ছবিযুক্ত ভোটার তালিকার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ইসি

বিদ্যমান তালিকাকে হালনাগাদ করে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সম্ভাব্য জটিলতার আশংকায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি নতুন তালিকা করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। কমিশনের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে এ আভাস পাওয়া গেছে। কিন্তু আদালতের রায় অনুযায়ী ২০০০ সালের তালিকাকে ভিত্তি ধরে ভোটার তালিকা হালনাগাদের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যেহেতু বিদ্যমান আইনে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকার কোন বিধান নেই সেক্ষেত্রে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা করার জন্য আইন প্রণয়ন করে সে বাধ্যবাধকতা এড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করছে কমিশন। এক্ষেত্রে অন্যান্য আইনগত দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে ভোটার তালিকা শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ১৮ মাস সময় গণনা শুরু হলেও কমিশন এখনো এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোন বৈঠক করেনি। ভোটার তালিকা তৈরির কাজে অভিজ্ঞ ইসির কর্মকর্তারা আশংকা করছেন, এর ফলে মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু হলে কমিশনের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কমিশন এবং সচিবালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, ছবিযুক্ত ভোটার তালিকার জন্য আইন পরিবর্তন করা হলে তখন ২০০০ সালের তালিকাকে ভিত্তি ধরে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার আদালতের রায় আর কার্যকর থাকবে না। কেননা সে রায় একটি নির্দিষ্ট সময়ে ও প্রেক্ষাপটে দেয়া হয়েছে। নতুন আইন প্রণীত হলে সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। উল্লেখ্য, বিদ্যমান ভোটার তালিকা অধ্যাদেশ ও বিধিমালায় ছবিযুক্ত ভোটার তালিকার কোন বিধান নেই। এছাড়া ছবিসহ তালিকা করতে হলে এ সংক্রান্ত ফরমগুলো পরিবর্তন করতে হবে। এর আগে কমিশন জানিয়েছিল, মে মাসের শেষে একটি শহর ও একটি গ্রাম এলাকায় ভোটার তালিকার পাইলট প্রকল্প শুরু করতে চাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) এম শাখাওয়াত হোসেন তার আগেই আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান। নির্বাচন কমিশন সচিব এম হুমায়ুন কবির জানান, আইনগতভাবে মাঠ পর্যায়ের কাজ যখন শুরু হবে তখনই আইন সংশোধনের প্রয়োজন হবে। এছাড়া গত ২৭ মার্চে ২০০৬ সালের ভোটার তালিকাকে বাতিল করে আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার যে নির্দেশ হাইকোর্ট দিয়েছিল তাতে এ বিষয়ে কিছুটা নমনীয়তা আছে বলে কমিশন মনে করে। সেটা হচ্ছে রায়ে আদালত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সর্বাধিক ত্রুটিমুক্ত এবং সন্দেহমুক্ত ভোটার তালিকা করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল। তবে এ বিষয়ে এখনো কমিশনের স্পষ্ট কোন ধারণা নেই। কেননা আদালতের রায়ের কপি কমিশন এখনো হাতে পায়নি। ফলে এ বিষয়ে এখনো কমিশন কিছু বলতে রাজি নয়। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. এম জহির এ বিষয়ে বলেন, কমিশন যেহেতু ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা করবে তাই আইন পরিবর্তন করুক আর না করুক নতুন তালিকা করলে তাতে আদালতের রায় কোন সমস্যা হবে না।

এদিকে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা করার লক্ষ্যে কমিশন প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। গত ৩০ এপ্রিল থেকে প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির জন্য পরামর্র্শকরা কাজ শুরু করেছেন। শুরু হয়েছে ১৮ মাসের সময় গণনা। কিন্তু এখনো এর সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের বিশেষ করে জেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কোন সংযোগ নেই। নির্বাচনী বিভাগ ময়মনসিংহের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুই কমিশনারের বৈঠক ছাড়া সারাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোন বৈঠক করা হয়নি। এম এ আজিজ কমিশন কেন ভোটার তালিকা তৈরির কাজে সফল হয়নি, এখন কিভাবে এগুলে সফল হবে সে বিষয়েও কোন কাজ করেনি কমিশন। ফলে মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু হলে কমিশন আবারও জটিলতায় পড়তে পারে বলে অনেকের আশংকা। তাদের মতে, এবার ভোটার তালিকা হবে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে। ভোটার হওয়ার জন্য ভোটারদের ছবি তুলতে হবে। তাই যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে এখন থেকে তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ দরকার বলে তারা মনে করছেন।

Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-05-07

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: