৯ জনের লাশ উদ্ধার ।। বুড়িগঙ্গার তীরে শোকের মাতম

বুড়িগঙ্গা নদীতে এমভি নিউসান-৪-এর শ্রমিক-কর্মচারি ও পিকনিক পার্টির সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল শনিবার আরো পাঁচ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে উদ্ধারকৃত লাশের সংখ্যা দাঁড়ালো নয়। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা সদরঘাট ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশ থেকে আট ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। বিকাল পাঁচটায় নৌ টহল পুলিশ পোস্তগোলা চীন মৈত্রী সেতুর কাছ থেকে ভাসমান অবস্থায় শহিদুল ইসলাম (২৫) নামে আরো এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে। নিহতের পিতা আজাহার আলী পুত্রের লাশ সনাক্ত করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি জানান, শহিদুল রাজধানীর একটি নার্সারিতে চাকরি করতো। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে বাড়িতে না জানিয়ে পিকনিকে গিয়েছিলো। পরে বন্ধুদের মুখে খবর শুনে তিনি সকাল থেকে ছেলের খোঁজে বের হন। ‘লাভ টার্চের’ নৃত্য শিল্পী সুলতানার (১৪) ও রেহানা পারভিনের লাশও উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো এই সংগঠনের সুমি (১৮), আশা (১৫), সূচনাসহ (১৪) মোট পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছে। শনিবার পর্যন্ত যাদের লাশ পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে আছে সুত্রাপুরের ২৮/৮, কেএম দাস লেনের প্রিয় দাস মন্ডল (১৮), ১৯, নাসির উদ্দিন সরদার লেনের শান্ত (১৮), লালবাগ প্রথম লেনের জাভেদ (২৪)। জাভেদের পিতা আনোয়ার হোসেন জানান, ছেলের চক বাজারে চুড়ির ব্যবসা ছিল। ব্যবসায়ের আয়ে চলতো পাঁচ সদস্যের পরিবার। অন্যান্যের মধ্যে নারিন্দার ৩৫, বজ্রহরি সাহা ষ্ট্রিটের শাহিন (২১), একই ষ্ট্রিটের ২৮/১, ঠিকানার এখলাস উদ্দিন (২২), ১৩সি, অরফানেজ রোড লালবাগের গনেশ রাজভরের (২২) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ১০১, যোগী নগরের বাসিন্দা মৃত রেহানা পারভিনের পিতা আবু সাইদ জানান, তার মেয়ে নাচ-গান শিখতো। শুক্রবার বান্ধবীদের সাথে পিকনিকে গিয়েছিল। ফিরে এলো লাশ হয়ে।

শনিবার বিকেলে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ও মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়ে শত শত মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নিখোঁজদের সন্ধানে আত্মীয়-স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় জমান। অনেকেই পুলিশ ও ডুবুরীদের পাশাপাশি নৌকা ও ট্রলারযোগে বুড়িগঙ্গা চষে বেড়ান। তাদের অনুসন্ধানী চোখ বুড়িগঙ্গার প্রতিটি ঢেউয়ের মাঝে খুঁজে ফেরে স্বজনের লাশ। সদরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আলী আজম জানান, গতরাত থেকে অনেকেই নিখোঁজদের সন্ধানে ফাঁড়িতে ভিড় করছেন। নিখোঁজ পাঁচ বছরের শিশু হৃদয়ের লাশটি গতকাল পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুরনো ঢাকার বাসাবাড়ি লেনের বাসিন্দা মমতাজ বেগম পুত্রশোকে পাগলপ্রায়। কাতর মা শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সারাদিন নদীর পাড় ধরে সন্তানের লাশ খুঁজে ফিরছিলেন। হতভাগী মায়ের কান্নায় বুড়িগঙ্গার পাড়ের বাতাস ভারী হয়ে উঠে। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ নাজমুল হোসাইন জানান, সন্ধ্যা ৬টা থেকে ডুবুরীরা উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত করেছে। তবে পুলিশের একাধিক রিভার পার্টি লাশ অনুসন্ধানের কাজ অব্যাহত রাখবে।

ঢাকা জেলা প্রশাসক মোঃ হানিফ জানান, ত্রিমুখী সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনার সৃষ্টি হয়। তবে তদন্তের কাজ চলছে। এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থার কর্মকর্তা আবুল হোসেন দাবি করেন, পিকনিক পার্টির বিবদমান দুইটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ থামাতে গেলে তা ত্রিমুখী রূপ ধারণ করে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত দোষী আনসারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। আটক করা যায়নি পিকনিকের মূল উদ্যোক্তা জামিল ও পংকজকে। কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সামিউল আলম জানিয়েছেন সুত্রাপুর কেএমদাস লেনের বাসিন্দা সঞ্চিতা রাণী আচার্য বাদি হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যেই তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়েছে। Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-05-06

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: