক্রিয়া
আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন- দুঃখিত। প্রফেসর ইউনূসের মতো লোকের রাজনীতিতে প্রয়োজন ছিল। তিনি এলে খুশি হতেন। দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল বলেছেন, তারা আগেই বলেছিলেন ড. ইউনূস যে প্রক্রিয়ায় দল গঠন করছেন এভাবে কোন দল গঠন করা যায় না। প্রফেসর ইউনূসকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ড. ইউনূস অনুভব করতে পেরেছেন রাজনীতির ক্ষেত্র এবং জীবনের অন্য সব ক্ষেত্র এক নয়। তাই তিনি সরে দাঁড়ালেন।
বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক বলেছেন, ড. ইউনূস রাজনীতিতে থাকলে ভালো হতো। তার মতো মেধাবী ব্যক্তিত্ব রাজনীতিতে থাকা প্রয়োজন ছিল। প্রফেসর ইউনূস রাজনীতিতে থাকলে রাজনীতির পরিবেশ আরও উন্নত হতো। রাজনীতিতে না থাকলেও রাজনীতির প্রতি তার অনুরাগ থাকবে বলে ড. ওসমান আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ড. ইউনূসের মতো ব্যক্তিত্ব যার জাতীয় ও আন-র্জাতিক স্বীকৃতি রয়েছে, তিনি যদি রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারতেন তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতি নিঃসন্দেহে সমৃদ্ধ হতে পারত।
বিএনপির অন্যতম সহ-সভাপতি এমকে আনোয়ার এ প্রসঙ্গে যুগান-রকে বলেন, ড. ইউনূস রাজনীতিতে থাকলে ভালো হতো। তার মতো একজন বিজ্ঞ ও আন-র্জাতিক পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তির অংশগ্রহণে রাজনীতি আরও সমৃদ্ধ হতো। তবে ইচ্ছা করলেই সবাই সবকিছু করতে পারে না। ড. ইউনূস এটা বুঝতে পেরে রাজনীতি না করার ঘোষণা দেয়ার মাধ্যমে প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে একজন সফল ব্যক্তির মাঝপথে কিছুতেই ব্যর্থতার কালিমা লাগতে পারে না। তার এ সিদ্ধান- ব্যর্থ হওয়ার আশংকাকে মুছে দিয়েছে। তবে রাজনীতি না করলেও তিনি বাইরে থেকে দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শের মাধ্যমে রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারেন। Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-05-04

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: