তিনি হারিছ চৌধুরীরই স্ত্রী

জোসনেআরা চৌধুরীই হারিছ চৌধুরীর স্ত্রী। তিনিই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল হাইকোর্টে রিট করেছেন। রিট আবেদনে জোসনেআরা চৌধুরী ঢাকার যে ঠিকানা ব্যবহার করেছেন, সেটিই এর প্রমাণ বহন করে। ঢাকার বিজয়নগরের ৬২ নম্বর ভবনে তার ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আশা কার ভিশন’-এর কার্যালয়। বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থার কাছ থেকে ভবনের নিচতলা তিনি এই প্রতিষ্ঠানের নামে ভাড়া নিয়েছেন। তবে অফিসে তিনি কোনো দিন আসেননি। গত ৩ মাস ধরে অফিস পুরোপুরি বন্ধ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল আদালতে রিট দায়ের করার পরই আলোচনায় আসেন জোসনেআরা চৌধুরী। তার প্রকৃত পরিচয় নিয়েও বিভ্রান্তি দেখা দেয়। বিশেষ করে বাদী হিসেবে তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা নিয়ে। স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া হয়েছে টাঙ্গাইলের বাশাইল উপজেলার কামুটিয়া গ্রাম আর বর্তমান ঠিকানা ৬২ বিজয়নগর, ঢাকা। পেশায় ব্যবসায়ী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর স্ত্রীর নাম জোসনেআরা চৌধুরী। স্থায়ী ঠিকানা সিলেট। ঢাকার গুলশান ২ নম্বরের ৬০ নম্বর সড়কের ৫৩ নম্বর বাড়িতে থাকেন। কিন্তু আদালতে দায়ের করা রিটে দুটি ঠিকানার কোনোটিই ব্যবহার করেননি। এ নিয়েই বিভ্রান্তি শুরু হয়। এই জোসনেআরা হারিছ চৌধুরীর স্ত্রী না অন্য কোনো মহিলা, ভোরের কাগজের অনুসন্ধানে তা বেরিয়ে এসেছে- ঢাকার বিজয়নগরের ঠিকানার জোসনেআরা চৌধুরীই হারিছ চৌধুরীর স্ত্রী। ২০০৩ সালে তিনি বিজয়নগরের বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থার নিচতলা ভাড়া নেন। গাড়ির ব্যবসার জন্য ২৫ হাজার ৩০০ টাকার মাসিক ভাড়ায় তিনি মেসার্স আশা কার ভিশনের নামে ভাড়া নিয়েছেন। তবে তিনি কোনো দিন অফিসে আসেননি। তার স্বামী মোঃ আবুল হারিছ চৌধুরী তখন বধির সংস্থার সভাপতি ছিলেন। এজন্য এতো অল্প টাকায় ভাড়া নিতে পেরেছেন। ভাড়া নেওয়ার পরই তিনি শর্ত ভঙ্গ করে নিজের ইচ্ছামতো দোকানের প্লট করে ভাড়া দিয়েছেন। নিজের অফিস ছাড়া আরো ১১টি দোকান করেছেন। অথচ ভাড়া নেওয়ার সময় শর্ত ছিল কোনো প্রকার সাবলেট দিতে পারবেন না বধির সংস্থার অনুমতি ছাড়া।

কোনো কক্ষ বা দোকানের প্লট তৈরি করতে পারবেন না। এই ১১টি দোকান থেকেই আশা কার ভিশনের নামে হারিছ চৌধুরীর ছোট ভাই সেলিম চৌধুরী মাসে ৯৫ হাজার টাকা ভাড়া তুলতেন। এ নিয়ে বধির সংস্থা কিছু বলতে পারেনি। কারণ জোসনেআরা চৌধুরীর স্বামী হারিছ চৌধুরী ছিলেন বধির সংস্থার সভাপতি। ১৯৯৯ সালে তিনি প্রথম এই সংস্থার সভাপতি হন। এরপর ২০০২ সাল ও ২০০৫ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন। দ্বিতীয়বার সভাপতি হওয়ার পরই তিনি স্ত্রীর নামে ভবনের নিচতলা নামমূল্যে ৪ বছরের জন্য ভাড়া দেন। তৃতীয়বার সভাপতি হওয়ার পর ১০ বছরের জন্য ভাড়া দেন। তখনো কেউ কোনো প্রতিবাদ করতে পারেননি। হারিছ চৌধুরী বা তার স্ত্রী জোসনেআরা কোনোদিন অফিসে বসেননি। মার্কেটের কেউ হারিছ চৌধুরীর স্ত্রীর চেহারাও দেখেননি। অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার পরও বধির সংস্থা নীরব ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর বধির সংস্থা জোসনেআরার সঙ্গে নিচতলা ভাড়ার চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেয়। এ নিয়ে তাকে চিঠিও দেওয়া হয়।
কিন্তু চুক্তিপত্রে জোসনেআরা চৌধুরীর ঠিকানায় কাউকে পাওয়া যায়নি। এরপর বিশেষ ক্ষমতায় চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। গত ৩ মাস ধরে দোকানদারদের কাছ থেকে বধির সংস্থা সরাসরি ভাড়া নিচ্ছে। এতে জোসনেআরা চৌধুরীর অফিস ছাড়াই বধির সংস্থা বাকি ১১টি দোকান থেকে মাসে ৯৫ হাজার ৩০০ টাকা ভাড়া পাচ্ছে।

Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-05-08

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: