খালেদা কেন অবাধে চলাফেরা করতে পারছেন না জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট তিন দিনের মধ্যে টেলিফোন সংযোগ প্রদানের নির্দেশ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবাধে চলাফেরা করতে দেয়া হবে না কেন, চার সপ্তাহের মধ্যে তার কারণ দেখাতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে না দেয়া এবং টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা কেন অবৈধ ঘোষণা হবে না তার কারণ দেখাতে সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
একই আদেশে আগে কোন বকেয়া না থাকলে তিনদিনের মধ্যে খালেদা জিয়ার বাড়িতে টেলিফোনের সংযোগ দেয়ার জন্য টেলিযোগাযোগ সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান ও বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আদেশ দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার এ আবেদন করেছিলেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আবদুল ওয়াদুদ খন্দকার।
স্বরাষ্ট্র সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, টেলিযোগাযোগ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, সেনানিবাস বোর্ডের প্রধান নির্বাহীসহ মোট আটজনের প্রতি এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সোমবার সকালে শুনানিতে ওয়াদুদ খন্দকার বলেন, সরকার কোন নাগরিকের চলাচলে বাধা দিতে পারে না। আদালত এ পর্যায়ে জানতে চান, তাকে কে বাধা দিচ্ছে। সেনানিবাস এলাকায় থাকলে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। এ সময় ওয়াদুদ বলেন, সাদা পোশাকের লোক খালেদা জিয়ার চলাচলে বাধা দিচ্ছে।
এ পর্যায়ে আদালত জানতে চান, সেনানিবাস এলাকা নিয়ন্ত্রণের জন্য তাদের নিজস্ব ব্যবস্থা আছে, এখানে অন্যরা বাধা দেয় কীভাবে? আদালত আরও জানতে চান, আবদুল ওয়াদুদ খন্দকারের আছে কিনা? ‘আপনি কি তার আ্তীয়? তার সঙ্গে কি দেখা করতে গিয়েছিলেন?’
জবাবে ওয়াদুদ বলেন, অনেকবার টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। একই বিষয়ে হাইকোর্টে আরও একটি মামলা বিচারাধীন থাকায় এ মামলাটি চলতে পারে কিনা জানতে চান আদালত। অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, একই বিষয়ে দুটি মামলা চলতে পারে না।
খালেদা জিয়ার চলাচলে সরকার বাধা দিচ্ছে- এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, আর একটি মামলায় তারা লিখিতভাবে একথা জানিয়েছেন। এরপর খালেদা জিয়া তার ভাইয়ের বাসায় গিয়েছেন।
সোমবার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের উল্লেখ করে দুই আইনজীবীকে খালেদার সঙ্গে কেন দেখা করতে দেয়া হয়নি আদালত জানতে চাইলে অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল বলেন, এ ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে তার কিছু জানা নেই। এ সময় তিনি নিজে কথা বলার জন্য ওয়াদুদ খন্দকারের কাছ থেকে খালেদা জিয়ার টেলিফোন নম্বর চান।
খালেদা ক্যান্টনমেন্টের বাইরে বাসা নিলে বিধিনিষেধ থাকবে না : অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল
সুপ্রিমকোর্ট রিপোর্টার জানান, অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মোঃ সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাধীনভাবে চলাচলে সরকারের পক্ষ থেকে কোন বাধা নেই। তিনি আ্তীয়-স্বজনের বাসাসহ বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন। তবে ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে বাসায় থাকেন বলে ক্যান্টনমেন্টের কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। এই নিয়মকানুন মেনেই বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসায় থাকতে হবে।
সোমবার সকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন সম্পর্কে রিটের শুনানিকালে তিনি একথা বলেন। আদালতে বক্তৃতাকালে অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল সালাহউদ্দিন আহমেদ বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা পরিবর্তন করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ক্যান্টনমেন্টের বাইরে বাসা নিলে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি এসব বিধিনিষেধ থাকবে না।
বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান ও বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চে রিটের ওপর শুনানিকালে অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল বলেন, যে টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ রয়েছে তার কোন সুনির্দিষ্ট নম্বর উল্লেখ করা হয়নি। ওই ফোনের বিল পরিশোধ করা আছে কিনা তাও জানি না। কারা, কখন এবং কোথায় বেগম খালেদা জিয়ার চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে আবেদনপত্রে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি। তিনি আরও বলেন, একই বিষয়ে ইতিপূর্বে হাইকোর্টে একটি আবেদনপত্র দাখিল করা হয়েছে। সেটি এখনও বিচারাধীন।
আবেদনকারী অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ খন্দকার বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়ার সাধারণ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাকে কোন জাতীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেয়া হচ্ছে না। তার বাসার টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।
আদালত এ পর্যায়ে আইনজীবীর কাছে জানতে চান, কে বেগম খালেদা জিয়ার চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। কখন করছে, কারা বাধা দিচ্ছে- এ ব্যাপারে আবেদনে সুস্পষ্টভাবে কিছুই নেই। আদালত আইনজীবীর কাছে বেগম জিয়ার বিচ্ছিন্ন করা টেলিফোন নম্বর জানতে চান। আদালত বলেন, আবেদনপত্রে এটা উল্লেখ থাকতে হবে।
আদালত আরও বলেন, সেনানিবাস এলাকা নিয়ন্ত্রণের জন্য তাদের নিজস্ব ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে অন্যরা বাধা দেয় কিভাবে? আদালতের এই বক্তব্যের জবাবে আবদুল ওয়াদুদ খন্দকার বলেন, সাদা পোশাকের লোক বেগম জিয়াকে চলাচলে বাধা দিচ্ছে।

Source:দৈনিক যুগান্তর
Date:2007-05-08

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: