সদরঘাটে লঞ্চ শ্রমিক ও আনসারের বর্বর হামলা।। ৪টি লাশ উদ্ধার

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সদরঘাটে লঞ্চ শ্রমিকদের হামলা এবং বুড়িগঙ্গা নদীবক্ষে নিক্ষিপ্ত নৌবিহার ফেরত চার তরুণের লাশ উদ্ধার করেছে ডুবুরীরা। লালবাগের জাবেদ ও সূত্রাপুরের শান্তর পরিচয় মিললেও দুইজন অজ্ঞাত। বর্বরোচিত এই হামলায় আহত হয়েছে শতাধিক। নারী-শিশু, ব্যান্ড গ্রুপের পাঁচ সদস্যসহ বহু নিখোঁজ রয়েছে। ডুবুরীরা আরো লাশের সন্ধানে নদীর তলদেশে তল্লাশি অভিযান চালা”েছ। মধ্যরাত সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় সদরঘাট টার্মিনালের সমুখে গভীর নদীতে ডুবুরীদের অভিযান চলছিল। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে সেখানে পুরনো ঢাকার বিপুল মানুষ ভিড় জমিয়ে অপেক্ষা করছিল। পূর্বাহ্ণ সাড়ে ১১টায় এমভি নিউসান-৪ নামে একটি লঞ্চ ভাড়া নিয়ে পুরনো ঢাকার দুই-আড়াইশ’ জন তরুণ-যুবক-নারী-শিশু মেঘনায় নৌবিহারে যায়। সঙ্গে লাভটাচ্‌ নামে একটি ব্যান্ডসঙ্গীত গ্রুপকেও তারা ভাড়া করে নিয়ে যায়। দুপুরের খাবার খাওয়ার পর লঞ্চের ডেকে গান-বাজনার আয়োজন করা হয়। এ সময় আনন্দ-উ”ছ্বাসের সময় কয়েকজন তরুণের সঙ্গে লঞ্চের শ্রমিক-কর্মচারি ও আনসারদের বাকবিতণ্ডা-হাতাহাতি এবং মারধরের ঘটনা ঘটে।

রাত ৮টায় লঞ্চটি মেঘনা পরিভ্রমণ শেষে সদরঘাটে পৌঁছলে শ্রমিকরা হাঁকডাক করে আরো শ্রমিক-কর্মচারিদের ডাকতে থাকে। এ সময় সরদঘাটের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক, কুলি, আনসার, কর্মচারীরা একজোট হয়ে লাঠিসোঁটা, রড, হকিষ্টিক, ছোরা-চাকু নিয়ে এমভি নিউসান-৪-এ উঠে পড়ে। অতঃপর নির্বিচারে সহিংস হামলা চালায় নৌবিহার ফেরত তরুণ-তরুণীদের ওপর। মারধর করে অনেককে নদীবক্ষে নিক্ষেপ করে। অনেকে ভয়ে আতংকে প্রাণরক্ষার জন্য ঝাঁপ দেয় নদীতে। লঞ্চে নৌবিহার ফেরত লোকজনের ওপর বর্বরোচিত এই হামলার সময় তাদের চিৎকার, বাঁচার আকুতি, নারী-শিশুদের কান্নার রোল দেখে নদীতে চলাচলকারী নৌকার মাঝিরা এগিয়ে এলেও তাদের নৌকা ডুবিয়ে দেয় লঞ্চ শ্রমিকরা। যারা লঞ্চ থেকে দৌড়ে নামতে পেরেছে তাদেরকে ঘাট টার্মিনালে পিটিয়েছে সংঘবদ্ধ শ্রমিকচক্রের সদস্যরা। তারা যাত্রীদের টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোনসহ সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। নৌবিহারে গমনকারীদের সবাই ধোলাইখাল, রায়সাহেব বাজার, নয়াবাজার, সুত্রাপুর, বনগ্রাম, লালবাগ, লক্ষ্মীবাজার, তাঁতীবাজারসহ পুরানো ঢাকার বাসিন্দা। তারা অধিকাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ছাত্র।

জানা গেছে, ধোলাই খালের পার্টস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জামিলের তত্ত্বাবধানে দুই-আড়াইশম্ব’ তরুণ-তরুণী ও শিশু ৩০০ টাকা মূল্যের টিকিট কেটে নৌ-বিহারে যায়। গত তিন মাস ধরে জামিল পুরানো ঢাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে নৌবিহারের জন্য লোক সংগ্রহ করে। এতে লটারী, ব্যান্ড সঙ্গীতসহ নানা বিনোদনের আয়োজন রাখা হয়। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় বড় আকারের লঞ্চটিতে করে সদরঘাট টার্মিনাল থেকে মেঘনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা হয়। রহমতগঞ্জ ঘাট থেকেও বেশ কিছু যাত্রী লঞ্চে আরোহণ করে।

লঞ্চটি মেঘনাবক্ষে গিয়ে বিনোদনের আয়োজন করে। মধ্যবিরতিতে দুপুরের খাবার খায় যাত্রীরা। অতঃপর গান-বাজনা নৃত্য লটারীসহ বিনোদন চলে। একটি সূত্র জানায়, এক পর্যায়ে কয়েকজন তরুণ মদ্যপ হয়ে ঝগড়া-ঝাটি শুরু করে। তাদের সামাল দিতে লঞ্চ কর্মচারী ও আনসাররা এগিয়ে এলে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে তরুণদের চ্যালেঞ্জ পাল্টা চ্যালেঞ্জের ঘটনা ঘটে। তারই ধারাবাহিকতায় সদরঘাট টার্মিনালে লঞ্চটি ভিড়লে এই সহিংসতা ঘটে। এ ব্যাপারে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ৪টি লাশ ময়না তদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। রাতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস’ল পরিদর্শন করেন।

নিহতদের মধ্যে জাভেদ পুরানো ঢাকার চুড়ি ব্যবসায়ী। নিখোঁজ নৃত্য ও সঙ্গীত শিল্পীদের মধ্যে আছে নূপুর, শিল্পী, সুমী, আশা, প্রিয়তোষ মণ্ডল, বাবু, সূচনা আক্তার, রুমা। পুলিশ নৌবিহারের আয়োজক জামিলকে খুঁজছে। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-05-05

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: