কলকাতায় ৩টি ফ্ল্যাট ব্যাংকে ১০ কোটি রুপি রয়েছে সন্ত্রাসী জয়ের

কলকাতায় ৩টি ফ্ল্যাট রয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীরুল ইসলাম জয়ের। রয়েছে ১০ কোটি রুপি কয়েকটি ব্যাংকে, আরো আছে একটি দোকান। ভারতের গোয়েন্দাদের কাছে এসব তথ্য দিয়েছে জয় নিজেই। একই সময় সে নিজের পরিচয়ও স্বীকার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের সিআইডির ডিআইজি রাজুকুমার গতকাল এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীরুল ইসলাম জয় গত শনিবার দুপুরে কলকাতায় ভারতীয় সিআইডি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আন্ডারওয়ার্ল্ডে তোলপাড় চলছে। ভারতে আত্মগোপন করে থাকা সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে স্থান বদল করেছে।

ঢাকায় নানাভাবে তৎপর জয়ের সহযোগীরা ঘাপটি মেরেছে। বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (সিআইডি) ফনী ভূষণ চৌধুরী গতকাল সোমবার ভোরের কাগজকে বলেছেন, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জয়কে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। তবে ভারত সরকরের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু জানানো হয়নি। স্বরাষ্ট্র সচিব আব্দুল করিম এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আইজিপি নুর মোহাম্মদ বলেছেন, জয়কে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আইনগত জটিলতা রয়েছে। সেটা মিটে গেলেই তাকে ফিরিয়ে আনা হবে। আইনগত জটিলতা নিরসনের চেষ্টা চলছে। তবে কতোদিন নাগাদ তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা লাগবে। তবে তাকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং ফিরিয়ে আনা হবে। র‌্যাবের মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছেন, জয়কে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে ক্ষমতার অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ স্থান বনানীর হাওয়া ভবন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ছিল জয়ের নিয়মিত যোগাযোগ। কলকাতায় অবস্থান করলেও নিজের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ঢাকার ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় কখনো থেমে থাকেনি। কলকাতার কস্তরী রেস্টুরেন্টে সবসময় বাঙালিদের মিলনমেলা বসে। দেশী খাবারের স্বাদ নিতে বাঙালিরা ছুটে যান সেখানে। ভারতে আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীরাও সেখানে প্রায় সময় জড়ো হয়। জোট সরকার ও হাওয়া ভবনের অনেক হর্তাকর্তাই সেখানে জয়ের সঙ্গে দুপুর ও রাতের খাবার সেরেছেন, জয়ের আতিথ্য গ্রহণ করেছেন বলে জানা যায়। ভারত ছাড়াও মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে ঘুরে বেড়ানো জয় মোবাইল ফোনে নিয়ন্ত্রণ করতো ঢাকার অপরাধ জগৎ। ক্যাডাররা সীমান্ত পথে কলকাতায় গিয়ে তার সঙ্গে বৈঠক করতো, চাঁদার টাকা দিয়ে আসতো।

সূত্র জানায়, বন্দী বিনিময় চুক্তি না থাকার কারণে জয়কে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে নানা জটিলতা রয়েছে। এর আগে অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমান কলকাতার বনগ্রামে বিএসএফ- এর হাতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পরও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। কলকাতার আদালত থেকে আরমান জামিনে মুক্তিলাভের পর গোপনে ঢাকায় এলে র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। ২০০১ সালের ২৭ ডিসেম্বর সরকার ২৩ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করলে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দেয়। কিন্তু’ তৎপর থাকে জয়। ব্যবসায়ী ও ট্রাভেল এজেন্সির মালিকদের টার্গেট করে মিশনে নামে জয়ের ক্যাডাররা। বিদেশে আত্মগোপনে থাকা জয় মোবাইল ফোনে কখনো ফোন করে আবার কখনো এসএমএস করে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। জয়ের তৎপরতায় শুধু দেশে নয় বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ক্যাডাররা ঐ ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে অথবা ব্যবসায়ীকে গুলি করে হতাহত করে থাকে। এতে ব্যবসায়ী মহলে জয়ের নাম মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। ২৩ সন্ত্রাসীর মধ্যে পিচ্চি হেলাল কারাবন্দী থাকলেও অনেকেই সীমান্ত পথে বিদেশে পাড়ি জমায়। র‌্যাব ও পুলিশের হাতে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হয় ৯ শীর্ষ সন্ত্রাসী। র‌্যাবের ক্রসফায়ারে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হান্নান ও গণপিটুনিতে আলাউদ্দিন নিহত হয়। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অনেকেই কারাগারে বসেই অপরাধ জগতের কলকাঠি নাড়া শুর” করে। তারা চিরকুট ও ক্যাডার পাঠিয়ে চাঁদা দাবি করে। কিন’ জয় হয়ে ওঠে বেপরোয়া। ধানমণ্ডি, গুলশান, বনানী, মতিঝিল এলাকার ব্যবসায়ীরা গোপনে র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জয়ের তৎপরতার ব্যাপারে বারবার নালিশ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। এ অবস্থায় অনেক ব্যবসায়ী কলকাতায় গিয়ে সরাসরি জয়ের সঙ্গে দেখা করে সমাঝোতা করেছেন।

সূত্র আরো জানায়, পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী প্রকাশ, মোল্লা মাসুদ, হারেছ আহম্মেদ, জাব্বার মুন্না, সুব্রত বাইন, ইমাম হোসেন, ইমন, হান্নানসহ কয়েকজন ভারতে আত্মগোপন করে আছে। যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছে অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী টোকাই সাগর। কালা জাহাঙ্গীরের অবস্থান নিয়ে রয়েছে নানা বিভ্রান্তি।

একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়নি। ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর চেয়ে আরো অনেক ভয়ানক সন্ত্রাসী এখন তৎপর রয়েছে। এদের অনেকেই ২৩ সন্ত্রাসীর আশীর্বাদপুষ্ট। নতুন করে সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-05-08

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: